Advertisement
E-Paper

নথিভুক্তিকরণ ছাড়া ইচ্ছাপত্রের কি আইনি বৈধতা রয়েছে? আইন মেনে কী ভাবে ভাগ হবে মা-বাবার সম্পত্তি?

সম্পত্তির উত্তরাধিকার নিয়ে বিবাদ মেটাতে অনেকেই ইচ্ছাপত্র করেন। নথিভুক্তিকরণ না থাকলে কি ওই ইচ্ছাপত্রের কোনও আইনগত বৈধতা থাকে? সে ক্ষেত্রে কী ভাবে সন্তানদের মধ্যে ভাগ করা হয় মা-বাবার সম্পত্তি?

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৬:৫৪
Representative Picture

—প্রতীকী ছবি।

মা-বাবার মৃত্যুর পর অনেক পরিবারেই তীব্র হয় সম্পত্তি সংক্রান্ত বিবাদ। বহু ক্ষেত্রে এই বিবাদ আদালত পর্যন্ত গড়ায়। বহু দম্পতি তাই ইচ্ছাপত্র করে উত্তরাধিকারীদের মধ্যে ভাগ করে দেন সম্পত্তি। যদিও এ ব্যাপারে আমজনতার একাংশের একটা ভুল ধারণা রয়েছে। তাঁরা মনে করেন, নথিভুক্তিকরণ না থাকলে আইনি বৈধতা হারায় ইচ্ছাপত্র। ষদিও সরকারি নিয়ম পুরোপুরি অন্য কথা বলছে।

সম্প্রতি এই বিষয়ে সংবাদমাধ্যম ‘মানিকন্ট্রোল’কে চিঠি পাঠান এক ব্যক্তি। সেখানে ইচ্ছাপত্রের ব্যাপারে একাধিক বিষয় জানতে চেয়েছেন তিনি। চিঠি অনুযায়ী, ২০২২ সালে ওই ব্যক্তির বাবার মৃত্যু হয়। ছয় কন্যা এবং পাঁচ পুত্র রেখে গিয়েছেন তিনি। তাঁদের মধ্যে সম্পত্তি ভাগ করে দিতে একটি ইচ্ছাপত্রও করেছিলেন ওই ব্যক্তি। যদিও তা নথিভুক্ত করা হয়নি। ফলে তার বৈধতা নিয়ে ভাই-বোনদের মধ্যে দেখা দিয়েছে বিবাদ।

চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, সম্পত্তি বিবাদ চরমে ওঠায় ২০২৪ সালে ওই ব্যক্তির ছয় কন্যা আদালতের দ্বারস্থ হন। ২০০৫ সালের হিন্দু উত্তরাধিকার (সংশোধন) আইনকে হাতিয়ার করে বাবার সম্পত্তির ভাগ চেয়েছেন তাঁরা। জবাবে এক আইনজীবীকে উদ্ধৃত করে ‘মানিকন্ট্রোল’ জানিয়েছে, এ দেশের আইনে ইচ্ছাপত্রের নথিভুক্তিকরণ বাধ্যতামূলক নয়। ১৯২৫ সালের ভারতীয় উত্তরাধিকার আইনে এ কথা বলা হয়েছে।

নিয়ম অনুযায়ী, কোনও ইচ্ছাপত্র যদি সঠিক ভাবে সম্পাদিত হয়, তা হলে নথিভুক্তিকরণ না থাকলেও সেটা আইনত বৈধ। তবে ইচ্ছাপত্রটিকে জোর করে লেখানো হয়েছে বলে সম্পত্তির দাবিদারেরা চ্যালেঞ্জ করতে পারেন। পাশাপাশি জালিয়াতি, মানসিক অস্থিতিশীলতা এবং অনুপযুক্ত বা ভুল সম্পাদনের অভিযোগও উইলকে কেন্দ্র করে তোলার অধিকার রয়েছে তাঁদের।

তবে এ দেশের আইন অনুযায়ী, স্ব-উপার্জিত সম্পত্তি পৈতৃক সম্পত্তি হিসাবে স্বীকৃত নয়। এ ক্ষেত্রে একটা স্পষ্ট গুরুত্বপূর্ণ আইনি পার্থক্য রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের কথায়, কোনও ব্যক্তি নিজের রোজগারে যদি কোনও সম্পত্তি কিনে থাকেন তা হলে সেটাকে পৈত্রিক সম্পত্তি বলা যাবে না। কারণ, সেটা তার স্ব-উপার্জিত সম্পত্তি, যা কখনওই হিন্দু অবিভক্ত পরিবারের সম্পত্তি হিসাবে গণ্য হবে না। সংশ্লিষ্ট সম্পত্তি ইচ্ছাপত্র করে ইচ্ছামতো বিতরণের অধিকার পাবেন ওই ব্যক্তি।

২০০৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর পাশ হওয়া হিন্দু উত্তরাধিকার (সংশোধন) আইন অনুযায়ী হিন্দু যৌথ পরিবারের সম্পত্তিতে জন্মসূত্রে মেয়েদের সমান অধিকার দেওয়া হয়েছে। তবে সেটা মূলত ইচ্ছাপত্রবিহীন অধিকার বা যৌথ পরিবারের সম্পত্তির ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক। ইচ্ছাপত্র থাকলে তার উপর ভিত্তি করেই সম্পত্তির ভাগ বাঁটোয়ারা করতে হবে।

Property Will Property Sharing Property Tax Property Dispute
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy