গত নভেম্বরে নেমেছিল ০.৭১ শতাংশে। ডিসেম্বরে খুচরো মূল্যবৃদ্ধির হার ফের মাথা তুলে হয়েছে ১.৩৩%। যা তিন মাসে সর্বোচ্চ। সোমবার পরিসংখ্যান মন্ত্রকের হিসাব অনুযায়ী, এর জন্য দায়ী মূলত ভোজ্যতেল, ফল, মাছ, মাংস, ডিম, চিনি, মশলা, চকোলেট-কেকের মতো মিষ্টি জাতীয় হালকা খাবার-সহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্যের বেড়ে যাওয়া দাম। কিছুটা চড়েছে শ্যাম্পু-সাবানের মতো ব্যক্তিগত ব্যবহারের ভোগ্যপণ্যগুলিও।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এই হার খুব বেশি নয়। তবে ফের তা উপরের দিকে মুখ তোলায় উদ্বেগ বাড়ল। তার উপর টানা দু’মাস ধরে তা ঊর্ধ্বমুখী। খাদ্যপণ্যের মূল্যহ্রাসের হারও কমছে। আমেরিকার শুল্ক, ধাক্কা খাওয়া রফতানি, টাকার অবমূল্যায়ন, ভূ-রাজনৈতিক সঙ্কটে মূল্যবৃদ্ধি চড়ার আশঙ্কা আগেই প্রকাশ করেছিলেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁদের দাবি, খাদ্যপণ্যের মূল্যহ্রাসের হার যত কমছে, তত বাড়ছে মূল্যবৃদ্ধির হার (সঙ্গের সারণিতে)। তবে কেন্দ্রের হিসাবে আনাজ ও ডালের দর আগের মতোই কমেছে।
যদিও বহু দিন ধরে অভিযোগ উঠছে, পণ্যের দাম কমেছে সরকারি খাতায়। বাস্তবের সঙ্গে সেই হিসাব মিলছে না। এই সুর আরও চড়ে ভারতের জিডিপি ও মূল্যবৃদ্ধি হিসাবের তথ্য নিয়ে আইএমএফ সন্দেহ প্রকাশ করায়। তার পরেই কেন্দ্র জানায়, ফেব্রুয়ারি থেকে বদলাচ্ছে জিডিপি, মূল্যবৃদ্ধি, শিল্পবৃদ্ধির ভিত্তিবর্ষ (২০১১-১২)। মূল্যবৃদ্ধির হবে ২০২৪। তথ্য বেরোবে ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে।
আইসিএআই-এর প্রাক্তন পূর্বাঞ্চলীয় চেয়ারম্যান অনির্বাণ দত্তের দাবি, ‘‘রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্ককে সতর্ক থাকতে হবে। নতুন ভিত্তিবর্ষ অনুযায়ী পরিসংখ্যান এলে দামের প্রকৃত ছবি মিলবে। তবে জিএসটি কমার পুরো সুবিধা ক্রেতারা পাননি। তাঁদের যতটা দাম গুনতে হচ্ছে, তা কেন্দ্রের খাতায় দেখা যাচ্ছে না। ভূ-রাজনৈতিক সমস্যা, শুল্ক দামের চাপ বহাল রাখতে পারে।’’ অর্থনীতিবিদ অজিতাভ রায়চৌধুরী বলেন, ‘‘তথ্য বলছে, ডিসেম্বরের মূল্যবৃদ্ধির কারণ মূলত ভোগ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি। কিন্তু এগুলির দাম তো জিএসটি কমায় নেমেছিল জানতাম। বাস্তবটা তা হলে আলাদা। ফল-ডিমও বেড়েছে।’’ তাঁর অবশ্য বক্তব্য, ১.৩৩% কমই। মার্চেন্টস চেম্বারের অর্থনীতি বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান স্মরজিৎ মিত্রেরও মন্তব্য, “মূল্যবৃদ্ধি মাথা তুললেও চিন্তার কিছু নেই। তা আরবিআইয়ের পদক্ষেপ করার মতো নয়। বাজেটে দাম নিয়ন্ত্রণে রেখে চাহিদা বৃদ্ধিতে নজর দেওয়া হতে পারে।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)