রান্নার গ্যাসের দাম বাড়ানো নিয়ে রবিবার মোদী সরকারকে দুষলেন বিরোধীরা। দিনভর চলা রাজনৈতিক চাপানউতোরে কংগ্রেসের প্রশ্ন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যে সংসদে দাঁড়িয়ে ৪১টি দেশ থেকে তেল-গ্যাস আমদানির বার্তা দিয়েছিলেন, তার কী হল? বিজেপি সরকারকে এর রাজনৈতিক মূল্য চোকাতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন এনসিপি-র শরদ পাওয়ার। তবে কেন্দ্রের দাবি, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের তুলনায় ভারতের মানুষ এখনও অনেক কম দামে রান্নার গ্যাস পাচ্ছেন। আন্তর্জাতিক দাম বৃদ্ধির বেশির ভাগটা বইছে সরকার।
গত ৭ মার্চ দেশে এক দফা গৃহস্থের রান্নার গ্যাসের দাম বেড়েছিল। কলকাতায় বেড়েছিল সিলিন্ডার পিছু ৬০ টাকা। রবিবার থেকে তা আরও ২৯ টাকা বেড়ে হয়েছে ৯৬৮ টাকা। ৫ কেজি সিলিন্ডার বেড়ে ৩৫৮.৫০ টাকা এবং ১০ কেজির ৬৯১.৫০ টাকা হয়েছে। তার উপর সংশ্লিষ্ট মহলের ইঙ্গিত, দুর্ভোগ শেষ হয়নি। তেলের মতো কয়েক ধাপে রান্নার গ্যাসও আরও চড়তে পারে।
এ দিন কংগ্রেসের সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গের কটাক্ষ, ‘‘পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতিতে দেশে জ্বালানির আমদানি বাড়াতে বিকল্প পথের কথা জানিয়েছিলেন মোদী। বলেছিলেন ৪১টি দেশ থেকে তা কেনার কথা। তার কী হল? কেন দেশের গ্রামাঞ্চলে এখনও এলপিজি-র অভাব রয়েছে?’’
বিবৃতিতে তেল মন্ত্রকের যদিও দাবি, যুদ্ধের জেরে ভারতে এলপিজি সিলিন্ডার জোগানের খরচ বেড়েছে ১৬০০ টাকার বেশি। এ দেশে গ্যাস আমদানির খরচ সৌদি কনট্র্যাক্ট প্রাইসের সঙ্গে যুক্ত। সেই দাম যুদ্ধ শুরুর পরে ৪৬% মাথা তুলেছে। তার পরেও পাকিস্তান, নেপাল, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কার মতো পড়শি দেশের থেকে তো বটেই, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, কানাডার মতো উন্নত দেশের থেকেও ভারতে এলপিজি অনেক সস্তা। এই দফায় দাম বাড়ানোর সময়ে সাধারণ গৃহস্থের স্বার্থ এবং গ্যাসের সরবরাহ নিশ্চিত করার কথাও মাথায় রাখা হয়েছে। দেশে এলপিজি বা অন্য পেট্রপণ্যের ঘাটতিও নেই। বরং ভারতে তার উৎপাদন বেড়েছে।
কেন্দ্রের আরও দাবি, সাধারণ গ্রাহকের গ্যাসের দাম এখনও বাজার দরের থেকে ৭০০ টাকা কম। উজ্জ্বলার গ্রাহকেরা আরও ৩০০ টাকা কমে পাচ্ছেন। অথচ এলপিজি-র কাঁচামাল প্রপেন-বুটেনের খরচ ৫০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে দর বৃদ্ধির বেশির ভাগটাই আমজনতাকে বইতে হচ্ছে না।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)