সারা জীবন তিল তিল করে টাকা জমাতে দেখেছেন বাবা-মা বা বাড়ির বড়দের। লক্ষ্য ছিল একটাই যাতে অবসরের পর একটা নিশ্চিন্ত জীবন পাওয়া যায়। কিন্তু এ কালের ২০ বা ৩০-এর কোঠার থাকা তরুণ-তরুণীরা বিষয়টিকে একটু অন্যভাবে ভাবছেন। সুদূর ভবিষ্যতে কী হবে না হবে, তা ভেবে আর তাঁরা কৃচ্ছ্রসাধন করছেন না। তার বদলে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন বর্তমানে ভাল ভাবে বাঁচায়। তাঁদের কাছে একটু বেশি খরচ করে একটা ভাল পাব বা রেস্তরাঁয় বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দেওয়াটা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বৃদ্ধবয়সে আরামের বিছানার থেকে। আর এই জীবনদর্শনের নামই হলো ‘সফ্ট সেভিংস’।
‘সফ্ট সেভিংস’ আসলে কী?
সহজ কথায়, সঞ্চয়ের পরিমাণ কিছুটা কমিয়ে দিয়ে নিজের শখ মেটানো, মানসিক শান্তি হবে এমন কাজ করা বা বর্তমানে ভাল ভাবে বাঁচার জন্য খরচ করাই হল সফ্ট সেভিংস। এর মানে এই নয় যে টাকা জমাবেন না। তবে সঞ্চয়ের জন্য ভাল খাওয়া, ভাল পরা ত্যাগ করার মতো কৃচ্ছ্রসাধনও করবেন না। ৬০ বছর বয়সে গিয়ে দামি গাড়ি কেনার চেয়ে ২৫ বছর বয়সে পাহাড়ে ট্রেকিং বা পছন্দের ক্যাফেতে গিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো এঁদের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। জিমে যাওয়া, থেরাপি নেওয়া বা নিজের কোনো শখের কাজে (যেমন গান বা ছবি আঁকা) টাকা খরচ করাকে এরা অপচয় নয়, বরং বিনিয়োগ হিসেবে দেখেন। আর সঞ্চয়ের ব্যাপারে এই নমনীয় মনোভাবই হল সফ্ট সেভিংস।
কেন বাড়ছে এই ট্রেন্ড?
১. অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ: অতিমারি এবং বিশ্বজুড়ে চলা অর্থনৈতিক অস্থিরতা মানুষকে শিখিয়েছে যে জীবন ছোট। আগামীকাল কী হবে, তা কেউ জানে না, তাই ভাল ভাবে বাঁচা দরকার।
২. মানসিক ক্লান্তি :কর্পোরেট ইঁদুরদৌড়ে টিকে থাকতে গিয়ে তরুণ প্রজন্ম প্রচণ্ড ক্লান্ত হয়ে পড়ছে এ কালে। তাই কঠোর সঞ্চয় করে নিজেদের ছোটখাটো আনন্দ থেকে বঞ্চিত রাখতে তারা নারাজ।
৩. অর্থ নয় মুহূর্ত: ফ্ল্যাট বা গয়না জমানোর চেয়ে বেড়ানো বা নতুন কোনো কাজ শেখার মতো ‘অভিজ্ঞতা’ সঞ্চয়েই বেশি আগ্রহী এ যুগের প্রজন্ম। তারা অর্থের চেয়ে জীবনের অভিজ্ঞতা আর সুন্দর মুহূর্তকে বেশি দামি বলে মনে করে।
সফ্ট সেভিংস -এর ভাল ও মন্দ
ইতিবাচক দিক: মানসিক চাপ কমায় এবং বর্তমান জীবনকে অনেক বেশি অর্থবহ করে তোলে। টাকা জমানোর চাপে নিজেকে ‘বঞ্চিত’ বলে মনে হয় না।
উল্টো পিঠ: সফ্ট সেভিংস ভাল, তবে আপৎকালীন পরিস্থিতিতে মোটা টাকার দরকার হলে জোগান পাওয়ার জন্য ন্যূনতম সঞ্চয়টুকু রাখা জরুরি। তাই সঞ্চয় এবং বর্তমানে ভাল ভাবে বাঁচার দর্শনের মধ্যে একটা সূক্ষ্ম ভারসাম্য রাখা জরুরি।