Advertisement
E-Paper

পাইপলাইন প্রকল্পে মমতার সঙ্গে বৈঠক করবেন তেলমন্ত্রী

রাজ্যে গ্যাস অথরিটি অব ইন্ডিয়া (গেইল)-র পাইপলাইন প্রকল্প রূপায়ণে জমি জট এড়াতে আটঘাট বেঁধেই এগোচ্ছে কেন্দ্র। উত্তরপ্রদেশের জগদীশপুর থেকে রাজ্যের হলদিয়া পর্যন্ত লম্বা পাইপলাইন বসাতে রাজ্যের সক্রিয় সহযোগিতা চাইবে কেন্দ্র।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৬ ০৩:০০

রাজ্যে গ্যাস অথরিটি অব ইন্ডিয়া (গেইল)-র পাইপলাইন প্রকল্প রূপায়ণে জমি জট এড়াতে আটঘাট বেঁধেই এগোচ্ছে কেন্দ্র।

উত্তরপ্রদেশের জগদীশপুর থেকে রাজ্যের হলদিয়া পর্যন্ত লম্বা পাইপলাইন বসাতে রাজ্যের সক্রিয় সহযোগিতা চাইবে কেন্দ্র। জমির প্রয়োজন কী ভাবে মেটানো যাবে, তা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন তেলমন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান নিজেই। প্রসঙ্গত, গেইল-এর পাইপলাইন প্রকল্পে ৫১৭৬ কোটি টাকা তহবিল জোগাতে গত সপ্তাহেই সিলমোহর দিয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। উত্তরপ্রদেশের জগদীশপুর থেকে রাজ্যের হলদিয়া এবং বোকারো থেকে ওড়িশার ধামরা পর্যন্ত ২৫৩৯ কিমি লম্বা এই পাইপলাইন প্রকল্পের লক্ষ্য পশ্চিমবঙ্গ সমেত পূর্বাঞ্চলের পাঁচটি রাজ্যকে জাতীয় গ্যাস গ্রিডে যুক্ত করা, যাতে শিল্প-বাণিজ্য, রান্না ও পরিবহণের প্রয়োজন মেটাতে সহজে ব্যবহার করা যায় প্রাকৃতিক গ্যাস।

তবে, ইতিমধ্যে গ্যাসের পাইপলাইন বসাতে গিয়ে জয়ললিতার রাজ্য তামিলনাড়ুতে বাধার মুখে পড়তে হয়েছে কেন্দ্রকে। এ বার তাই পশ্চিমবঙ্গকে সঙ্গে নিয়েই মাঠে নামতে চাইছে কেন্দ্র।

প্রধানের দাবি, ‘‘রাজ্য সরকারের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়েই কাজ করতে চাই আমরা।’’ তাঁর যুক্তি, মন্ত্রিসভায় যে সাতটি শহরে রান্নার জন্য প্রাকৃতিক গ্যাস বণ্টন প্রকল্পে সায় মিলেছে, তার মধ্যে কলকাতাও রয়েছে। তাই মানুষের সুবিধার কথা ভেবেই জমির বন্দোবস্ত করতে রাজ্যের সহযোগিতা করা উচিত।

এমনিতে গ্যাস পাইপলাইন বসাতে জমি অধিগ্রহণ করার প্রয়োজন হয় না। জমির মালিকানাও বদল হয় না। পেট্রোলিয়াম ও মিনারেল পাইপলাইন (অ্যাকুইজিশন অব রাইট অব ইউজ) আইন মেনে শুধুমাত্র মাটি খুঁড়ে পাইপলাইন পেতে ফেলার অধিকার নেওয়া হয়। তবে পাইপলাইন বসাতে তার দৈর্ঘ্য বরাবর ২০ মিটার চওড়া জমি প্রয়োজন হয়। সাময়িক ভাবে চাষের কাজ, জলাশয় খনন ইত্যাদি বন্ধ রাখতে হয়, যা নিয়ে স্থানীয় স্তরে দানা বাঁধতে পারে বিক্ষোভ। পাইপ বসানোর পরে অবশ্য জমি আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়া হয়। সেই জমিতে আবার চাষ হতে পারে। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের বক্তব্য, এ জন্য জমির মালিকদের জমির দরের ১০% পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়। ফসল নষ্ট হলে বা গাছ কাটা পড়লে, সেই বাবদও ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়।

তা সত্ত্বেও কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছেন না মন্ত্রী। কারণ হল, সম্প্রতি তামিলনাড়ুতে গেইল-এরই পাইপলাইন বসানোর জেরে ফসল ও ফলের গাছ নষ্ট হচ্ছে বলে তার বিরোধিতা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী জয়ললিতা। তাঁর অভিযোগ, কী ভাবে পাইপলাইন পাতা হবে, সে ব্যাপারে রাজ্য অন্ধকারে। অথচ ফল চাষিদের ক্ষতি হচ্ছে। পাইপলাইন যেখানে পাতা হচ্ছে, সেখানে জলাশয়, কুয়ো খোঁড়ায় নিষেধাজ্ঞা জারি হওয়ায় চাষ ও পানীয় জল সরবরাহে সমস্যা হচ্ছে। জয়ললিতা তাই দাবি তুলেছেন, পাইপলাইনের জন্য জমি ব্যবহারের ওই আইন সংশোধন করা হোক। গেইল-কে কাজ বন্ধ করতে বলে শুধুমাত্র জাতীয় সড়ক বরাবর পাইপলাইন বসানোরও নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এ নিয়ে বিবাদ গড়িয়েছে সুপ্রিম কোর্টেও।

Mamata Banerjee dharmendra pradhan
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy