বেশ কিছু দিন ধরেই দেশে সাধ্যের আবাসন বিক্রি বাড়াতে উদ্যোগী হওয়ার দাবি জানাচ্ছে নির্মাণ সংস্থাগুলি। তাদের মতে, বিলাসবহুল ও দামি ফ্ল্যাট-বাড়ির বিক্রি বাড়লেও, সেগুলির ক্রেতা সীমিত। ব্যবসা বাড়ে মূলত তুলনায় কম দামিগুলির চাহিদায় ভর করে। চড়তে থাকা খরচের নিরিখে আয় তেমন না বাড়ায় যে বাজার থেকে মুখ ঘুরিয়েছেন অধিকাংশ মধ্যবিত্ত ক্রেতা। শুক্রবার নির্মাণ শিল্পের সংগঠন নারেডকোর বার্তা, গৃহঋণে সুদ কমছে। এখন সাধ্যের আবাসনের বিক্রি বাড়াতে প্রচারে নামুক সরকার। সংগঠনের সভাপতি প্রবীণ জৈনের মতে, এ জন্য শিল্পকে আর্থিক সহায়তা দিলেও কাজ হবে। আগে অপর সংগঠন ক্রেডাই বলেছিল, সাধ্যের আবাসনের চাহিদা না বাড়লে এই ক্ষেত্রের মাথা তোলা মুশকিল।
সাধারণত ৪০ লক্ষ টাকার মধ্যে থাকা ফ্ল্যাট-বাড়িকে সাধ্যের তকমা দেওয়া হয়। মনে করা হয়, এগুলি মধ্যবিত্তের নাগালের মধ্যে। তাই তাঁরা কেনেন বেশি। উপদেষ্টা নাইট ফ্র্যাঙ্কের তথ্য বলছে, এই সব ফ্ল্যাটের বিক্রি কমেছে। বেড়েছে দামিগুলির। করোনা থেকে সঙ্কটের শুরু। ২০২০-তে সাধ্যের আবাসন বিকিয়েছিল ২৮,০০০।
ক্রেডাই ওয়েস্ট বেঙ্গলের সভাপতি সুশীল মোহতার মতে, ক্রেতাদের আর্থিক সহায়তা ও কম সুদে ঋণ দেওয়া জরুরি। সাধ্যের আবাসনের অধীনে আরও বেশি দামেরগুলিকে এনে বাড়তি সুবিধা দিলেও বিক্রি বাড়তে পারে। নারেডকোর চেয়ারম্যান নিরঞ্জন হিরানন্দানির আশঙ্কা, ‘‘সার্বিক বিক্রিতে সাধ্যেরগুলির ভাগ কমেছে। ক্রেতা-বিক্রেতাকে উৎসাহিত করতে হবে সরকারকে। বদলাতে হবে সংজ্ঞা।’’
শিল্পের দাবি, নির্মাণের খরচ বেড়েছে। তাই ৭৫ লক্ষ পর্যন্ত দামের আবাসনকেও সাধ্যের তকমা দেওয়া হোক। নাইট ফ্র্যাঙ্কের দাবি, আট বড় শহরে ২০২৩-এর জুলাই-ডিসেম্বরে বিক্রীত ৩.৩০ লক্ষের মধ্যে সাধ্যের আবাসন ছিল ৩০%। গত বছর ৩.৫ লক্ষের মধ্যে ২১%। সংস্থা কর্তা শিশির বৈজলের মতে, ‘‘সাধ্যের আবাসন বিক্রির হার খুব খারাপ। বিলাসবহুল ও বড়গুলির ব্যবসায় ভর করে বৃদ্ধি হচ্ছে। এটা ঝুঁকির। হাল বদলাতে রাজ্য ও কেন্দ্রকে এগিয়ে আসতে হবে।’’
বিশেষজ্ঞদের মতে, এক সময় সাধ্যের আবাসনের কেন্দ্র কলকাতার ছবিটা দেখলে হাল স্পষ্ট হবে। নাইট ফ্র্যাঙ্ক বলছে, জুলাই-ডিসেম্বরে এখানে এক কোটি বা তার বেশি দামের আবাসন বিকিয়েছে ৪২০২টি। কমের ৪৬০৪টি। এর মধ্যে সাধ্যের ২৮০০টি। পূর্তি রিয়েলটির এমডি মহেশ আগরওয়ালের বার্তা, শহরে কম দামি ফ্ল্যাট-বাড়ির বিক্রি বাড়ানো দরকার।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)