সম্প্রতি উদ্বেগ বাড়িয়ে ৯০ টাকা পেরিয়েছিল এক ডলারের দাম। তলানি ছোঁয়া ভারতীয় মুদ্রাকে দুর্বলতা কাটিয়ে টেনে উপরে তুলতে অবিলম্বে রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্কের হস্তক্ষেপ চায় সব মহল। অনেকেই প্রায় নিশ্চিত ছিলেন, শুক্রবার রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্কের ঋণনীতিতে টাকার লাগাতার পতন আটকানোর কিছু না কিছু ব্যবস্থা থাকবে। তবে প্রত্যাশা পূরণ হল না। টাকার দামকে ঠিক কতটা নামতে দেওয়া হবে, সেই লক্ষ্য বাঁধল না আরবিআই। শীর্ষ ব্যাঙ্ক গভর্নর সঞ্জয় মলহোত্র স্পষ্ট জানালেন, বিদেশি মুদ্রা লেনদেনের বাজারে টাকাকে নির্দিষ্ট মূল্যবন্ধনীতে বেঁধে ফেলার লক্ষ্য নেই তাঁদের। বরং দেশীয় বাজারে মুদ্রা উত্থান-পতনের মধ্যে দিয়ে নিজের দামের উপযুক্ত স্তর ঠিক খুঁজে নেবে।
ডলার ৯০ টাকা থেকে নেমেছিল আগেই। এ দিন লেনদেনের শুরুতে তা আরও নামছিলও। কিন্তু রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্ক ছ’মাসের মধ্যে এই প্রথম আরও এক দফা সুদের হার ছাঁটাইয়ের পরেই টাকার দাম নামে। এক ডলার দিনের শেষে ৫ পয়সা উঠে হয় ৮৯.৯৪ টাকা।
ঋণনীতির পরে সাংবাদিক বৈঠকে মলহোত্র বলেন, ‘‘টাকার নির্দিষ্ট দাম বা মূল্যবন্ধনী স্থির করছি না। বাজারকে দাম স্থির করতে দিচ্ছি। বিশ্বাস করি, বিশেষ করে দীর্ঘ মেয়াদে বাজার অত্যন্ত দক্ষ। খুব গভীরও।’’ তাঁর আরও দাবি, দামের ওঠানামা চলতেই থাকে। আরবিআই চেষ্টা করে অস্বাভাবিক বা অতিরিক্ত অস্থিরতায় রাশ টানতে। সেই চেষ্টা বহাল থাকবে।
একই সঙ্গে আজ মলহোত্রের আশ্বাস, ভারতের বিদেশি মুদ্রার ভান্ডার যথেষ্ট পোক্ত (২৮ নভেম্বর ৬৮,৬২২ কোটি ডলার)। বিদেশি মুদ্রা লেনদেন খাতে ঘাটতিও নিয়ন্ত্রণে। কারণ, এ দেশের অর্থনীতির ভিত পোক্ত। মৌলিক উপাদানগুলি ভাল অবস্থায় রয়েছে। আগামী দিনে মূলধনের জোগানে ঘাটতি হবে না বলেও মনে করছেন তাঁরা।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)