E-Paper

ইন্ডাকশনের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় বাড়ছে বিদ্যুতের চাহিদাও, অতিরিক্ত উৎপাদনের নির্দেশ দিল কেন্দ্র

শুক্রবার বাণিজ্যিক সিলিন্ডার বুকিং-এর জন্য আলাদা লিঙ্ক চালু করেছে পেট্রলিয়াম মন্ত্রক। যার মাধ্যমে হোটেল-রেঁস্তোরা কিংবা অন্যদের নিজের বিস্তারিত তথ্য দিয়ে গ্যাস বুক করতে হবে। সিলিন্ডারের অপচয় রুখতেই এই সিদ্ধান্ত।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১১ এপ্রিল ২০২৬ ০৭:৩৮

গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের ফলে রান্নার গ্যাস বা এলপিজি-তে টান পড়বে ভেবে অনেকেই বিদ্যুৎচালিত ইন্ডাকশন কুকারে রান্নার দিকে ঝুঁকেছেন। মোদী সরকারও আমদানি করা এলপিজি-র উপরে নির্ভরতা কমাতে এটির ব্যবহার এবং উৎপাদনে জোর দিচ্ছে। বিদ্যুৎ মন্ত্রক মনে করছে, এর ফলে দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ২৭ গিগাওয়াট বাড়বে। বাড়তি চাহিদার কথা মাথায় রেখে গরম কালে তিন মাসের মধ্যে আরও ২২ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানো হবে। এর মধ্যে ৩৫০০ মেগাওয়াট তাপবিদ্যুৎ, ১০,০০০ মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎ এবং ২৫০০ মেগাওয়াট বায়ু বিদ্যুৎ রয়েছে।

এ দিকে, শুক্রবার বাণিজ্যিক সিলিন্ডার বুকিং-এর জন্য আলাদা লিঙ্ক চালু করেছে পেট্রলিয়াম মন্ত্রক। যার মাধ্যমে হোটেল-রেঁস্তোরা কিংবা অন্যদের নিজের বিস্তারিত তথ্য দিয়ে গ্যাস বুক করতে হবে। সিলিন্ডারের অপচয় রুখতেই এই সিদ্ধান্ত। রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি, সব সংস্থার গ্রাহকেরাই এই লিঙ্ক ব্যবহার করতে পারবেন। তাতে সরাসরি সংস্থা এবং মন্ত্রকের কাছে বুকিং-এর হিসেব থাকবে। তবে সিলিন্ডার দেবেন সংশ্লিষ্ট ডিলার বা গ্যাস বণ্টনকারীরাই। সূত্রের খবর, চাহিদার ১০০% বাণিজ্যিক সিলিন্ডার জোগাতেই এই পদক্ষেপ কেন্দ্রের। আশা করা হচ্ছে, সাত দিনের মধ্যে গৃহস্থালির সিলিন্ডারও বুকিং-এর ৩-৪ দিনের মধ্যে পেতে পারেন গ্রাহক।

সরকারি মহলের অবশ্য দাবি, দেশবাসীর বড় অংশ গ্যাসের ভরসায় না থেকে ব্যাপক ভাবে ইন্ডাকশন ব্যবহার করতে শুরু করেছেন। যে কারণে বিদ্যুতের চাহিদা লাফিয়ে বাড়ছে। বিদ্যুৎ মন্ত্রকের বক্তব্য, এমনিতেই গ্রীষ্মে বিদ্যুৎ বেশি লাগে। সেই সঙ্গে ইন্ডাকশন কুকারের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় ১৩ থেকে ২৭ গিগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুতের চাহিদা বাড়তে পারে। তা সবচেয়ে বেশি থাকবে সকালে ও সন্ধ্যায় রান্নার সময়। তবে রাজ্য ও জাতীয় স্তরে তারতম্য হবে। কারণ রাজ্যে বিকল্প রান্নার জ্বালানির ব্যবস্থা, আবহাওয়া, আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতির উপরে নির্ভর করবে ইন্ডাকশনের ব্যবহার।

যুদ্ধের জেরে গ্যাস আমদানিতে সমস্যা দেখা দিয়েছে। কেন্দ্র গৃহস্থের জন্য এলপিজি উৎপাদনে জোর দেওয়ায় গ্যাস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলি আরও ধাক্কা খায়। ৮০০০ মেগাওয়াট কম উৎপাদন হয়। বিদ্যুৎ মন্ত্রকের বক্তব্য, তাপবিদ্যুৎ এবং অন্যান্য ক্ষেত্র থেকে ১০,০০০ মেগাওয়াট বাড়তি বিদ্যুৎ উৎপাদন করে ঘাটতি পূরণ হয়েছে।

যুদ্ধের আবহে ডোনাল্ড ট্রাম্প রুশ তেল কেনার অনুমতি দিয়েছেন ভারতকে। সেই মেয়াদ শনিবার শেষ। কেন্দ্রের ধারণা, তা বাড়বে। তবে কেন্দ্র জ্বালানির আমজনতার জ্বালানির চাহিদা পূরণেই অগ্রাধিকার দেবে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Induction Stove LPG Crisis

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy