দেশের বাজারে টানা বাড়ছে পেট্রল, ডিজেলের দাম। সপ্তাহখানেক আগে থেকেই ভারতে পেট্রল-ডিজেলের দাম অল্প অল্প করে চড়ছিল। কিন্তু শনিবার সৌদি আরবে অ্যারামকোর তেল শোধনাগারে জঙ্গি হানার পরে মঙ্গলবার থেকে দর আরও বেশি করে বাড়ছে। বাজেটের পরে যে বৃদ্ধি দেখেনি তেল। আজ, বৃহস্পতিবার কলকাতায় ইন্ডিয়ান অয়েলের পাম্পে পেট্রল লিটারে বেড়েছে ২৯ পয়সা। ডিজেল ১৯ পয়সা। দর হয়েছে যথাক্রমে ৭৫.৪৩ টাকা ও ৬৮.৪২ টাকা।

এমনিতে বিশ্ব বাজারে চড়া অশোধিত তেলের দর দেশের বাজারে পড়তে কিছু দিন সময় লাগে। তেল সংস্থাগুলি সূত্রের খবর, সাত-দশ দিন আগে বিশ্ব বাজারে দর বাড়ছিল বলে এমনিতেই ভারতে অল্প হারে ওই দুই জ্বালানির দাম বাড়ছিল। তাদের বক্তব্য, অশোধিত তেল ছাড়া ডলার-টাকার বিনিময় মূল্য ও আন্তর্জাতিক বাজারে পেট্রল-ডিজেলের দরের উপরেও নির্ভর করে দেশে জ্বালানি দু’টির দাম। এখন ডলারে টাকার দাম পড়ায় বাড়ছে আমদানি খরচ। আবার সৌদি তেল শোধনাগারের জঙ্গি হানার জেরে অশোধিত তেলের দরের পাশাপাশি বিশ্ব বাজারে পেট্রল-ডিজেলের দরও বাড়ছে। ফলে সব মিলিয়ে  সেই প্রভাব পড়ছে ভারতে।

শোধনাগারে হানায় গত সোমবার ২০% বেড়ে ব্যারেলে এক সময়ে ৭২ ডলারে পৌঁছেছিল অশোধিত তেল। তবে শেষে তা কিছুটা নামে। অবস্থা কয়েক সপ্তাহে শোধরানোর খবরে মঙ্গলবার তা আরও কমে হয় প্রায় ৬৫ ডলার। আর বুধবার সৌদি আরব জানিয়েছে, উৎপাদন যতটা ধাক্কা খেয়েছে, তার অর্ধেকের বেশি ফের শুরু হয়েছে। মাসের শেষে দিনে উৎপাদন ১.১ কোটি ব্যারেলে পৌঁছবে। নভেম্বরে ১.২ কোটিতে। এই আশ্বাসে আরও কমেছে দর। শেষ  খবর পাওয়া পর্যন্ত তা ছিল প্রায় ৬৩.৫০ ডলার।

তেল যখন দামি

• বৃহস্পতিবার কলকাতায় লিটারে পেট্রল বেড়েছে ২৯ পয়সা। ৫ জুলাই বাজেটের পরে সর্বাধিক। দাম হয়েছে ৭৫.৪৩ টাকা।
• ডিজেল ১৯ পয়সা বেড়ে পৌঁছেছে লিটার পিছু ৬৮.৪২ টাকায়। বুধবার দর বেড়েছিল ২৪ পয়সা।
• এ নিয়ে গত তিন দিনেই শহরে পেট্রল বেড়েছে লিটারে ৬৭ পয়সা। ডিজেল ৫৮ পয়সা।

সৌদির আশ্বাস

• জঙ্গি হানায় তেল উৎপাদন যতটা ধাক্কা খেয়েছিল, তার অর্ধেকেরও বেশি ফের শুরু হয়েছে।
• মাসের শেষেই উৎপাদন স্বাভাবিক হবে।


অনিশ্চয়তা কোথায়

• সোমবার ব্যারেলে ৭২ ডলারে পৌঁছনোর পরে, সৌদি আরবের আশ্বাসে বিশ্ব বাজারে কমেছে অশোধিত তেলের দাম। বুধবার নেমেছে ৬৪ ডলারের নীচে।
• কিন্তু বিশ্ব বাজারে পেট্রল ও ডিজেলের দরও চড়া।
• ভারতে ডলারের সাপেক্ষে পড়েছে টাকার দামও।
• ফলে দেশে পেট্রল-ডিজেলের দাম কতটা কমবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা পুরোপুরি কাটেনি এখনও। 

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতে তেল বাড়তে থাকলে অর্থনীতির আরও নাভিশ্বাস উঠবে। কারণ, অশোধিত তেল ১ ডলার বাড়লে আমদানি খরচ বাড়ে ১০,৭০০ কোটি টাকা। ফলে বাড়তে পারে বাণিজ্য ঘাটতি। কঠিন হবে চলতি খাতে ও রাজকোষ ঘাটতিতে রাশ টানা। ধাক্কা খাবে বৃদ্ধি। ফলে আগামী কয়েক দিনে পরিস্থিতি কী দাঁড়ায়, সে দিকেই চোখ সকলের।