মোবাইলের পরে এ বার বাজি টেলিভিশন।
দৌড়ে এগিয়ে থাকতে কৌশল একই। কম দাম ও সময়ের সঙ্গে তাল মেলানো প্রযুক্তির জোড়া তির মেরে বহুজাতিক মোবাইল ফোন প্রস্তুতকারকদের সঙ্গে টক্কর দিয়েছে বিভিন্ন ভারতীয় সংস্থা। সেই একই অস্ত্রে শান দিয়ে এ বার বৈদ্যুতিন ভোগ্যপণ্যের বাজারে ভিড় জমাচ্ছে মাইক্রোম্যাক্স, কার্বন, ইনটেক্স, রিলায়্যান্স জিও। নজর মূলত টিভির দিকেই। জিও আরও এক ধাপ এগিয়ে দিচ্ছে এ ধরনের স্মার্ট টিভির সঙ্গে নেট যোগাযোগের সুবিধাও।
প্রতিযোগিতার জন্যই প্রতিযোগিতা নয়। এটা টিকে থাকার লড়াইও বটে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধুই মোবাইল ফোনের ব্যবসা নিয়ে ‘ব্র্যান্ড’ হিসেবে লাভজনক থাকা আর আগের মতো সহজ নয়। পরিসংখ্যান অনুযায়ী স্মার্টফোন বিক্রির হার কমছে। বছর তিনেক আগের প্রায় ৪০% বৃদ্ধির হার তো দূর অস্ত্। গত বছরের ২০% থেকেও তা চলতি বছরে নেমে দাঁড়িয়েছে অর্ধেকের কমে। ইন্টারন্যাশনাল ডেটা কর্পোরেশন (আইডিসি) ইন্ডিয়া-র তথ্য অনুযায়ী ২০১৬-র জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত স্মার্টফোন বিক্রি ৮% কমেছে।
এর পাশেই ফুটে উঠেছে আর একটা ছবি। ভারতে বৈদ্যুতিন ভোগ্যপণ্যের বাজার ৬৭,০০০ কোটি টাকার বেশি। এর মধ্যে টেলিভিশনের বাজার প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকার। বিশেষজ্ঞ সংস্থা আর্নস্ট অ্যান্ড ইয়ং-এর তথ্য বলছে ১৩ শতাংশের বেশি হারে বাড়ছে বৈদ্যুতিন পণ্যের চাহিদা, যার সিংহভাগ দখল করে রয়েছে টেলিভিশন। সে বাজারের ৭০% দখল করে রয়েছে সোনি, এলজি, স্যামসাং ও প্যানাসোনিক। আর, ঠিক এখানেই ভাগ বসাতে চাইছে ভারতীয় সংস্থাগুলি। মোবাইল বিক্রির ক্ষেত্রেও মহারথীদের কপালে ভাঁজ ফেলে দিয়েছিল একেবারে পেছনের সারি থেকে উঠে আসা মাইক্রোম্যাক্সের মতো ব্র্যান্ড।
তবে শুধুই মারকাটারি কম দামে বিক্রি করে নয়। বাজারে জোরালো উপস্থিতি ও ক্রেতাদের চাহিদা বুঝতে পারার জোরেই তারা টেলিভিশন তৈরিতে নেমেছে বলে দাবি দেশি সংস্থাগুলির। মোট ব্যবসার কতটা টেলিভিশন থেকে পাওয়া যাবে, সেই হিসেব কষেই এগোচ্ছে মাইক্রোম্যাক্স, ইনটেক্স টেকনোলজিস ও কার্বনের মতো সংস্থা। ইনটেক্স কর্তৃপক্ষের মতে, ভবিষ্যতে স্মার্টফোনের বিক্রি আর লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়বে না। ফলে ব্যবসা ছড়িয়ে দেওয়া অবশ্যই জরুরি। মাইক্রোম্যাক্সের অন্যতম কর্তা রাজেশ অগ্রবালের দাবি, টিভির ১০% বাজার ইতিমধ্যেই দখল করেছে তাঁর সংস্থা। আগামী তিন বছরে প্রথম পাঁচ বৈদ্যুতিন ভোগ্যপণ্য সংস্থার অন্যতম হওয়ার লক্ষ্যে সংস্থা এগোচ্ছে বলে তাঁর দাবি। একই ভাবে বাজারে পা রাখার আগেই কার্বনের দাবি, ২০১৭-র শেষে মোট ব্যবসার ২০% জোগাবে টেলিভিশন।
কম দামে ক্রেতা জিতে নেওয়ার কৌশলে তারা ভারতীয় সংস্থাগুলিকে প্রতিযোগিতার মুখে ফেলে দেবে বলে দাবি চিনা সংস্থা লেকো-র। সংশ্লিষ্ট সূত্রের খবর, লাভের দিকে না-তাকিয়েই স্মার্টফোনের মতো স্মার্ট টিভিও বিক্রি করবে সংস্থা। সংস্থার অন্যতম কর্তা অতুল জৈনের দাবি, প্রযুক্তি ও পণ্যের মানের সঙ্গে আপস না-করেই দাম ঠিক করা হবে। প্রযুক্তিকে হাতিয়ার করে এগিয়েছে রিলায়্যান্স জিও। ফোর জি পরিষেবার বাড়তি সুবিধা দিয়ে টিভি ক্রেতার মন জিতে নিতে চাইছে তারা।
হাত গুটিয়ে বসে নেই চিরাচরিত টেলিভিশন নির্মাতারাও। যেমন এল জি বাজারে নিয়ে এসেছে মশা তাড়ানো টিভি। সংস্থার দাবি, এর জন্য কোনও রাসায়নিক লাগবে না। প্রয়োগ করা হবে শব্দ (আলট্রাসাউন্ড) প্রযুক্তি।
সব মিলিয়ে যে-ভাবে স্মার্টফোন আমজনতার হাতের নাগালে এসেছে, ঠিক সে ভাবেই সাধারণ বৈঠকখানাতেও এ বার স্মার্ট টিভি দেখা যাবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট শিল্পমহল।