একের পর এক মাইলফলক পেরিয়ে ছুটছে ডলার। ফলে নামতে নামতে একের পর এক তলানিতে ঠেকছে টাকা। শুক্রবার ভারতীয় মুদ্রার দামকে এমনই নতুন তলানিতে ঠেলে দিয়ে আমেরিকার মুদ্রা এই প্রথম পেরোল ৯৬ টাকার গণ্ডি। লেনদেন চলাকালীন পৌঁছল ৯৬.১৪ টাকায়। তবে মুদ্রা বাজার বন্ধ হয়েছে ডলার পিছু ৯৫.৮১ টাকায়। এটাই এখনও পর্যন্ত এ দেশের মুদ্রার সর্বনিম্ন স্থান।
এই দিনই স্টেট ব্যাঙ্কের সমীক্ষা জানিয়েছে, বিশ্ব বাজারে অশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে ভারতের তেল সংস্থাগুলির বছরে ৩.৬ লক্ষ কোটি টাকা লোকসান হচ্ছে। পেট্রল-ডিজ়েল গড়ে ৩ টাকার মতো বাড়ায় ওই ক্ষতি প্রায় ৫২,৭০০ কোটি টাকা কমতে পারে। কিন্তু সমীক্ষায় তারা ধরেছে, চলতি অর্থবর্ষে ডলার থাকবে ৯৪ টাকা। এসবিআইয়ের দাবি, সেই দাম আরও ২ টাকা বাড়লে সংস্থার লোকসান কমার ওই অঙ্ক পুরো মুছে যেতে পারে। এই সমীক্ষার প্রেক্ষিতে এ দিন ডলারের ৯৬ ডলার পার করা চিন্তা আরও বাড়িয়েছে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।
বিশেষজ্ঞেরা বলছেন, ভারতে বিদেশি লগ্নি সংস্থাগুলির টানা শেয়ার বিক্রি করে পুঁজি তোলা টাকা দুর্বল হওয়ার অন্যতম কারণ। তার উপর অশান্ত পশ্চিম এশিয়া এবং তার জেরে বন্ধ হরমুজ় প্রণালী ইতিমধ্যেই বিশ্ব বাজারে অশোধিত তেলের জোগান সঙ্কট বাড়িয়ে তার দামকে ব্যারেল পিছু ১০০ ডলারের উপরে তুলে দিয়েছে। এখন তা দাঁড়িয়ে ১০৯ ডলারে। ফলে এ ক্ষেত্রেও ডলারের চাহিদা বেড়েছে। মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা টাকাকে আরও চাপে ফেলছে। জানুয়ারি থেকে ৬% ও পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ শুরুর পরে গত দু’মাসে প্রায় ২% দাম কমেছে টাকার।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)