E-Paper

৩০-৩২ থেকে কমে ৭-১০! গ্যাসের আকালে হু হু করে কমছে খাবার অর্ডারের পরিমাণ

বৃহস্পতিবার ব্যবসা বন্ধ করেছে কলকাতার ফুটপাতের রেস্তরাঁগুলির বড় অংশ। বহু মিষ্টির দোকান আজ থেকে খুলবে না বলে জানিয়েছে। বড় রেস্তরাঁগুলি আরও ২-৩ দিন চললেও, মেনু অর্ধেক করেছে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৩ মার্চ ২০২৬ ০৯:৩৬

—প্রতীকী চিত্র।

বাণিজ্যিক রান্নার গ্যাসের আকালের সরাসরি প্রভাব পড়ছে সুইগি, জ়োম্যাটোর মতো অ্যাপে খাবার পরিবেশনকারী সংস্থার পণ্য পৌঁছনোর দায়িত্বে থাকা (গিগ) কর্মীদের উপরে। গত কয়েক দিনে তাঁদের ডেলিভারির সংখ্যা উল্লেখযোগ্য ভাবে কমেছে। ফলে টান পড়েছে রুজি-রুটিতেও। এর থেকে পরিত্রাণ পেতে কেন্দ্রের কাছে আর্থিক সহায়তা-সহ একগুচ্ছ দাবি জানিয়েছে এই কর্মীদের সংগঠন গিগ ও প্ল্যাটফর্ম সার্ভিস ওয়াকার্স ইউনিয়ন।

সংগঠনের পক্ষে নির্মল গোরানা জানিয়েছেন, ‘‘আগে যেখানে ১০-১১ ঘণ্টায় ৩০-৩২টি অর্ডার পাওয়া যেত। শেষ তিন-চার দিনে তা কমে হয়েছে ৭-১০টি। ফলে আয় নেমেছে তলানিতে। তার উপরে সংস্থার তরফে কম অর্ডারের কারণে আইডি বন্ধের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। সব মিলিয়ে জীবনধারণেই সমস্যা দেখা দিয়েছে।’’ সংগঠনের আর্জি, সঙ্কট কাটাতে সাহায্যের হাত বাড়াক কেন্দ্র। সে জন্য অবিলম্বে প্রতি গিগ কর্মীকে ১০,০০০ টাকা করে সহায়তা প্রদান, আপাতত তিন মাস আইডি বন্ধ না করা, গিগ কর্মীদের সামাজিক সুরক্ষার আওতায় আনা-সহ নানা দাবি জানিয়েছে তারা।

সুইগির এক ডেলিভারি পার্টনার অরিন্দম রায় জানান, ‘‘তিন-চার দিন ধরে পরিস্থিতি খুবই কঠিন হয়েছে। অনেক ছোট রেস্তরাঁ ঝাঁপ বন্ধ করেছে। সবাই মেনু কমিয়েছে। আগে ১১-১২ ঘণ্টা কাজ করলে ১৭-১৮টা অর্ডার আসত, এখন তা ৪-৫টি।’’ তিনি জানান, আমিনিয়া, সিমলা বিরিয়ানি, আর্সেলানের মতো বড় রেস্তরাঁও বহু খাবার তৈরি বন্ধ করেছে।

বৃহস্পতিবার ব্যবসা বন্ধ করেছে কলকাতার ফুটপাতের রেস্তরাঁগুলির বড় অংশ। বহু মিষ্টির দোকান আজ থেকে খুলবে না বলে জানিয়েছে। বড় রেস্তরাঁগুলি আরও ২-৩ দিন চললেও, মেনু অর্ধেক করেছে। আবার ডমিনোজ়, পিৎজ়া হাট, কেএফসি, ম্যাকডোনাল্ডের মতো বহুজাতিক রেস্তরাঁ চেনের হাতে দিন সাতেকের গ্যাস মজুত থাকে। ফলে পরিস্থিতি না শোধরালে পরের সপ্তাহ থেকে সমস্যা বাড়বে বলে দাবি তাদেরও।

যদিও গ্যাস ডিলার সংগঠনের পক্ষে বিজন বিশ্বাসের আশা, হরমুজ় প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলতে পারে বলে খবর। ফলে আগামী সপ্তাহ থেকে অবস্থা বদলাবে। অন্য দিকে, যে সমস্ত সংস্থা বিদেশে রফতানির জন্য পণ্য উৎপাদন করে, তাদের গ্যাসের জোগান বহাল রাখতে কেন্দ্রের কাছে আর্জি জানিয়েছে রফতানিকারীদের সংগঠন ফিয়ো। তাদের দাবি, নইলে চুক্তি ভাঙার দায়ে পড়বে ওই সব সংস্থা। এতে বাণিজ্য ধাক্কা খাবে, বহু সংস্থা বন্ধও হতে পারে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Online Food Gig Workers

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy