E-Paper

শান্তনুর নিখোঁজ মোবাইলে কি প্রভাবশালী যোগসূত্র

তদন্তকারীদের কথায়, তিনটি মোবাইল ফোন ব্যবহার করতেন শান্তনু। একটি সরকারি মোবাইল ফোন। বাকি দু’টি তাঁর ব্যক্তিগত ফোন নম্বর।

শুভাশিস ঘটক

শেষ আপডেট: ১৮ মে ২০২৬ ০৮:৫৮
শান্তনু সিংহ বিশ্বাস।

শান্তনু সিংহ বিশ্বাস। ফাইল চিত্র।

তিনি ধরা পড়লেও এখনও নিখোঁজ তাঁর তিনটি মোবাইল। এবং ওই ফোনের মধ্যেই রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ বলয়ের পুলিশ অফিসার শান্তনু সিংহ বিশ্বাসের প্রভাব-প্রতিপত্তির নানা চাবিকাঠি লুকিয়ে, সন্দেহ ইডির। এর আগেও কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের নাগাল এড়াতে মোবাইল ফোন পুকুরে ছুড়ে ফেলার রেকর্ড ছিল পূর্বতন তৃণমূল সরকারের এক বিধায়কের। ইডি সূত্রে দাবি, এ যাত্রা শান্তনুও পালাবদলের আগে রাজ্যের সর্বোচ্চ প্রভাবশালীর সঙ্গে যোগাযোগের নানা সূত্র আড়াল করতে তৎপর হয়েছেন। ফলে শান্তনুর তিনটি মোবাইল ফোনের খোঁজে রীতিমতো মরিয়া এখন ইডি।

জালিয়াতির মাধ্যমে জমি ও সম্পত্তি দখল এবং ওই জমিতে অবৈধ নির্মাণের মামলায় কলকাতা পুলিশের উপ-নগরপাল শান্তনু সিংহ বিশ্বাসকে শুক্রবার হেফাজতে নিয়েছে ইডি। বৃহস্পতিবার টানা সাড়ে ১০ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর রাতে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। শুক্রবার বিচার ভবনের সিবিআই আদালতে পেশ করা হলে বিচারক তাঁকে ১৪ দিনের জন্য ইডি হেফাজতে পাঠান। কিন্তু বৃহস্পতিবার তদন্তকারীদের মুখোমুখি হওয়ার সময় থেকেই নিজের মোবাইল ফোন আনেননি শান্তনু।

তদন্তকারীদের কথায়, তিনটি মোবাইল ফোন ব্যবহার করতেন শান্তনু। একটি সরকারি মোবাইল ফোন। বাকি দু’টি তাঁর ব্যক্তিগত ফোন নম্বর। তা ছাড়া, কার্যত তাঁর ছায়াসঙ্গী কালীঘাট থানার এক সাব-ইনস্পেক্টরের ফোনও ব্যবহার করতেন শান্তনু। প্রায় রোজই সকাল ন’টার পরে কালীঘাট থানা এলাকায় রাজ্যের তৎকালীন সর্বোচ্চ প্রভাবশালীর বাড়িতে হাজির হওয়া ছিল শান্তনুর রুটিন। পাশাপাশি ওই সর্বোচ্চ পর্যায়ের প্রভাবশালীদের সঙ্গে ফোন এবং ওয়টস্যাপ চ্যাটের মাধ্যমেও শান্তনুর যোগাযোগ থাকত বলে দাবি তদন্তকারীদের।

তদন্তকারীদের কথায়, শান্তনুর সরকারি ফোনের নম্বর-সহ বাকি ফোনগুলির নম্বরও সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রথম বার তলব করার পরে তিনটি ফোনের মধ্যে এক মাত্র সরকারি ফোনটি মাঝেমধ্যে ব্যবহার করতেন শান্তনু। সেটিও বেশির ভাগ সময় বন্ধ থাকত।

দ্বিতীয় বার নোটিস জারি করার পরে শান্তনু কালীঘাট এলাকাতেই তৎকালীন সর্বোচ্চ প্রভাবশালীদের আশ্রয়ে ছিলেন বলে তদন্তকারীদের সূত্রে দাবি। কিন্তু ৪ মে ভোটের ফল বেরোতেই তিনি ভিন রাজ্যে গা-ঢাকা দেন বলে সূত্রের খবর। তাঁর বিরুদ্ধে লুক আউট নোটিস জারির পরে তিনি কলকাতা ফিরে তদন্তকারীদের মুখোমুখি হন।

ইডির এক কর্তা বলেন, ‘‘শান্তনুর ব্যবহৃত ফোনগুলি উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। শান্তনুর ঘনিষ্ঠ কারও কাছে তা থাকতে পারে ভেবে খোঁজ চলছে।’’ ইতিমধ্যে শান্তনুর ঘনিষ্ঠ নির্মাণ ব্যবসায়ী এখন জেল-হাজতে থাকা জয় কামদারের দু’টি মোবাইল ফোন থেকে শান্তনুর সঙ্গে সংস্রব এবং আর্থিক লেনদেনের বিভিন্ন সূত্র মিলেছে বলে তদন্তকারীদের সূত্রে দাবি। রবিবারও প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারে গিয়ে জয়কে জেরা করেন তদন্তকারীরা। গোয়েন্দা সূত্রে দাবি, জয়ের কাছ থেকে উদ্ধার এক ডায়েরিতে শান্তনুকে বিভিন্ন সময়ে টাকা দেওয়ার সূত্র রয়েছে। পোড়খাওয়া পুলিশ অফিসার শান্তনু কলকাতা ও রাজ্য পুলিশের কর্মচারীদের ওয়েলফেয়ার কমিটির কো-অর্ডিনেটর পদে ছিলেন। অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তিনি তদন্ত গুলিয়ে দেওয়া বা তদন্তকারীদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের সূত্রে দাবি।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Enforcement Directorate

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy