বাংলাদেশের আলোচিত অভিনেত্রী তানজিন তিশা। সম্প্রতি, নায়িকার বিরুদ্ধে চড় মারার অভিযোগ তোলেন তাঁর সহ-অভিনেত্রী সামিয়া অথই। এমনকি খামচে দেওয়ার অভিযোগও তুলেছিলেন সামিয়া। যদিও তিশা জানিয়েছিলেন, চিত্রনাট্যের প্রয়োজনেই নাকি চড় মেরেছিলেন তিনি। আদতে কী ঘটেছিল? সবটা খোলসা করেছেন পরিচালক রাফাত মজুমদার।
বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যম ‘প্রথম আলো’-কে সবটা জানিয়েছেন পরিচালক। সেই সঙ্গে সংবাদমাধ্যমে মুখ খুলেছেন শুটিংয়ে উপস্থিত থাকা কয়েক জন প্রত্যক্ষদর্শীও। জানা গিয়েছে, মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার মাইলাগী গ্রামে এক মঙ্গলবার সকাল ৯টায় শুরু হয়েছিল ‘পুতুলের বিয়ে’ নাটকের শুটিং। সকালে তিশার শুটিং ছিল না। বেলার দিকে তিশা এবং সামিয়ার দৃশ্য ছিল।
আরও পড়ুন:
চিত্রনাট্যে কি চড় মারার কথা লেখা ছিল? ‘প্রথম আলো’-কে পরিচালক রাফাত বলেছেন, “চিত্রনাট্যে ছিল, তানজিন তিশাকে চড় মারবেন অথই। কিন্তু তার পরে মহড়ার সময়েই চড়টি বাদ দেওয়া হয়েছিল। চড়ের বদলে অথইয়ের বকুনি দেওয়ার কথা ছিল। চিত্রনাট্যে অথইকেও তিশার চড় মারার কথা ছিল না।”
অনেকটাই বদলে দেওয়া হয়েছিল লেখা এবং দৃশ্য। পরিচালক যোগ করেন,“অথইয়ের বকুনি খেয়ে তিশার প্রতিক্রিয়া দেখানোর কথা ছিল। কথা ছিল তার পরে সে অথইকে ধাক্কা দেবে। তবে অথই যেহেতু তিশাকে চড় মেরেছেন, ফলে তিশাও অথইকে চড় মারেন।”
যদিও এ প্রসঙ্গে সামিয়ার দাবি, চিত্রনাট্য থেকে চড় বাদ দেওয়া হয়নি। পরিচালক এই প্রসঙ্গ কিছুটা এড়িয়ে গেলেও বলেন, “দু’জনের আলাদা মহড়ার সময়ে কোথাও চড়ের দৃশ্যের কথা লেখা ছিল না।” এই বিতর্কে মুখ খুলেছেন এক প্রত্যক্ষদর্শীও। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রত্যক্ষদর্শী ‘প্রথম আলো’-কে জানিয়েছেন, অথই একটি চড় মারার পরে, তিশা ঘুরিয়ে বেশ অনেকগুলো চড় মেরেছিলেন অভিনেত্রীকে।
এই বিষয়ে নায়িকা তিশা ‘প্রথম আলো’-কে বলেন, “নাটকে আমি এক বিশেষ ভাবে সক্ষম মানুষের ভূমিকায় অভিনয় করছি। চিত্রনাট্যে যতটুকু লেখা ছিল, ততটাই করেছি। চরিত্রে বাইরে আর কিছু করিনি।” এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পরে আনন্দবাজার ডট কম-এর তরফে তিশার সঙ্গে অনেক বার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়, কিন্তু কোনও উত্তর পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, এই ঘটনার দিনে ফেসবুক লাইভে এসে অথই বলেছিলেন, “আমি জানি না উনি নেশাগ্রস্ত ছিলেন কি না। কারণ ওঁর গা দিয়ে বিশ্রী গন্ধ বেরোচ্ছিল। উনি মানিকগঞ্জে আসার পর থেকে স্নানঘরে নিজেকে আটকে রাখতেন। কী করতেন কে জানে! আমার জীবনে শুটিংয়ে এমন অভিজ্ঞতা কখনওই হয়নি। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।” এই ঘটনার পরে ওই নাটকের শুটিং আর হবে কি না, তা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন।