পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের জেরে তেলের জোগান ধাক্কা খেয়েছে সারা বিশ্বে। ভারত-সহ বিভিন্ন দেশ ইতিমধ্যেই সঙ্কট মোকাবিলায় একাধিক পদক্ষেপ করেছে। এই পরিস্থিতিতে অশোধিত তেল থেকে তৈরি পেট্রল, ডিজ়েল-সহ বিভিন্ন জ্বালানির চাহিদা কমাতে একগুচ্ছ সুপারিশ করল আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থা (আইইএ)। তার মধ্যে রয়েছে— সম্ভব হলে বাড়ি থেকে অফিসের কাজ চালানো, উড়ানে সফর কমিয়ে আনা, গণপরিবহণে কিংবা একটি গাড়িতে অনেকে মিলে যাতায়াতে উৎসাহ, যানবাহনের গতি কমানো ইত্যাদি।
আইইএ-র বার্তা, বর্তমানে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে যে জোগান-সঙ্কট তৈরি করেছে, তা বৃহত্তম। আগে কখনও এতটা টালমাটাল অবস্থা দেখা যায়নি। সারা বিশ্বে এর প্রভাব পড়ছে। হরমুজ় প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ হওয়াই যার কারণ। এর জেরেই বিশ্ব বাজারে অশোধিত তেলের দর ব্যারেল পিছু ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। দামি হয়েছে সেই তেল শোধন করে তৈরি জ্বালানিগুলিও। বিশেষত ডিজ়েল, বিমান জ্বালানি এটিএফ, এলপিজি। বিপাকে পড়েছে ভারতের মতো দেশ, যারা ঘরোয়া চাহিদার বেশির ভাগটাই মেটায় আমদানি করে। গোটা বিষয়টি আশঙ্কাজনক এবং আমজনতা, ব্যবসা, সর্বোপরি বৃহত্তর অর্থনীতিতে আঘাত করতে পারে বলে সতর্ক করেছে আইইএ। এই প্রেক্ষিতেই বিভিন্ন দেশের সরকার, ব্যবসা এবং গৃহস্থকে জ্বালানির চাহিদা কমাতে ১০টি প্রস্তাব দিয়েছে তারা। যা সেগুলির দাম কমাতেও সাহায্য করবে। সুপারিশগুলি হল—
- সপ্তাহে অন্তত তিন দিন বাড়ি থেকে অফিসের কাজ করা।
- অত্যাবশ্যক না হলে এলপিজি-র ব্যবহার এড়ানো।
- জাতীয় সড়কে গাড়ির গতিবেগ ঘণ্টায় ১০ কিলোমিটার কমানো।
- বড় শহরে রবিবারকে গাড়িমুক্ত দিন ঘোষণা কিংবা নম্বরের ভিত্তিতে চলাচলের ব্যবস্থা।
- উড়ানে সফর কমানো। দ্রুত গতির রেল ব্যবহার।
- ব্যক্তিগত গাড়ির পরিবর্তে গণপরিবহণে যাতায়াতে উৎসাহ দেওয়া। অনেকে মিলে একটি গাড়িতে যাতায়াত।
- বিশ্বের প্রধান শহরগুলিতে ব্যক্তিগত গাড়ির প্রবেশাধিকার সীমিত করা।
- সরকারি ভাবে তেলের মজুতের সঠিক উপায়ে ব্যবহার।
- শিল্প-কাজে জ্বালানি সাশ্রয়ে জোর।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)