শিল্প-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নতুন কাজ তৈরি নিয়ে প্রশ্ন চিহ্ন তো রয়েছেই। বিশেষজ্ঞদের মতে, মানবসম্পদ থাকলেও, ভাল কাজের আকাল রয়েছে দেশ জুড়ে। এই পরিস্থিতিতে, দেশে কাজের বাজারে যাঁরা পা রাখতে চলেছেন, তাদের সামনে ভাল এবং আকর্ষণীয় বেতনের চাকরির সুযোগ তৈরি করতে বৃদ্ধিকে ৮-১০ শতাংশের কক্ষপথে বেঁধে রাখার পক্ষে সওয়াল করলেন নীতি আয়োগের প্রাক্তন উপাধ্যক্ষ অরবিন্দ পানাগড়িয়া। আর তার জন্য জোর দিলেন রফতানি বাড়ানোর উপরে। কারণ, তবেই ওই চড়া বৃদ্ধির চৌকাঠ ছোঁয়া সম্ভব হবে বলে মত তাঁর।

পানাগড়িয়ার সওয়াল, সেই লক্ষ্যে পৌঁছতে গেলে বাণিজ্য ক্ষেত্রে কোথাও দেওয়াল তুললে চলবে না। আর্থিক ক্ষেত্রে মোদী সরকারের কোথায় অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত সে সম্পর্কে বলতে গিয়েই তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, রফতানি নির্ভর অর্থনীতিতেই ভারতকে ফিরতে হবে। তার হাত ধরে খুঁজে নিতে ও বাড়াতে হবে বাজার। তবেই মিটবে কর্মসংস্থান ও কম বেতনের সমস্যা। 

ভারতীয় অর্থনীতি ‘মাঝারি আয়ের ফাঁদ’-এ পড়তে পারে বলে আগেই সতর্ক করেছেন প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক উপদেষ্টা পরিষদের অন্যতম সদস্য রথীন রায়। তাঁর মতে, বড় অর্থনীতিগুলির মধ্যে দ্রুততম বৃদ্ধির দেশ হলেও, বৃদ্ধির গতিতে একমাত্র ইঞ্জিন আয়ের নিরিখে উপরের সারিতে থাকা ১০ কোটি মানুষের কেনাকাটা, রফতানি নয়। 

উল্লেখ্য, নিজের সরকারের দ্বিতীয় ইনিংসে নীতি আয়োগের প্রথম বৈঠকে রাজ্যগুলিকে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি রফতানিকে পাখির চোখ করতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও। গত ১৫ বছর ভারতের গড় বৃদ্ধি ৭ শতাংশের আশেপাশে। তা যথেষ্ট ভাল বলেই মনে করেন পানাগড়িয়া। মোদী সরকারের প্রথম দফাতেও গড় আর্থিক বৃদ্ধি হয়েছে ৭.৫ শতাংশ। কিন্তু তাতে দেশে ভাল আয়ের কাজ যে তেমন বাড়েনি, তা পরিসংখ্যানেই স্পষ্ট।

এবার শুধু খবর পড়া নয়, খবর দেখাও। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের YouTube Channel - এ।