চলতি আর্থিক বছরের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিক (জুলাই-সেপ্টেম্বর) থেকে ভারতের অর্থনীতির ঘুরে দাঁড়ানোর জমি অনেকটাই তৈরি। কিন্তু সেই যজ্ঞ পণ্ড হতে পারে করোনার প্রকোপে। বৃহস্পতিবার এমন আশা-আশঙ্কার ইঙ্গিত রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্কের বার্ষিক রিপোর্টে। তাদের দাবি, সংক্রমণ কমাতে পারলে এই অর্থবর্ষে ১০.৫% আর্থিক বৃদ্ধির যে পূর্বাভাস তারা আগেই দিয়েছে, সেটা বাস্তবায়িত হওয়া সম্ভব। তবে সেটা নির্ভর কমবে সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউকে কত দ্রুত আটকানো যাচ্ছে তার উপরে। অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার জন্য এই মুহূর্তে যে বাজারে কেনাকাটা ও লগ্নি বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি, তা-ও স্পষ্ট জানিয়েছে তারা।
তার পরেই ফের মাথা তুলেছে বহু চর্চিত সেই প্রশ্ন, বাজারে প্রতিষেধকের জোগান বাড়িয়ে দেশের সকলের টিকাকরণে গতি না-আনলে কী ভাবে সংক্রমণ রোধ করা যাবে। বিশেষত আরবিআই যেখানে বার্ষিক রিপোর্টে বলেছে, দ্বিতীয় ঢেউকে আগামী জুলাইয়ে মধ্যে রুখে অর্থনীতির ক্ষয়ক্ষতিকে সীমিত রাখা সম্ভব যদি স্বল্প সময়ের (মাত্র মাস দুয়েক) মধ্যেই কিছু বিষয় নিশ্চিত করা যায়। যেমন, করোনাবিধি মানার ক্ষেত্রে কড়াকড়ি, প্রতিষেধক উৎপাদন এবং চিকিৎসার জিনিসপত্র সরবরাহে গতি আনা, স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর ঘাটতি পূরণ এবং মজুত বৃদ্ধি, বিশেষত টিকার। যাতে সংক্রমণের পরবর্তী ঢেউয়ের জন্যও তৈরি থাকা যায়। শীর্ষ ব্যাঙ্কের দাবি, এগুলি নিশ্চিত হলে জীবন তো বাঁচবেই, কর্মসংস্থান এবং উৎপাদনও দীর্ঘ মেয়াদের জন্য উঠতে শুরু করবে।
ইউনিয়ন ব্যাঙ্কের প্রাক্তন চেয়ারম্যান দেবব্রত সরকারের মন্তব্য, ‘‘প্রতিষেধক মানুষকে কাজে যোগ দিতেও সাহস জোগাবে। এ বারও বহু পরিযায়ী শ্রমিক ঘরে ফিরেছেন। টিকাকরণ হলে তাঁরা কাজে ফিরবেন। কিন্তু সেটা না-হলে বিধিনিষেধ কমালেও উৎপাদন পুরোদমে চালানো কঠিন হবে। যা অর্থনীতির ঘুরে দাঁড়ানোর পথে বাধা।’’ এসবিআই লাইফের প্রাক্তন এমডি অতনু সেনের মতে, ‘‘দু’মাসে সকলকে প্রতিষেধক দেওয়া অসম্ভব। তবে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করতে করোনাবিধিতেও কড়া হতে হবে সরকারকে। তা হলে মাস দুয়েক পরে অর্থনীতিতে ইতিবাচক ফল দেখা যাবে।’’