E-Paper

শুল্ক নয়, ভারতীয় অর্থনীতির সবচেয়ে বড় বাধা দূষণ, দাবি আইএমএফ-এর প্রাক্তন মুখ্য অর্থনীতিবিদের

সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, গীতার বার্তা মোদী সরকারের অস্বস্তি বাড়াল। গোটা বিশ্ব যেখানে দূষণ রোধে উদ্যোগী, সেখানে এমন আন্তর্জাতিক মঞ্চে এটা আসলে সমালোচনাই।

নিজস্ব প্রতিবেদন

শেষ আপডেট: ২৩ জানুয়ারি ২০২৬ ০৯:৩৭
গীতা গোপীনাথ।

গীতা গোপীনাথ। —ফাইল চিত্র।

বাণিজ্যে দেওয়াল তোলা হলেও, সেই সমস্যা অস্থায়ী। আলোচনার মাধ্যমে সমাধান সম্ভব। কিন্তু পরিবেশ দূষণ অর্থনীতিতে যে ক্ষত তৈরি করে, তা গভীর এবং দীর্ঘমেয়াদি— দাভোসে ওয়র্ল্ড ইকনমিক ফোরামের মঞ্চে এ ভাবেই দূষণ নিয়ে ভারতকে সতর্ক করলেন হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির অর্থনীতির অধ্যাপক এবং আইএমএফ-এর প্রাক্তন মুখ্য অর্থনীতিবিদ গীতা গোপীনাথ। তাঁর বার্তা, ভারতের আর্থিক বৃদ্ধির সবচেয়ে বড় আশঙ্কা দূষণই। শুল্কের প্রভাবকেও ছাড়িয়ে যাচ্ছে তার ধাক্কা।

সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, গীতার বার্তা মোদী সরকারের অস্বস্তি বাড়াল। গোটা বিশ্ব যেখানে দূষণ রোধে উদ্যোগী, সেখানে এমন আন্তর্জাতিক মঞ্চে এটা আসলে সমালোচনাই। রাজধানী দিল্লিতে খোদ কেন্দ্রই দূষণ নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশেষত কেন্দ্র, রাজ্য এবং দিল্লির পুরসভা, সব জায়গাতেই যেহেতু বিজেপি ক্ষমতায়, তাই কাঠগড়ায় তারাই। বিশেষজ্ঞে রা বলছেন, আন্তর্জাতিক মহলও যে তেমনটাই মনে করছে, গীতার বার্তায় স্পষ্ট। যে কারণে তিনি অবিলম্বে সরকারকে পদক্ষেপ করতে বলেছেন। তাঁর দাবি, মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি ভারতের অন্যতম চ্যালেঞ্জ। কিন্তু দূষণ সেই কাজকে আরও কঠিন করে দীর্ঘ মেয়াদে আর্থিক বৃদ্ধিকে নামাচ্ছে, বাড়াচ্ছে বৈষম্য। কারণ, দরিদ্র পরিবার পরিবেশ দূষণে সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

বিরোধী শিবিরের দাবি, বিভিন্ন রাজ্যে মোদী সরকার ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারের সুবিধা তুলে ধরে ভোট চায়। অথচ দিল্লিতে ‘ট্রিপল ইঞ্জিন’ সরকার হয়েও দূষণ নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ। এতে কী ভাবে দেশের অর্থনীতিকে ধাক্কা খাচ্ছে, তা দেখাতে ২০২২-এ করা বিশ্ব ব্যাঙ্কের এক সমীক্ষা তুলে ধরেছেন গীতা। যেখানে দেখা গিয়েছে, প্রতি বছর এর জেরে ভারতের প্রায় ১.৭০ কোটি মানুষ মারা যান। যা দেশের মোট মৃত্যুর প্রায় ১৮%। গীতার কথায়, ‘‘শুধু পরিবেশকে মূল্য চোকাতে হয় না...তার সঙ্গে জড়িয়ে দেশের আর্থিক বৃদ্ধি, উৎপাদনশীলতা এবং নাগরিকদের স্বাস্থ্য। দূষণ কর্মীর উৎপাদনশীলতা কমায়, চিকিৎসার খরচ বাড়ায়, আর্থিক কর্মকাণ্ডের গতি শ্লথ করে। যা দীর্ঘ মেয়াদে ধারাবাহিক ভাবে আর্থিক বৃদ্ধিকে টেনে নামায়।’’ তাই একে আর্থিক কৌশলের তকমা দিয়েছেন এই অর্থনীতিবিদ।

ভারতে এখন অর্থনীতির যাবতীয় সমস্যাই শুল্কমুখী। আমেরিকার চড়া শুল্ক (৫০%) ঘাড়ে নিয়েও দেশ কী গতিতে এগোচ্ছে, দাভোসে সেই বার্তা দিচ্ছেন কেন্দ্র। বিশ্লেষকদের মতে, এই আবহে গীতার হুঁশিয়ারি তাৎপর্যপূর্ণ। শুল্ক-সমস্যাকে পিছনে ঠেলেছেন তিনি। নয়াদিল্লির অস্বস্তি বাড়িয়ে বলেছেন, ‘‘আন্তর্জাতিক লগ্নিকারীর জায়গা থেকে বলতে পারি, ভারতে ব্যবসা চালাতে এবং থাকতে চাইলে পরিবেশ গুরুত্বপূর্ণ।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Pollution Gita Gopinath

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy