• নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

কিসের জিডিপি, নয়া তত্ত্ব বিজেপির 

Nishikant Dubey
বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে।—ছবি পিটিআই।

Advertisement

এ যেন আঙুরফল টক!

জিডিপি-র বৃদ্ধির হার সুবিধের নয়। তাই জিডিপি-র আর কোনও গুরুত্বই নেই বলে এ বার মাঠে নেমে পড়ল বিজেপি। আজ লোকসভায় বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবের যুক্তি, জিডিপি তো ১৯৩৪-এ এসেছে। কাজেই জিডিপি-কে বাইবেল বা মহাভারত মানাটা ঠিক নয়। 

আর্থিক বৃদ্ধির হারে ভারত বিশ্বসেরা বলে নরেন্দ্র মোদী সরকার তথা বিজেপি-ই এত দিন ঢাক পেটাচ্ছিল। আজ ঝাড়খণ্ডের গোড্ডার বিজেপি সাংসদ নিশিকান্তর ভবিষ্যৎবাণী, ‘‘ভবিষ্যতেও জিডিপি-র বিশেষ উপযোগিতা থাকবে না।’’ সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বৃদ্ধির হার ৪.৫ শতাংশে নেমে এসেছে। ফলে বছর শেষে বৃদ্ধির হার ৬ শতাংশ ছুঁতে পারবে কি না, তা নিয়েও শঙ্কা দেখা দিয়েছে। অর্থনীতির গতি কমতে শুরু করায় আমজনতার রোজগার, চাকরি নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সে কারণেই এ বার জিডিপি-র বৃদ্ধির হার ‘না পসন্দ’? লোকসভা ভোটের আগে পরিসংখ্যান মন্ত্রক হিসেব কষেছিল, মোদী জমানায় বেকারত্বের হার রেকর্ড ছুঁয়েছে। সেই রিপোর্ট ধামাচাপা দিয়ে ভোটের পরে প্রকাশিত হয়। এর পরে গৃহস্থের মাসিক সংসারের খরচও কমে গিয়েছে বলে পরিসংখ্যান মন্ত্রকের সমীক্ষায় উঠে আসে। সেই রিপোর্টে ভুল রয়েছে বলে সরকার পরে তা খারিজ করে দেয়। 

বিরোধীদের কটাক্ষ, মোদী সরকার নিজেই ক্ষমতায় এসে জিডিপি মাপার পদ্ধতি পাল্টে দিয়েছিল। তাই মোদী সরকারের পক্ষে এখন বৃদ্ধির হিসেবেই গণ্ডগোল রয়েছে বলাটা সম্ভব নয়। এই বৃদ্ধির হারের হিসেবকে ছুড়ে ফেলাও সম্ভব নয়। বিজেপি তাই এখন যুক্তি দিচ্ছে, জিডিপি কোনও অর্থনীতির মাপকাঠি নয়। 

আরও পড়ুন: বর্তমান দর-নির্ভর জিডিপি এত কম! বৃদ্ধির হিসেবে চিন্তিত কেন্দ্রীয় কর্তারাই

তা হলে মাপকাঠি কোনটা? নিশিকান্ত আজ নিজেকে স্বদেশি জাগরণ মঞ্চের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে দাবি করে মত দিয়েছেন, ‘‘আজকের নতুন তত্ত্ব হল, আমজনতার স্থায়ী আর্থিক উন্নয়ন হচ্ছে কি না। জিডিপি-র থেকেও বেশি জরুরি হল, স্থায়ী উন্নয়ন। মানুষ সুখী হচ্ছেন কি হচ্ছেন না। শেষ সারিতে থাকা মানুষ উপকার পাচ্ছেন কি না!’’

আজ কর আইনে সংশোধনী বিল নিয়ে আলোচনাতে অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনও যুক্তি দিয়েছেন, মোদী জমানায় ৮ কোটি মানুষ নিখরচায় রান্নার গ্যাস সংযোগ পেয়েছেন। গাঁধী পরিবারের নাম না-করে নির্মলা প্রশ্ন তোলেন, ‘‘আয়ুষ্মান ভারতে সুবিধা পাওয়া ৬৮ লক্ষ মানুষ, বাড়িতে শৌচালয় মেলা ১১ কোটি লোক কারা? তাঁরা কি কারও জামাই বা জামাইবাবু? আমাদের দলে জামাইবাবু নেই, শুধু কর্মকর্তা রয়েছেন।’’

ওই বিলে আলোচনায় নিশিকান্তই বিজেপির প্রধান বক্তা ছিলেন। জিডিপি নিয়ে তাঁর মত-ই কি সরকারের মত? অর্থ মন্ত্রকের এক কর্তা বলেন, ‘‘মনে হয় না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তো সে দিনও বলেছেন, চলতি বছরে দেশের বৃদ্ধির হার ৬.১ শতাংশ ছোঁবে। সে হিসেবে আমরা চিনের সঙ্গে এক সারিতে থাকব।’’

সবাই যা পড়ছেন

Advertisement

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন
বাছাই খবর

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন