E-Paper

স্কুল পরিচালন সমিতি ভেঙে দেওয়ায় সঙ্কটে অস্থায়ীদের বেতন

দীর্ঘদিন ধরে স্কুলে শিক্ষক নিয়োগ না হওয়ায় বহু স্কুলই আংশিক সময়ের শিক্ষকদের উপরে নির্ভরশীল।তাঁদের বেতন বন্ধ হলে তাঁরা স্কুলে পড়াতে আগ্রহী থাকবেন কেন?

আর্যভট্ট খান

শেষ আপডেট: ১৮ মে ২০২৬ ০৮:৩৭

—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

স্কুলের পরিচালন সমিতি ভেঙে দেওয়ার নির্দেশ জারি করেছে শিক্ষা দফতর। সেখানে বলা হয়েছে, শিক্ষা দফতর মনোনীত বর্তমান সভাপতি এবং শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিদের নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে। প্রধান শিক্ষকদের একাংশের অভিযোগ, এর পরেই স্কুলগুলিতে তৈরি হয়েছে নতুনসঙ্কট। তাঁদের প্রশ্ন, যদি দ্রুত পরিচালন সমিতি তৈরি না হয়, তা হলে অস্থায়ী কর্মী এবং আংশিক সময়ের শিক্ষকদের বেতন বন্ধ হয়ে যাবে।

দীর্ঘদিন ধরে স্কুলে শিক্ষক নিয়োগ না হওয়ায় বহু স্কুলই আংশিক সময়ের শিক্ষকদের উপরে নির্ভরশীল।তাঁদের বেতন বন্ধ হলে তাঁরা স্কুলে পড়াতে আগ্রহী থাকবেন কেন? ফলে স্কুলের পঠনপাঠনে বড় সমস্যা তৈরি হবে বলে মনে করছেন শিক্ষকেরা। তাঁদের মতে, এই সমস্যাটা জেলায় বেশি হবে। কারণ জেলারবহু স্কুলে স্থায়ী শিক্ষক নেই। সেখানে ভরসা অস্থায়ী শিক্ষকেরাই। তাঁদের বেতন বন্ধ হয়ে গেলে স্কুল চলবে কী করে?

পরিচালন সমিতি ভেঙে যাওয়ার ফলে কেন স্কুলের অস্থায়ী শিক্ষক বা অস্থায়ী কর্মীদের বেতন বন্ধ হয়ে যেতে পারে? প্রধান শিক্ষকেরা জানাচ্ছেন, স্কুলগুলিতে আংশিকসময়ের শিক্ষক অথবা অস্থায়ী কর্মীদের বেতন দেওয়ার সময়ে যে চেক দেওয়া হয়, সেই চেকে সই থাকে প্রধান শিক্ষক এবং স্কুল পরিচালন সমিতির সভাপতির। যে হেতু পরিচালন সমিতি ভেঙে দেওয়া হয়েছে, ফলে কোনও স্কুলেই পরিচালন সমিতিরসভাপতি নেই। ফলে অস্থায়ী শিক্ষক ও কর্মীদের বেতনের চেকে প্রধান শিক্ষকের সই থাকলেও পরিচালন সমিতির সভাপতির সই পাওয়া যাবে না।

এখন পরিচালন সমিতি ভেঙে যাওয়ার পরে স্কুলগুলির দায়িত্বে আছে ড্রয়িং অ্যান্ড ডিসবার্সিং অফিসার (ডিডিও)। প্রতিটি স্কুলের আর্থিক লেনদেন, বিশেষত শিক্ষক শিক্ষিকাদের বেতনে যেন কোনও প্রভাব না পড়ে, সে জন্য দ্রুত ড্রয়িং অ্যান্ড ডিসবার্সিং অফিসার (ডিডিও) রয়েছেন। ডিডিও সাধারণত হন অবর বিদ্যালয় পরিদর্শকেরা (এসআই)। তবে শিক্ষক মহলের মতে, স্কুল ঠিক ভাবে চলতে গেলে ডিডিও দিয়ে সব কাজ হয় না।

‘কলেজিয়াম অব অ্যাসিস্ট্যান্ট হেডমাস্টার্স অ্যান্ড অ্যাসিস্ট্যান্ট হেডমিস্ট্রেস’-এর সম্পাদক সৌদীপ্ত দাস বলেন, ‘‘সাধারণত দেখা যায়, ডিডিওরা শুধুমাত্র শিক্ষকদের বেতন এবং মিড-ডে মিল যাতেচলে, সেই বিষয়ে তাঁরা সই করেন। এ ছাড়া অন্য প্রশাসনিক বিষয়ে তাঁরা হস্তক্ষেপ করেন না। তা হলে অস্থায়ী শিক্ষক এবং অস্থায়ী কর্মীদের বেতন কী ভাবে হবে? আমাদের দাবি, সে জন্য স্কুলের বিদ্যালয় পরিচালনসমিতিতে নতুন সভাপতির নাম না আসা পর্যন্ত যেন প্রশাসক বসিয়ে দেওয়া হয়।’’

এখন চলছে স্কুলে গরমের ছুটি। খুলবে ১ জুন। নারায়ণ দাস বাঙুর মেমোরিয়ালের প্রধান শিক্ষক সঞ্জয় বড়ুয়া এবং কলাগাছিয়া হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষিকা চিত্রিতা মজুমদার জানান, শুধু অস্থায়ী শিক্ষকই নন, তাঁদের স্কুলে অস্থায়ী সাফাই কর্মীদেরও সে ক্ষেত্রে বেতন অনিশ্চিত। সঞ্জয় বলেন, ‘‘গরমের ছুটির পরে দ্রুত এর সমাধান হলে ভাল হয়। না হলে আমাদের স্কুলে পঠনপাঠনে সমস্যা তৈরি হবে।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Schools Education Department

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy