সিস্টেমেটিক ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যান (এসআইপি) থেকে শুরু করে ক্রেডিট কার্ডের বিল। এ বার বদলাচ্ছে প্রতি মাসে টাকা দেওয়ার নিয়ম। বার বার ‘ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড’ বা ওটিপির ঝক্কিতে আর পড়তে হবে না গ্রাহককে। ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত স্বয়ংক্রিয় লেনদেন (অটো-ডেবিট) করতে পারবেন তাঁরা। এই মর্মে ইতিমধ্যেই বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (আরবিআই)। ফলে ইন্টারনেট ও টিভি থেকে যে কোনও মাসিক সাবস্ক্রিপশন বা বিমার কিস্তি মিটিয়ে দেওয়া লগ্নিকারীদের জন্য যে সহজ হতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।
এত দিন পর্যন্ত মাসে মাসে টাকা দেওয়ার ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয় লেনদেন (অটো-ডেবিট) চালু রাখলেও সেটা ছিল পুরোপুরি ওটিপি নির্ভর। প্রতি বার ওই নম্বর লিখতে হত গ্রাহককে। আরবিআইয়ের নতুন নির্দেশিকায় পুরোপুরি বদলে যাচ্ছে সেই ব্যবস্থা। এ বার থেকে কোনও ব্যক্তি তাঁর পছন্দমতো ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে স্বয়ংক্রিয় লেনদেনের অনুমতি দিলে অনায়াসে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বিল মিটিয়ে দিতে পারবেন তিনি। তার জন্য আলাদা করে আসবে না কোনও ওটিপি।
ভারতে ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা চালু হওয়ার পর থেকে হু-হু করে বেড়েছে তার জনপ্রিয়তা। কিন্তু, তার পরেও মাসিক সাবস্ক্রিপশন, এসআইপি, রক্ষণাবেক্ষণের বিল, বিমার কিস্তি বা ইন্টারনেটের বিল সহজে নিজের অ্যাকাউন্ট থেকে দিতে পারতেন না গ্রাহক। এই লেনদেনে ওটিপির জন্য অপেক্ষা করতে হত তাঁদের। সেই সমস্যা পুরোপুরি ভাবে মেটাতেই এই পদক্ষেপ বলে জানিয়েছে রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্ক।
উল্লেখ্য, নতুন নিয়মে স্বয়ংক্রিয় লেনদেনের (অটো-ডেবিট) জন্য রেজিস্ট্রেশন করতে হবে গ্রাহককে। ওই সময় কোন কোন বিল স্বয়ংক্রিয় ভাবে দিতে চাইছেন, তার তথ্য দেবেন তিনি। পাশাপাশি, একটি ওটিপির মাধ্যমে অনুমোদন পাবে সেই ব্যবস্থা। তবে একবার অটো-ডেবিট চালু হয়ে গেলে আর ওটিপি দিতে হবে না তাঁকে। শুধু তা-ই নয়, কোনও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে মোবাইল ফোনের পরিষেবা ব্যাহত হলেও মাসিক কিস্তির টাকা জমা হয়ে যাবে তাঁর।
আরও পড়ুন:
প্রসঙ্গত, মিউচুয়াল ফান্ডে লগ্নি বা ক্রেডিট কার্ডের বিল জমার মতো কিছু ক্ষেত্রে ডিজিটাল লেনদেনের ঊর্ধ্বসীমা এক লক্ষ টাকা ধার্য করেছে আরবিআই। ‘ইউনিফায়েড পেমেন্টস ইন্টারফেস’ বা ইউপিআইয়ের মাধ্যমে এই টাকা মিটিয়ে দিতে পারেন গ্রাহক। ওটিপি-বিহীন স্বয়ংক্রিয় লেনদেনের ঊর্ধ্বসীমা অবশ্য ১৫ হাজার টাকা রাখা হয়েছে। ফলে উচ্চহারে বিমার কিস্তি বা মোটা অঙ্কের বিল মেটাতে আমজনতার সুবিধা হবে বলেই মনে করছে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক।