সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

শেয়ারে সাবধানে পা

সেনসেক্সকে ৪১,০০০ থেকে ২৫,০০০-এ নেমে আসতে দেখে শিরদাঁড়া দিয়ে বয়ে গিয়েছিল ঠাণ্ডা স্রোত। এখন তা ফের গতি পেলেও, অনিশ্চয়তা বহাল। এক দিন কিছুটা পড়ছে তো পরের দিনই উঠছে। এই নড়বড়ে বাজারে দাঁড়িয়ে শেয়ারে লগ্নির পরামর্শ দিলেন অদিতি নন্দী

share market

গেল গেল রব উঠেছিল শেয়ার বাজারে। মার্চের শুরুর দিকে। করোনা তখনও ভারতে সে ভাবে থাবা বসায়নি। অথচ অন্যান্য দেশে তার হানায় ভারতে ধরাশায়ী শেয়ার সূচক সেনসেক্স ও নিফ্‌টি। লগ্নিকারীরা জানতে চাইছিলেন কী করবেন এই অবস্থায়? হাতে শেয়ার ধরে রাখবেন, নতুন করে শেয়ার কিনবেন, নাকি বেচে বেরিয়ে যাবেন? তার পরে দীর্ঘ লকডাউন পেরিয়ে যখন ভারতের পা আনলক পর্বে, তখন বাজারে কিছুটা গতি ফিরেছে ঠিকই। কিন্তু ওই প্রশ্নগুলো একই রকম ভাবে চেপে বসে লগ্নিকারীর মনে। যার কারণ চারপাশের তীব্র অনিশ্চয়তা এবং পেন্ডুলামের মতো সূচকের ওঠানামা।  এটা ঠিক যে সূচকের পতন ভয় ধরায়। কিন্তু তা সুযোগও তো দেয় কম দামে শেয়ার ঘরে তোলার। তবে কোন সংস্থার শেয়ার, সেটা বোঝা জরুরি। কিন্তু তার জন্য পরিস্থিতি বিচার করে, সময় বুঝে এবং বিশ্লেষণ করে পা ফেলা প্রয়োজন। আজ দেখব সেটাই।

 

সূচকের ওঠাপড়া

প্রথমেই বুঝতে হবে কখন শেয়ারে লেনদেন করবেন। সেই অনুযায়ী ঠিক হবে শেয়ার কিনবেন, বেচবেন নাকি ধরে রাখবেন। এ জন্য চোখ রাখব সূচকের ওঠাপড়ায়। যদি বছর বারো পিছোই, সেই ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বর দিয়ে শুরু। লেম্যান ব্রাদার্সের পতন, মার্কিন মুলুকে মন্দার ঢেউ আছড়ে পড়া বিশ্ব জুড়ে। ভারতে ২১,০০০ থেকে ছ’মাসে সেনসেক্সের ৮০০০-এর ঘরে পিছলে যাওয়া। তবে তার পরে দফায় দফায় ঘুরে দাঁড়িয়েছে সূচক। এ বছর জানুয়ারিতে পৌঁছেছে ৪২,০০০-এর ঘরে। যাত্রাপথে বড় পতন বলতে হাজার পাঁচেক পয়েন্ট, তা-ও লম্বা সময় নিয়ে। ২০১৮ সালের দ্বিতীয়ার্ধে একবারই ৩৫০০ পয়েন্টের মত নেমেছিল সেনসেক্স। কিন্তু ঘুরে দাঁড়াতে ছ’মাসের বেশি সময় লাগেনি। 

এত কথা বলার একটাই কারণ। করোনার আবহে মার্চে শেয়ারের বিপুল পতন দেখেছি ঠিকই। কিন্তু তার আগে পর্যন্ত সেনসেক্সের দৌড় অস্বাভাবিক ছিল। দেশের অর্থনীতি হোঁচট খেলেও,  সূচক তেমন পড়েনি। এত বছর ধরে এতটা টানা উত্থানের পরে অন্তত এক তৃতীয়াংশ পতন না-হলে, তাকে সংশোধন বলা যায় না। ভিতটা নড়বড়ে হয়ে থাকে। করোনা সেই ভিত পোক্ত করার কাজটাই করেছে কিছুটা। ৪২,০০০ থেকে সূচককে ২৫,০০০-এর ঘরে নিয়ে গিয়ে এবং তার পর আবার তাকে ৩৮,০০০-এ টেনে তুলে।

এখনও কিছু সংশোধন বাকি। অন্তত মাঝারি মাপের। বাজার এখন অস্থির। ফলে সেই সংশোধন কবে হবে সেটাই দেখার বিষয়। সেই মতো লগ্নির সিদ্ধান্তও নিতে হবে।

 

তা হলে কী দাঁড়াল

এতটা পড়ে অনেকেই হয়তো বলবেন, সে তো না-হয় বুঝলাম। কিন্তু আমি করব কী? দেখুন, সোজা কথায় কে কী করবেন, বলা সম্ভব নয়। কারণ প্রত্যেক লগ্নিকারীর ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষমতা, পুঁজির জোর, শেয়ার ধরে রাখার সুযোগও আলাদা আলাদা। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনটি সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে—

প্রথমত, যাঁরা মার্চে সেনসেক্স ২৫,০০০-এ নামার সময়ে ঠিকঠাক শেয়ার কিনেছেন,  তাঁরা যদি লাভের লক্ষ্যে পৌঁছে থাকেন তা হলে তা বিক্রির কথা ভাবতে পারেন।

দ্বিতীয়ত, যাঁরা অনেক আগে থেকেই দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগ করে রেখেছেন, তাঁরা সংস্থা বিশেষে বিক্রির কথা ভাবতে পারেন। 

তৃতীয়ত, যাঁরা অনিশ্চিত বাজারকে হাতিয়ার করে শেয়ারে লগ্নি করতে চান, তাঁরা আর একটু বাজার পড়ার জন্য অপেক্ষা করতে পারেন। তবে সে ক্ষেত্রে শেয়ার কী করে বাছাই করতে হবে, সেই পদ্ধতি এবং কোন শিল্পের কী অবস্থা জানতে হবে। সেই কাজটাই করি চলুন।

 

কী এড়াবেন, কী রাখবেন

শাপে বর

করোনার জেরে কিছু শিল্পের শাপে বর হয়েছে। এদের পণ্য বা পরিষেবার চাহিদা বা বিক্রি তো বেড়েইছে। তার সঙ্গে উন্নতিরও সম্ভাবনা রয়েছে। আর তার হাত ধরেই চাঙ্গা রয়েছে এই সব শিল্পের সংস্থাগুলির শেয়ার দর। এগুলির মধ্যে আছে—

 

ওষুধ ও স্বাস্থ্য পরিষেবা

• করোনার ওষুধ বা টিকা আনার চেষ্টাই হোক অথবা রোগীকে চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া, এই দুই ক্ষেত্রের উপরে নির্ভরশীল মানুষের বাঁচা-মরা এবং অর্থনীতি স্বাভাবিক হওয়া।

• শুধু তৈরি ওষুধ নয়। তা তৈরির এপিআই রফতানিতেও এগিয়ে এসেছে সংস্থাগুলি।

• চাহিদা বাড়ছে পরীক্ষাগার ও হাসপাতালের বিভিন্ন সরঞ্জামের।

• হাসপাতাল সংস্থার হালও ভাল।

 

ভোগ্যপণ্য ও ব্যক্তিগত সুরক্ষা

• করোনার কারণে বেড়েছে স্যানিটাইজার, সাবানের ব্যবহার।

• জীবাণুনাশকের চাহিদা বাড়ার হাত ধরে ব্যবসা বাড়ছে সংস্থাগুলির।

 

তৈরি খাবার ও খাদ্যপ্রক্রিয়াকরণ

• চাহিদা বাড়ছে ব্র্যান্ডেড খাদ্যপণ্যের।

• বাড়িতে মজুতের সুবিধার কারণে ক্রেতারা ঝুঁকছেন প্যাকেটবন্দি প্রক্রিয়াজাত তৈরি খাবারের দিকে।

 

প্রযুক্তি ও যোগাযোগ

• বাড়ি থেকে অফিসের কাজ ও পড়াশোনার কারণে চাহিদা বেড়েছে, ল্যাপটপ, ডেস্কটপ, রাউটার, স্মার্ট ফোনের মতো পণ্যের।

• বিভিন্ন প্রযুক্তি পরিষেবা সংস্থাগুলির চাহিদা বাড়ছে ক্রমশ।

 

ই-কমার্স ও সাপ্লাই চেন

• লকডাউন ও পারস্পরিক দূরত্ব বজায় রাখার চেষ্টায় বাড়িতে থেকেই কেনাকাটা বাড়ছে। যে কারণে চাহিদা বাড়ছে ই-কমার্স বা অনলাইনে  পণ্য বিক্রেতা সংস্থার।

• মানুষ যখন যোগাযোগ কমাতে বাধ্য হচ্ছেন, তখন আরও বেশি করে জরুরি হচ্ছে সাপ্লাই চেন ব্যবস্থা। অর্থাৎ পণ্য পরিবহণ সংস্থাগুলি। উৎপাদক ও ব্যবহারকারীর মধ্যে সংযোগ স্থাপন করা যাদের কাজ।

 

বেকায়দায়

কিছু ব্যবসা রয়েছে, করোনার যাদের প্রায় শয্যাশায়ী করেছে। কবে তারা উঠে দাঁড়াবে এখনই বোঝা যাচ্ছে না। ফলে এই সব সংস্থার শেয়ার দরে দিতে হবে বাড়তি নজর। যেমন—

 

বিমান পরিষেবা

• লকডাউনে পরিষেবা বন্ধ থাকা ও পরে তা চালু হলেও কম যাত্রী নিয়ে ওড়ায় ধাক্কা লেগেছে সংস্থাগুলিতে।

• বড় চুক্তি থেকে শুরু করে সংস্থার দৈনন্দিন কাজ— সবই বাড়ি থেকে অনলাইনে, ভিডিয়ো কনফারেন্সে হচ্ছে। ফলে বাণিজ্যিক বিমানের প্রয়োজন আপাতত উধাও।

 

পর্যটন

• ট্রেন, প্লেন বন্ধ। মানুষ প্রায় ঘরবন্দি। ফলে যে সব সংস্থা সব থেকে বেশি বিপর্যস্ত, তাদের অন্যতম পর্যটন।

• আপৎকালীন প্রয়োজন ছাড়া হোটেলের ব্যবহার নেই আপাতত। অনেকে কোয়ারেন্টাইন পরিষেবা দিয়ে ভেসে থাকার চেষ্টা করছেন।

 

গাড়ি শিল্প

• গণ পরিবহণ এড়াতে অনেকে গাড়ি কিনছেন ঠিকই। তবে বেশিরভাগটাই ছোট ও কমদামি চার বা দু’চাকার। নতুন বিলাসবহুল গাড়ি কিনছেন না প্রায় কেউ। ফলে সংস্থাগুলির হাল ফেরা নিয়ে সংশয় থাকছে।

 

সিনেমা, রেস্তোরাঁ ও শপিং মল

• হলে সিনেমা দেখা, শপিং মলে কেনাকাটা, খাওয়াদাওয়া বন্ধ। ভুগছে মাল্টিপ্লেক্স ও রিটেল চেন ব্যবসা।

• স্বাস্থ্য বিধি মানতে গিয়ে সিনেমা তৈরি প্রায় বন্ধ। রিলিজ়ও হচ্ছে শুধু অনলাইনে। যে কারণে এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন সংস্থা ক্ষতিগ্রস্ত।

• রেস্তরাঁ খুললেও অনেকেই বসে খেতে উৎসাহী নন। অগত্যা আপাতত অনলাইন ডেলিভারিই বাঁচার পথ।

 

ফ্যাশন ও লাইফস্টাইল

• বিয়ের মরসুমে দেশে পোশাক, সোনার গয়নার মতো পণ্যের চাহিদা বাড়ে। কিন্তু সেই গুড়ে বালি।

• কমেছে প্রসাধন বিক্রি। ধাক্কা বিউটি পার্লার, স্পা-এর মতো পরিষেবায়।

 

রফতানি নির্ভর ব্যবসা

• সংক্রমণের কারণে বিদেশে যাতায়াতে বসেছে নিষেধাজ্ঞা। আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্য-পরিষেবার চাহিদাও কমেছে। যার জের পড়েছে ভারতের রফতানি শিল্পে।

• মার্কিন মুলুকে ভিসার নিয়ম বদলানোয় বহু সংস্থা ব্যবসায়িক মডেল পাল্টাতে বাধ্য হচ্ছে।

 

কিছুটা সামলে

তবে মনে রাখতে হবে, করোনা যত ক্ষতিই করুক, খারাপ সময় চিরকাল থাকবে না। তাই এমন কিছু শিল্পের খোঁজ নেওয়া যাক, যারা করোনার ওপর বেশি নির্ভরশীল নয় বা যাদের সাময়িক ক্ষতি এড়িয়ে লাভে ফিরতে খুব একটা দেরি হবে না।

 

ভারী শিল্প ও পরিকাঠামো

• বিদ্যুতের মতো কিছু ক্ষেত্রের চাহিদা কমেছে শিল্পের কর্মকাণ্ড পুরো না-খোলায়। তবে এগুলি অত্যাবশ্যকীয় পরিষেবা হওয়ায় ফিরে আসা অন্যদের চেয়ে সহজ।

• চিন থেকে সংস্থাগুলি ভারতে সরলে, তার সুবিধা নেওয়ার সুযোগ পাবে উৎপাদন, পরিকাঠামো এবং ইঞ্জিনিয়ারিং সংস্থাগুলি।

• সিমেন্ট, ইস্পাতের মতো পরিকাঠামো শিল্পের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রে উৎপাদন ধাক্কা খাচ্ছে ঠিকই। কিন্তু পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এদের ফিরে আসাও তুলনায় সহজ।

 

ব্যাঙ্কিং ও আর্থিক পরিষেবা

• ব্যাঙ্ক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলিতে প্রযুক্তির ব্যবহার বেড়েছে। বাড়ি থেকেই পরিষেবা নিচ্ছেন অনেকে।

• তবে করোনায় বহু ব্যবসা মুখ থুবড়ে পড়ায় ব্যাঙ্কে অনুৎপাদক সম্পদ বাড়ার ভয় আছেই। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক ঋণ পুনর্গঠনের সায় দেওয়ায়, সেই ভবিতব্য পাল্টায় কি না, দেখতে হবে।

করোনা বিশ্ব ও দেশের অর্থনীতির, সেই সঙ্গে শেয়ার বাজারের অভূতপূর্ব একটা ছবি আঁকছে। ফলে কোনও সংস্থার শেয়ারে লগ্নির আগে জানতে হবে কোন শিল্পের বর্তমান অবস্থা এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা কী রকম।

 

কী দেখে শেয়ার

শিল্প ক্ষেত্র তো বাছাই হল। এ বার আসবে সংস্থা বাছাইয়ের প্রশ্ন। মনে রাখতে হবে, শেয়ার বাছাই শেয়ারে বিনিয়োগের চিরকালীন প্রথম পাঠ। যে বিনিয়োগে ঝুঁকি বিস্তর। তাই লগ্নির আগে ঝুঁকি ও লাভের সম্পর্কটা বোঝার পালা। আর ষোলআনা বুঝে, অঙ্ক কষে তবেই হাত বাড়াতে হবে। এটা করার সহজ উপায় সংস্থার হিসেবের খাতায় চোখ রাখা। হিসেবের পুরো অঙ্ক দেখা বা বোঝা হয়তো সকলের পক্ষে সম্ভব নয়। তবে কিছু বিষয় রয়েছে, যেটা যাচাই করে নিলে সব কুশল-মঙ্গল হয়।

 

আর্নিংস পার শেয়ার (ইপিএস): সোজা বাংলায় শেয়ার পিছু সংস্থা কত আয় করছে, তার হিসেব। যেটা দেখে বোঝা যাবে, সংস্থাটির শেয়ার লাভ দিচ্ছে কি না। শেয়ার প্রতি আয় শূন্যের তলায় অথবা ঋণাত্মক হওয়ার মানে লোকসান হচ্ছে। আর তার বেশি হলে সংস্থা লাভ করছে। এই অনুপাত যত বেশি হবে, মুনাফাও তত বেশি। সাধারণত বলা হয়, তিন অঙ্কের ইপিএস খুঁজে বিনিয়োগ করতে পারলে ঝুঁকি অনেকটা এড়ানো যায়।

 

প্রাইস আর্নিংস (পিই) রেশিয়ো এবং প্রাইস টু বুক ভ্যালু (পিবি) রেশিয়ো: এই দু’টি অনুপাত বুঝিয়ে দেয় সংস্থাটির বাজারদর বেশি না ঠিকঠাক। বাজারদরকে যথাক্রমে শেয়ার প্রতি আয় ও খাতায়কলমে দামের (বুক ভ্যালু) সঙ্গে তুলনা করে এই অনুপাত দু’টি বার করা হয়। অধিকাংশ সংস্থার ক্ষেত্রে পিই যদি ৫০ ছাড়ায়, তবে সেই শেয়ার দামি বলে ধরতে হবে।

পিবি ১ মানে আদর্শ বাছাই। সংস্থা যদি কোনও কারণে পাততাড়ি গোটায়, তবে পিবি ১ হওয়ার অর্থ— লগ্নির পুরোটাই ফেরত পাওয়া যাবে। কিন্তু ৩-এর বেশি হলে সাবধান। ভোগ্যপণ্য ও ওষুধ শিল্প অবশ্য ব্যতিক্রম।

 

ডেট ইকুইটি ও ইন্টারেস্ট কভারেজ রেশিয়ো: এই দু’টি অনুপাত বলে সংস্থার ঋণ তার নিয়ন্ত্রণে কি না! ডেট ইকুইটি রেশিয়ো ১ মানে সংস্থার ঋণ মোট ঋণ মূলধনের সমান। ইন্টারেস্ট কভারেজ রেশিয়ো বলে সংস্থাটি যা সুদ দেয়, তার কত গুণ মুনাফা করে।

বিটা এবং আলফা: ‘বিটা’ কোনও সংস্থার ঝুঁকি মাপে। বিটা ১ মানে তার ঝুঁকি বাজারের মোট ঝুঁকির সমান। বিটা ১ এর কম হলে সংস্থাটি রক্ষণাত্মক, ১ এর বেশি হলে উল্টো। ১.৪-এর বেশি হলে ধরে নেব সংস্থাটির শেয়ারে একটু বেশি ঝুঁকি আছে । ০.৬ এর কম হলে ধরতে হবে তার দাম খুব কম সময়ে বাড়বেও না, কমবেও না।

হঠাৎ পরিস্থিতি খারাপ হলে সংস্থার ঝুঁকি কতটা বেড়েছে, তা বলে দেয় আলফা। সংস্থার সম্ভাব্য এবং বাস্তব রিটার্নের তফাতের ভিত্তিতে মাপা হয়। একে কাটানোর রাস্তা বিভিন্ন সংস্থায় ভাগাভাগি করে লগ্নি (ডাইভার্সিফিকেশন)। তবে এ বছর করোনার জন্য বহু সংস্থায় আলফার দেখা মিলবে। ফলে লগ্নি করতে হবে বুঝেশুনে ও লাভ দেখে।

 

অন্যান্য পথে শেয়ারে

দৈনন্দিন শেয়ার বাজার বা ফান্ড ছাড়াও শেয়ারে লগ্নির কিছু পথ হল—

• সংস্থার প্রথম বার বাজারে শেয়ার ছাড়ার (আইপিও) সময় লগ্নি।

• এফপিও-তে শেয়ার কেনা।

• ইতিমধ্যেই যে সংস্থার শেয়ারে লগ্নি করা হয়েছে, বাজারে তার ছাড়া রাইটস ইসুতে টাকা ঢাললে।

• রিয়েল এস্টেট ইনভেস্টমেন্ট ট্রাস্ট (আরইআইটি) মারফত।

প্রতি ক্ষেত্রেই সংস্থা বাছাইয়ে সতর্ক হওয়া জরুরি। তবে আইপিও-য় সংস্থা নতুন হওয়ায় আরও বেশি।

 

লেখক শেয়ার বাজার বিশেষজ্ঞ

(মতামত ব্যক্তিগত)

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন