অসুস্থতার জন্য ২০১১-র অগস্টে নিজের হাতে তৈরি অ্যাপলের সিইও পদ ছেড়েছিলেন স্টিভ জোবস। সেই মাসেই তাঁর জায়গায় নিযুক্ত হন সংস্থার পর্ষদের দীর্ঘ দিনের বিশ্বস্ত সদস্য টিম কুক। সে বছর অক্টোবরের শুরুতে জোবসের মৃত্যুর পরে পাকাপাকি ভাবে অ্যাপলের মুখ হয়ে উঠলেন টিমোথি ডোনাল্ড কুক। যাঁর হাত ধরে পরবর্তী ১৫ বছরে ক্রমাগত উত্থানের মুখ দেখবে এই প্রযুক্তি বহুজাতিক। হবে বিশ্বের প্রথম ১ লক্ষ কোটি ডলারের সংস্থা। আনবে নতুন পণ্য। পড়বে বিতর্কের মুখেও। দেড় দশক সফল ভাবে অ্যাপলের দায়িত্ব সামলানোর পরে সেই সিইও-র পদই উত্তরসূরিকে ছেড়ে দিয়ে সরে দাঁড়ানোর কথা ঘোষণা করলেন কুক। অ্যাপল জানিয়েছে, সেপ্টেম্বর থেকে টিম থাকবেন তাদের এগ্জ়িকিউটিভ চেয়ারম্যান হিসেবে। আর সিইও পদে এসে সংস্থার দৈনন্দিন কাজ সামলাবেন জন টার্নাস। বর্তমানে যিনি দেখাশোনা করেন আই ফোন-সহ অ্যাপলের বিভিন্ন পণ্যের হার্ডওয়্যারের দিকটি।
সংশ্লিষ্ট মহলের বক্তব্য, জোবসের ক্যারিশমা কুকের কোনও দিনই ছিল না। কিন্তু তা বলে লগ্নিকারীদের ঝুলি ভরিয়ে দিতে এবং বিশ্বের ২০০টিরও বেশি দেশে সফল ভাবে অ্যাপলের ব্যবসাকে ছড়িয়ে দিতে অসুবিধা হয়নি। আর এখানেই কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়বেন টার্নাস। অ্যাপল যে জায়গায় পৌঁছেছে, সেখান থেকে তাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে উদ্যোগী হতে হবে তাঁকে। সম্প্রতি কম দামের ম্যাকনিও এনে ম্যাকের দুনিয়ায় আরও বেশি মানুষকে টানার পথে হেঁটেছে সংস্থা। আগামী দিনে নতুন কোন ধরনের উদ্ভাবন টার্নাসের ঝুলি থেকে বেরোয়, সে দিকে তাকিয়ে থাকবে গোটা বিশ্ব।
তবে অনেকেই মনে করাচ্ছেন, কুকের আমলে অ্যাপলের উত্থান যেমন চোখে পড়ার মতো, তেমন বিতর্কও কম হয়নি। ভারত, ইউরোপীয় ইউনিয়ন-সহ নানা অঞ্চলে আই ফোনের অ্যাপ স্টোরে অ্যাপল নিজের প্রভাবশালী অবস্থানের সুযোগ নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পড়তে হচ্ছে জরিমানার মুখে। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে সংস্থার ভাবমূর্তি রক্ষা করে তাকে এগিয়ে নিয়ে চলাও টানার্সের অন্যতম চ্যালেঞ্জ হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)