‘ইউনিফায়েড পেমেন্টস ইন্টারফেস’ বা ইউপিআইতে দিন দিন বাড়ছে লেনদেন। এতে কয়েক সেকেন্ডে অন্যের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি পাঠিয়ে দেওয়া যায় টাকা। সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিটির একটি বিপদও রয়েছে। টাকা দেওয়ার সময় ভুল ব্যক্তির ফোন নম্বর নির্বাচন করতে পারেন গ্রাহক। সে ক্ষেত্রে ওই ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে চলে যাবে টাকা। সেই অর্থ কি আদৌ উদ্ধার করা সম্ভব? কী বলছে রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার (আরবিআই) নিয়ম? আনন্দবাজার ডট কম-এর এই প্রতিবেদনে তা তুলে ধরা হল।
ভুল ইউপিআই আইডিতে টাকা পাঠিয়ে ফেললে সবসময়ে যে তা খোয়া যাবে এমনটা নয়। দ্রুত কিছু পদক্ষেপ করলে সংশ্লিষ্ট অর্থ ফেরত পেতে পারেন গ্রাহক। ইউপিআইতে অর্থের লেনদেন তাৎক্ষণিক হলেও তা শনাক্ত করার সুযোগ রয়েছে। প্রতি বার টাকা দেওয়ার সময় তৈরি হয় একটি আইডি। এর উপর নজরদারি করতে পারে ব্যাঙ্ক। ফলে ইউপিআই গ্রাহকদের কে, কোথায় টাকা পাঠাচ্ছেন, তার বিস্তারিত তথ্য সব সময়েই থাকে তাদের কাছে।
আর তাই ইউপিআইতে ভুল হলেই নিকটবর্তী ব্যাঙ্কের শাখায় যোগাযোগ করতে বলেছে আরবিআই। সেখানে লেনদেনের আইডি, টাকার পরিমাণ, তারিখ, সময় এবং লেনদেনের স্ক্রিনশট দিয়ে আবেদন করতে হবে গ্রাহককে। যাবতীয় তথ্য জমা হয়ে গেলে অর্থ প্রাপক ব্যাঙ্কের সঙ্গে যোগাযোগ করে সমস্যার কথা জানাবে ওই আর্থিক প্রতিষ্ঠান। শুধু তা-ই নয়, গ্রাহকের টাকা ফিরিয়ে দেওয়ার অনুরোধও করতে পারে তারা।
রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্কের নিয়ম অনুযায়ী, কোনও ব্যাঙ্ক ইউপিআইয়ের অর্থ প্রাপকের সম্মতি ছাড়া তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা কেটে নিতে পারে না। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি রাজি হলে দ্রুত সমস্যার সমাধান হতে পারে। তখন ওই ব্যাঙ্কের থেকে আবেদনকারী গ্রাহকের অ্যাকাউন্টে ফিরে আসবে টাকা। এ ছাড়া টাকা ফেরত পাওয়ার আরও কিছু উপায় রয়েছে।
বর্তমানে অধিকাংশ ইউপিআই অ্যাপে অভিযোগ জানাতে পারেন গ্রাহক। ভুল লেনদেন হয়ে গেলে অ্যাপের ওই অংশে ঢুকে বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানাতে পারেন তাঁরা। সে ক্ষেত্রে ‘ভুল ব্যক্তির কাছে টাকা পাঠানো হয়েছে’ বা ‘ভুল ইউপিআই আইডি’-র মতো বিকল্পগুলি বেছে নিতে হবে তাঁদের। প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ হলেই গ্রাহকের ব্যাঙ্ককে সতর্ক করে দেয় সার্ভিস প্রোভাইডার। তৈরি হয় একটি অফিশিয়াল নথিও। এই ধরনের ক্ষেত্রে অর্থ প্রাপককে নানা ভাবে টাকা ফেরত দিতে বাধ্য করতে পারে গ্রাহকের ব্যাঙ্ক।