• সংবাদ সংস্থা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

টেলিকম সচিবের কাছে পেশ রিল জিও-র পরিষেবা চালুর নীল নকশা

বিতর্কের মধ্যেই মাঠে মুকেশ

mukesh ambani

Advertisement

রিলায়্যান্স জিও-র (রিল জিও) পরীক্ষামূলক ভাবে চালু ফোর-জি পরিষেবা কার্যত দু’ভাগ করে দিয়েছে টেলিকম শিল্পকে। তৈরি হয়েছে তুমুল বিতর্ক। এরই মধ্যে শুক্রবার টেলিকম সচিব জে এস দীপকের সঙ্গে দেখা করলেন রিলায়্যান্স ইন্ডাস্ট্রিজের কর্ণধার মুকেশ অম্বানী। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী দিনে রিল জিও-র পরিষেবা সারা দেশে কী ভাবে চালু হবে, সচিবের সামনে এ দিন সেই পরিকল্পনার নীল নকশা তুলে ধরেছেন খোদ মুকেশই। আলোচনা হয়েছে এ নিয়ে দেশজুড়ে তৈরি হওয়া বিতর্ক সম্পর্কেও।

রিলায়্যান্স গোষ্ঠীর সংস্থা রিল জিও-র বিরুদ্ধে টেলিকম সংস্থাগুলির সংগঠন সিওএআই-এর অভিযোগ, এখনও পর্যন্ত রিল জিও নিজেদের পরিষেবাকে পরীক্ষামূলক বলে দাবি করছে ঠিকই। কিন্তু আসলে আইনকে পাশ কাটিয়ে ১৫ লক্ষ গ্রাহককে পুরোদস্তুর পরিষেবা দিচ্ছে তারা। অনেকের আবার অভিযোগ, আসলে ওই সংখ্যা অন্তত ২০ থেকে ৩০ লক্ষ। অথচ শুরুতে শুধুমাত্র নিজেদের কর্মীদের মধ্যে পরীক্ষামূলক ভাবে ফোর-জি পরিষেবা চালুর কথা বলেছিল তারা। সম্প্রতি এ ব্যাপারে
নিজেদের অভিযোগ জানাতে কেন্দ্রীয় টেলিকম সচিবের সঙ্গে দেখা করে এয়ারটেল, ভোডাফোন, আইডিয়ার মতো টেলিকম পরিষেবা সংস্থাগুলির সংগঠন সিওএআই। প্রধানমন্ত্রীর দফতরে চিঠিও দিয়েছিল তারা।

আবার রিল জিও-র পাল্টা অভিযোগ, পরিষেবা চালু করতে তাদের অন্যায় ভাবে বাধা দিচ্ছে পুরনো টেলিকম সংস্থাগুলি। যেমন, মসৃণ ভাবে পরিষেবা দিতে জরুরি ‘পয়েন্ট অব ইন্টার কানেকশন’ (পিওআই) তাদের কাছ থেকে রিল জিও পাচ্ছে না। ফলে ব্যাহত হচ্ছে পরিষেবা। উল্লেখ্য, এক সংস্থার নেটওয়ার্ক থেকে অন্য সংস্থার নেটওয়ার্কে কিংবা গ্রাহকের মোবাইলে কল পৌঁছে দিতে এই পিওআই একান্ত ভাবে দরকারি।

এই পরিস্থিতিতে এ দিন ছেলে আকাশ অম্বানীকে সঙ্গে নিয়ে টেলিকম সচিবের সঙ্গে দেখা করেন মুকেশ। যা এই বিতর্কের আবহে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টমহল।

তার উপর এ দিনই আবার আরও বেশি গ্রাহকের কাছে পরিষেবা ছড়িয়ে দিতে পা বাড়িয়েছে রিল জিও। স্যামসাং এবং এলজি-র সমস্ত ফোর-জি স্মার্ট ফোনেই এ বার তাদের পরিষেবা মিলবে বলে জানিয়ে দিয়েছে মুকেশের সংস্থা। এত দিন যা পাওয়া যেত শুধুমাত্র রিল জিও-র নিজস্ব লাইফ স্মার্ট ফোন এবং স্যামসাঙের কিছু নির্দিষ্ট মোবাইলে। এর ফলে তাদের  সঙ্গে বাকি টেলি সংস্থাগুলির চলতে থাকা চাপানউতোর আগামী দিনে আরও তেতো হওয়ার সম্ভাবনা।

উল্লেখ্য, ডিসেম্বরেই নিজেদের ফোর-জি পরিষেবা সংস্থার কর্মীদের মধ্যে পরীক্ষামূলক ভাবে চালু করে রিল জিও। শীঘ্রই আমজনতার জন্য তা বাজারে আনা হবে বলেও জুলাইয়ে দাবি করেছিল মুকেশ অম্বানীর সংস্থাটি। পরিষেবার জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো গড়তে অন্তত দেড় লক্ষ কোটি টাকা ইতিমধ্যেই লগ্নি করেছে তারা। অনেকের ধারণা, মুকেশের সংস্থা টেলি পরিষেবার বাজারে পুরোদস্তুর পা রাখলে, অনেকটাই বদলে যাবে সমীকরণ। প্রতিযোগিতা হবে হাড্ডাহাড্ডি। নতুন করে শুরু হবে মাসুলের লড়াইও।

অবশ্য দেখা যাচ্ছে, তীব্র লড়াই শুরু হয়ে গিয়েছে ইতিমধ্যেই। আগামী দিনে রিল জিও বাজারে বাণিজ্যিক ভাবে পা রাখার পরে যা আরও জমাট বাঁধার সম্ভাবনা।

সবাই যা পড়ছেন

Advertisement

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন