ফের ফণা তুলছে মূল্যবৃদ্ধির সরীসৃপ। সোমবার প্রকাশিত নভেম্বর মাসের পাইকারি ও খুচরো মূল্যবৃদ্ধির জোড়া পরিসংখ্যানে সেই ছবিই স্পষ্ট।
পাইকারি দর নভেম্বরে সরাসরি কমলেও গত মাসের তুলনায় তা নেমেছে ধীরগতিতে। সরকারি সূত্রের খবর, এর কারণ খাদ্যপণ্যের চড়া দর, যার জেরে অক্টোবরে পাইকারি দর ৩.৮১% হারে নামলেও নভেম্বরে তা ১.৯৯%। যার অর্থ পাইকারি বা সার্বিক মূল্যবৃদ্ধি অক্টোবরে ছিল (-) ৩.৮১%। তা সামান্য হলেও নভেম্বরে বেড়ে হয়েছে (-)১.৯৯%। তবে তা শূন্যের নীচেই থাকায় পাইকারি দর নীচের দিকেই নামল এই নিয়ে টানা ১৩ মাস। পাশাপাশি, সাধারণ মানুষ ও কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্বেগ বাড়িয়ে আরও চড়েছে খুচরো মূল্যবৃদ্ধির হার। খাদ্যসামগ্রীর দাম বাড়ার হাত ধরেই খুচরো বাজারেও মূল্যবৃদ্ধি ছুঁয়েছে ৫.৪১%, যা গত চোদ্দ মাসে সবচেয়ে বেশি। তা ছাড়া অক্টোবরে ৫% থাকায় তা ছিল রিজার্ভ ব্যাঙ্কের বেঁধে দেওয়া সীমার মধ্যে। ফলে আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়ল আগামী ঋণনীতিতে শীর্ষ ব্যাঙ্ক-কর্তা রঘুরাম রাজনের সুদ কমানোর পথে হাঁটার সম্ভাবনা। উল্লেখ্য, রিজার্ভ ব্যাঙ্ক তার ঋণনীতি স্থির করার সময়ে খুচরো মূল্যবৃদ্ধিকেই গুরুত্ব দেয়।
এ নিয়ে পরপর চার মাস ধরেই খুচরো মূল্যবৃদ্ধির পারা চড়ছে। খুচরো বাজারে নভেম্বরে খাদ্য সামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধি ৬.০৭%। অক্টোবরে ছিল ৫.২৫%। তার মধ্যে ডালের দর বেড়েছে ৪৬.০৮%। শাক-সব্জি দ্বিগুণ বেড়ে ছুঁয়েছে ৪%, ফল ২.০৭%। মাছ-মাংস ৫.৩৪%।
ইন্ডিয়া রেটিংস অ্যান্ড রিসার্চ-এর মুখ্য অর্থনীতিবিদ দেবেন্দ্র কুমার পন্থ অবশ্য বলেছেন, এটা প্রত্যাশিত। কারণ মূলত আগের বছরের চড়া হারের উপর হিসাব করার কারণেই মূল্যবৃদ্ধি স্বস্তিজনক অবস্থায় ছিল। তার প্রভাব ক্রমেই কেটে যাচ্ছে। বণিকসভা অ্যাসোচ্যাম-ও বলেছে, এটা আগে থেকে আন্দাজ করা গিয়েছিল। তবে এর পরেও সুদ কমানোর সযোগ রয়েছে। ফিকি বলেছে, শিল্পে লগ্নি আরও বাড়ার জন্য সুদের হার কমা প্রয়োজন। আর, লগ্নি বাড়লে মূল্যবৃদ্ধি কমতে পারে।