রাজ্যে বিজেপি সরকারের প্রথম বাজেট নিয়ে শিল্প মহলের মধ্যে সাড়া পড়ে গিয়েছে। আগামী সোমবার তা পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। তার আগে সরকারের হাতে শিল্প তাদের চাহিদার যে তালিকা তুলে দিয়েছে, তা বেশ দীর্ঘ। সেখানে পরিকাঠামো উন্নয়ন থেকে স্বচ্ছ জমি নীতি, শিল্প নীতি, শিল্পকে আর্থিক উৎসাহ দেওয়ার ইনসেনটিভ নীতির মতো বিষয় তো রয়েছেই। পশ্চিমবঙ্গকে লগ্নির নিরিখে শীর্ষস্থানে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থাও চেয়েছে তারা। সেই সঙ্গে বার্তা, এমন বাজেট আনা হোক, যাতে বাংলা ছেড়ে যাওয়া লক্ষ লক্ষ অল্প বয়সি ছেলেমেয়ের ফের ঘরে ফিরতে ইচ্ছে হয়। সে জন্য নিজেদের রাজ্য সম্পর্কে তাঁদের মানসিকতা বদলের শুরুটা হোক সোমবারের ঘোষণা থেকেই।
অম্বুজা নেওটিয়া গোষ্ঠীর কর্ণধার হর্ষবর্ধন নেওটিয়ার মতে, কৌশলগত অবস্থান, দক্ষ কর্মী, উদ্যোগী হওয়ার মানসিকতা এবং শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ বাজারের মতো একাধিক উল্লেখযোগ্য বিষয় রয়েছে এ রাজ্যে। কিন্তু তার সুবিধা নেওয়ার উপযোগী পরিকাঠামোর অভাব আছে। ফলে এ ক্ষেত্রে উন্নয়নের গতি বাড়াতে হবে। শিল্পের প্রস্তাবকে দ্রুত বাস্তব রূপ দেওয়ার মতো নীতিও দাবি করেছেন তিনি। বলেছেন সরকারের কাজে শ্লথ হওয়ার অভিযোগ মুছে দিয়ে ভাবমূর্তি বদলের কথা। কলকাতার আর এক শিল্পকর্তা সঞ্জয় বুধিয়া-সহ একাংশ রাজ্য সরকারের কাছে চেয়েছেন ‘ঘরে ফেরার বাজেট’। বুধিয়ার কথায়, ‘‘বহু যুবক-যুবতী রাজ্য ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন। আশা করছি, এ বারের বাজেট হবে তাঁদের বাইরে থাকা নিজের আস্তানায় ফিরিয়েআনার চাবিকাঠি।’’
বণিকসভা ভারত চেম্বারের সভাপতি নরেশ পাচিসিয়ার আশা, রাজ্যে বড় লগ্নি টানার উপযোগী একাধিক সিদ্ধান্ত ঘোষণা করবেন অর্থমন্ত্রী। সুস্পষ্ট দিশা থাকবে শিল্পায়নের গতি বৃদ্ধিরও। ক্ষুদ্র শিল্পের সংগঠন ফ্যাকসির সভাপতি এইচ কে গুহ আবার এই সব শিল্পে আর্থিক উৎসাহদানের ব্যবস্থা ফেরানো হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন। দাবি তুলেছেন ছোট শিল্পের ক্ষেত্রে স্ট্যাম্প ডিউটি, রেজিস্ট্রেশন, লাইসেন্স ফি কমানোর। পূর্তি রিয়েলটির কর্ণধার মহেশ আগরওয়ালের মতে, বাংলায় নতুন জমি ও শিল্প নীতি এলেই আটকে থাকা শিল্প প্রস্তাব রূপ পাবে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)