E-Paper

মধ্যবিত্তকে ফ্ল্যাট-বাড়ি কেনায় সুরাহা করে দিতে প্রস্তাব গেল নির্মলার কাছে

কলকাতার জৈন গোষ্ঠীর এমডি ঋষি জৈনের বার্তা, ক্রমাগত আবাসন ক্ষেত্রের ব‍্যবসা কমছে। এর কারণ, সাধারণ মানুষের হাতে টাকা নেই। সরকার নিশ্চয়ই এই সঙ্কট কাটাতে কিছু পদক্ষেপ করবে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ ০৯:৪৫
নির্মলা সীতারামন।

নির্মলা সীতারামন। — ফাইল চিত্র।

বাজেটে চোখ রেখে দাবি-দাওয়া পেশ করার পালা চলছে। এ বার সেই তালিকা জমা দিল নির্মাণ শিল্প। যেখানে এক দিকে রয়েছে কর ছাড়ের সীমা বাড়ানোর প্রস্তাব, অন্য দিকে আরও বেশি মূল্যের ফ্ল্যাট-বাড়িকে ‘সাধ্যের আবাসনের’ আওতায় নিয়ে আসা। আবাসন ক্ষেত্রকে ফের শিল্পের মর্যাদা দেওয়ার সওয়ালও করেছে তারা। তবে সব থেকে বেশি প্রাধান্য পেয়েছে, যে সাধারণ রোজগেরে মধ্যবিত্ত ক্রেতা বাড়ি বাজার থেকে মুখ ফিরিয়েছেন, তাঁদের ফের টেনে আনা। কারণ শিল্পের মতে, বিক্রি গতি পায় এই শ্রেণির হাত ধরেই। সে জন্য মধ্যবিত্তকে আরও সুরাহা দেওয়ার দাবি তুলেছেন অনেকেই, যাতে তাঁরা আবাসন কেনার কথা ভাবতে পারেন। শিল্পের একাংশ বলছে, ইতিমধ্যেই আয়কর এবং জিএসটি-তে ছাড় দিয়ে সাধারণ মানুষকে কিছু আর্থিক সুরাহা দেওয়া হয়েছে। গৃহঋণে সুদও অনেক কমেছে। তবে ফ্ল্যাট-বাড়ির মতো দামি জিনিস কেনার জন্য আরও কিছু দাওয়াই প্রয়োজন, যা উৎসাহ বাড়াবে।

কলকাতার জৈন গোষ্ঠীর এমডি ঋষি জৈনের বার্তা, ক্রমাগত আবাসন ক্ষেত্রের ব‍্যবসা কমছে। এর কারণ, সাধারণ মানুষের হাতে টাকা নেই। সরকার নিশ্চয়ই এই সঙ্কট কাটাতে কিছু পদক্ষেপ করবে। বিশেষত বিশ্ব বাজার দুর্বল থাকায় সামগ্রিক ভাবে চাহিদা যেহেতু দেশের ভিতরে বাড়াতে হবে। ঋষির মতো অনেকেরই দাবি, ফ্ল্যাট কিনতে বাড়তি আর্থিক সুবিধা পাওয়ার ব্যবস্থা থাকলে সাধারণ রোজগেরে মানুষের আগ্রহ কিছুটা বাড়তে পারে।

রাজ্যের নির্মাণ সংস্থাগুলির সংগঠন ক্রেডাই ওয়েস্ট বেঙ্গলের সভাপতি সুশীল মোহতাও বলেন, ‘‘মধ‍্যবিত্ত মানুষেরা যাতে আরও বেশি ফ্ল্যাট-বাড়ি কিনতে পারেন বা কেনার কথা ভাবতে পারেন,সেই দিকে নজর দিক সরকার। এ জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা জরুরি। গৃহঋণে বিশেষ ছাড়, জিএসটি-র হার কমানোর মতো সুবিধার কথা ভাবা যেতে পারে।’’ ইডেন রিয়েলটির এমডি আর্য সুমন্তর দাবি, আবাসন ক্ষেত্রের বাজারকে চাঙ্গা করতে হলে সাধ্যের আবাসনের দিকে নজর দিতে হবে। সেই সঙ্গে তুলনায় কম দামি ফ্ল্যাট-বাড়ি কেনার জন্য টেনে আনতেই হবে ক্রেতাকে।

এখন ৪৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত দামের ফ্ল্যাট-বাড়ি সাধ্যের আবাসন হিসেবে গণ্য হয়। ক্রেডাইয়ের সর্বভারতীয় কমিটির দাবি, এর সংজ্ঞা বদল হোক। ৪৫ লক্ষের বদলে ওই সীমা বেড়ে হোক ৯০ লক্ষ টাকা। কারণ, জমি এবং নির্মাণের খরচ বাড়ছে। একই সঙ্গে নির্মাণের কাজের উপর জিএসটির হার ১৮% থেকে কমিয়ে ১২% শতাংশ করার কথাও বলেছে তারা। প্রস্তাব দিয়েছে নতুন কর কাঠামোয় আয়কর ছাড়ের ক্ষেত্রে গৃহঋণকে অন্তর্ভুক্ত করার। সুশীল মনে করেন, সরকারকে পদক্ষেপ করতে হবে বর্তমানে বাজারের উপর নির্ভর করে। এই জন্যই সাধ‍্যের আবাসনের সংজ্ঞা বদল দরকার। পূর্তি রিয়েলটির এমডি মহেশ আগরওয়াল আবার প্রথমবারের আবাসন ক্রেতাদের জন‍্য আলাদা করে বিশেষ উৎসাহদান প্রকল্প এবং নির্মাণ সংস্থাগুলির জন্য করছাড়ের আবেদন করেছেন। তাঁর অনুরোধ, এই ক্ষেত্রের সঙ্গে বিরাট সংখ‍্যক মানুষের রুটি-রুজি জড়িয়ে। ফলে একে শিল্পের মর্যাদা দিলে তাঁরা তো উপকৃত হবেনই, লাভ হবে নির্মাণ ক্ষেত্রেরও।

সুমন্তও প্রথমবারের ক্রেতার জন‍্য সুদের হারে ছাড় দেওয়ার কথা বলেছেন। তাঁর বার্তা, বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে আলাদা করে খানিকটা সুবিধা দেওয়ার জন‍্য বিশেষ প্রকল্প আনার কথাও ভাবা যেতে পারে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Flat Nirmala Sitharaman

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy