E-Paper

যুদ্ধে বন্ধ হরমুজ প্রণালী, রাশিয়ার তেলকেই ‘পাখির চোখ’ করতে চায় নয়াদিল্লি

ওমান ও ইরানের মাঝে হরমুজ প্রণালী ধরেই ভারতে রোজ প্রায় ২৫-২৭ লক্ষ ব্যারেল অশোধিত তেল আসে। যা দেশের আমদানি করা তেলের অর্ধেক। কিন্তু আমেরিকা ও ইজ়রায়েলের হামলার কারণে ইরান এখন এই পথে জাহাজ চলাচল বন্ধ করেছে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৫ মার্চ ২০২৬ ০৭:৫৩
ড্রোনের অংশ ভেঙে পড়ে লেগেছে আগুন। সংযুক্ত আরব আমিরশাহির ফুজাইরাহ তেল শিল্প অঞ্চলে।

ড্রোনের অংশ ভেঙে পড়ে লেগেছে আগুন। সংযুক্ত আরব আমিরশাহির ফুজাইরাহ তেল শিল্প অঞ্চলে। ছবি: রয়টার্স।

গত বছর রাশিয়া থেকে ভারতে দিনে ২০ লক্ষ ব্যারেল অশোধিত তেল আমদানি করা হত। মস্কোর তেল কেনার শাস্তি হিসেবে এ দেশের পণ্যে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপানো শুল্কের ধাক্কায় তা প্রায় অর্ধেকে নেমেছে। ফেব্রুয়ারিতে দিনে এসেছে ১০ লক্ষ ব্যারেলের মতো। কিন্তু পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ ও হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল বহনকারী জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ হওয়ায় এ বার ফের ভ্লিদিমির পুতিনের দেশের দিকে নজর দিচ্ছে ভারত। ক্রেমলিনেরও বার্তা, ভারতের চাহিদা অনুসারে তেল সরবরাহ করতে তারা তৈরি। দেশে ঠিক কত পরিমাণ তেল মজুত রয়েছে, তা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হওয়ার মধ্যেই আবার ‘পুরনো বন্ধু রাশিয়ার’ দিকে নজর দেওয়া তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মত সংশ্লিষ্ট মহলের। যদিও তাতে ট্রাম্প ফের গোঁসা করবেন কি না, সেই প্রশ্ন থাকছে।

ওমান ও ইরানের মাঝে হরমুজ প্রণালী ধরেই ভারতে রোজ প্রায় ২৫-২৭ লক্ষ ব্যারেল অশোধিত তেল আসে। যা দেশের আমদানি করা তেলের অর্ধেক। কিন্তু আমেরিকা ও ইজ়রায়েলের হামলার কারণে ইরান এখন এই পথে জাহাজ চলাচল বন্ধ করেছে। মোট ৩৭টি ভারতীয় জাহাজ সেখানে আটকে পড়েছে জানিয়ে কেন্দ্রের হস্তক্ষেপ দাবি করেছে তাদের সংগঠন। ভারতকে চাহিদার ৮৮% তেল আমদানি করতে হয়। হরমুজ দীর্ঘদিন বন্ধ থাকলে সঙ্কট চরমে উঠবে। এই অবস্থায় রাশিয়া ভারতের সহায় হয়ে উঠতে পারে বলে ধারণা শিল্প মহলের। তাদের মতে, ভারতে সপ্তাহ খানেকের মধ্যে প্রায় ৯৫ লক্ষ ব্যারেল তেল পাঠাতে পারে মস্কো। দেশের কাছেই সমুদ্রে তাদের বিভিন্ন জাহাজে তা মজুত রয়েছে।

প্রশ্ন হল, ভারত রাশিয়া থেকে তেল কেনা বাড়ালে ট্রাম্প কি ফের খড়্গহস্ত হবেন? এই আমদানি বন্ধ হয়েছে জানিয়েই গত মাসে ভারতীয় পণ্যে শুল্ক তুলেছেন তিনি। বাণিজ্য চুক্তির কাঠামোয় সায় দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। তবে তা সইয়ের আগেই ইরানের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়েছে আমেরিকা ও ইজ়রায়েল। তাতে ভারতে তেলের জোগানে আশঙ্কা তৈরি
হয়েছে। মোদী সরকার অবশ্য পশ্চিম এশিয়ায় অশান্তি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেও ইরানে হামলার নিন্দা করেনি।

পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের দাবি, ভারতে এখন ২৫ দিনের প্রয়োজন মেটানোর মতো অশোধিত তেল ও পেট্রল-ডিজ়েল রয়েছে। ৯ ফেব্রুয়ারি তেলমন্ত্রী হরদীপ সিংহ পুরী সংসদে বলেছিলেন, আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার মতে কোনও দেশে সঙ্কটের কথা ভেবে ৯০ দিনের তেল মজুত রাখা দরকার। ভারতের রয়েছে ৭৫ দিনের (স্ট্র্যাটেজিক অয়েল রিজার্ভ)। আজ একাধিক বিরোধী দল প্রশ্ন তুলেছে, মাত্র এক মাসের মধ্যে মজুত তেলের পরিমাণ এতটা কমল কী ভাবে?

মন্ত্রক সূত্রের বক্তব্য, ৭৫ দিনের প্রয়োজন মতো মজুতের হিসাবের মধ্যে অন্ধ্রপ্রদেশ, কর্নাটকের ভূগর্ভস্থ তৈলাধার, সমুদ্রে ভাসমান তৈলাধার, শোধনাগারে মজুত তেল, পেট্রোপণ্য— এই সব কিছুই রয়েছে। ভারত থেকে বিদেশে পেট্রোপণ্য রফতানি হয়। দেশে সঙ্কট তৈরি হলে প্রয়োজনে তা বন্ধ করা হবে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Iran-Israel Situation Crude Oil India-Russia Central Government

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy