• আমি ও আমার স্বামী জমি কিনে বাড়ি তৈরি করেছিলাম। বাড়িটি আমার নামে। ছেলে সপরিবারে সেখানেই আমার সঙ্গে থাকে। স্বামী মারা গিয়েছেন। তার আগে তিনি ওই পাড়াতেই অন্য একটি জমি নিজের নামে কেনেন। এবং সেটি আমাদের বিবাহিতা মেয়ের নামে রেজিস্ট্রি করে দেন। এই জমিটির বাজার দর আমরা যে বাড়িতে থাকি, তার চেয়ে বেশি। স্বামীর ইচ্ছে ছিল আমার নামের বাড়িটি ছেলের থাক। আমার প্রশ্ন—
১) আমার মৃত্যুর পরে মেয়ে কি ওই বাড়ির অংশ দাবি করতে পারে?
২) আমাকে কি উইল করতে হবে?
৩) যদি সাদা কাগজে নিজে হাতে ইচ্ছাপত্র বা উইল তৈরি করি, সেটা কি গ্রাহ্য হবে? ওই উইলে যদি দু’জন সাক্ষীর সই থাকে, তবে সেই উইল কি বৈধ বলে গণ্য হবে? না কি উকিলের স্বাক্ষর লাগবে ও রেজিস্ট্রি করতে হবে?
প্রশ্নের দ্বিতীয় ভাগ হল—
আমার স্বামী ৩৫-৪০ বছর আগে সমুদ্র উপকূলে সরকারি জমির একটি প্লট পান। তিনি মারা যাওয়ার পরে সেখানে তৈরি বাড়িটি সরকার থেকে আমার নামে করে দেওয়া হয়। ছেলেকে বাড়িটি দেখাশোনার দায়িত্ব দিয়েছি। পরে সে ঋণ নিয়ে দোতলা তৈরি করে অন্য একটি সরকারি সংস্থাকে লিজ দিয়েছে। অর্থাৎ ওই বাড়ির দু’টি তলাই সে লিজ দেয়। প্রয়োজন হয়নি বলে আজ পর্যন্ত আমি ভাড়ার অর্থ দাবি করিনি। এখন আমার ইচ্ছা, এক তলার যা ভাড়া, তার অংশ মেয়ে পাক। এ ক্ষেত্রে কী করতে হবে?
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, কলকাতা
১) আপনি জীবিত থাকতে বাড়িটি যদি উইল বা দানপত্রের মাধ্যমে ছেলেকে দিয়ে না-যান, তা হলে মেয়ে আপনার অবর্তমানে অবশ্যই সেটির অংশ দাবি করতে পারেন।
২) চাইলে বর্তমান বাড়িটি ছেলের অনুকূলে দানপত্র করে দিতে পারেন। দানপত্র সম্পত্তির বাজারমূল্য অনুযায়ী স্ট্যাম্প ডিউটি ও রেজিস্ট্রেশন ফি জমা দিয়ে রেজিস্ট্রি করতে হয়। অবশ্য মা ছেলের অনুকূলে দানপত্র করলে স্ট্যাম্প ডিউটি অনেক কম হয়। মোট বাজারমূল্যের উপর মাত্র ০.৫%।
৩) বাড়িটি ছেলেকে দিয়ে যেতে উইল বা ইচ্ছাপত্রও করা যায়। হ্যাঁ, সাদা কাগজে নিজে হাতে লিখে উইল তৈরি করতে পারেন। এটি যে-শুধু উকিলবাবুর সেরেস্তায় টাইপ করে স্ট্যাম্প পেপারে লিখে তৈরি করতে হবে, এমন কোনও কথা নেই। বরং আমি বলব, উইল খুব সহজ করে নিজের ভাষাতেও লিখতে পারেন। প্যাঁচ যত কম কষবেন, ততই ভাল। তবে, দানপত্র যেমন একবার রেজিস্ট্রি হয়ে গেলে ভবিষ্যতে যাঁকে দেওয়া হচ্ছে, তাঁকে কম ঝক্কি পোয়াতে হয়, উইলের ক্ষেত্রে তা নয়। উইলের মাধ্যমে যাঁকে সম্পত্তি দেওয়া হচ্ছে, উইল-কর্তা বা কর্ত্রীর মৃত্যুর পরে তাঁকে আদালত থেকে প্রোবেট নিতে হয়।
উইলের ক্ষেত্রে একাধিক সাক্ষীর দস্তখত থাকা বাঞ্ছনীয়। প্রোবেট নেওয়ার সময়ে ওই সাক্ষীদের প্রয়োজনে আদালতে আসতে হতে পারে।
প্রশ্নের দ্বিতীয় ভাগের উত্তরে বলব—
সমুদ্র উপকূলের সরকারি জমিতে আপনার নামের বাড়িটির দু’টি তলা থেকে লিজ বাবদ যে-অর্থ ছেলে পায়, তা সে এখন একাই ভোগ করে। কিন্তু আপনি যদি ওই অর্থের (বিশেষত এক তলার লিজ বাবদ আসা অর্থ) ভাগ মেয়েকে দিতে চান, তবে সেই ব্যবস্থা অবশ্যই করতে পারেন। আপনার ছেলে ঋণ নিয়ে দোতলা তৈরি করেছে। কিন্তু প্রথম তলাটা তো আপনার স্বামীর তৈরি। কাজেই যেহেতু ঋণ নিয়ে দোতলা তৈরি করেছে তাই তার লিজ থেকে পাওয়া টাকা সে কাউকে দেবে না— এই অজুহাত খাটবে না। আপনি ছেলের সঙ্গে কথা বলুন, ছেলে নিশ্চয়ই তার বোনকে প্রাপ্য দিতে কসুর করবে না।
পরামর্শদাতা: আইনজীবী জয়ন্ত নারায়ণ চট্টোপাধ্যায়