ভারতের প্রতি আস্থা ক্রমশ কমছে বিদেশ লগ্নি সংস্থাগুলির। জুনে মাত্র পাঁচ দিনের লেনদেনেই এ দেশের বাজারে শেয়ার বিক্রি করে প্রায় ৪৩,০০০ কোটি টাকা (৪২,৯২৭) তুলে নিয়েছে তারা। শেয়ার-ফান্ডে লগ্নির তথ্য সংরক্ষণকারী ‘ন্যাশনাল সিকিওরিটিজ় ডিপজ়িটরি’ বা এনএসডিএলের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এর ফলে ২০২৬-এ বেরিয়ে যাওয়া বিদেশি পুঁজির অঙ্ক পেরিয়েছে ২.৬৭ লক্ষ কোটি টাকা। গত অর্থবর্ষের পুরোটা জুড়ে বেরিয়ে যাওয়া ১.৬৬ লক্ষ কোটির থেকে যা অনেক বেশি। বিশেষজ্ঞদের মতে, এত বেশি বিদেশি লগ্নি বেরিয়ে যাচ্ছে বলেই ডলারের নিরিখে টাকার দাম পড়ছে। বাজারের পাশাপাশি, টাকাকে ছন্দে ফেরাতে হলেও এটা বন্ধ হওয়া দরকার।
সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, বিষয়টি যে যথেষ্ট আশঙ্কাজনক, তা বোঝা গিয়েছে গত শুক্রবারের ঋণনীতি পর্যালোচনায় রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্কের পদক্ষেপেই। তারা অনাবাসী ভারতীয়দের জন্যে নথিবদ্ধ শেয়ারে লগ্নির ঊর্ধ্বসীমা আগের ৫% থেকে বাড়িয়ে ১০% করেছে।
যদিও এই পদক্ষেপে লাভ কতটা হবে, সেই প্রশ্নও তুলছেন বিশ্লেষকদের একাংশ। উইশলিস্ট ক্যাপিটালের পার্টনার নীলাঞ্জন দে-র মতে, ‘‘সরকার নানা পদক্ষেপ করছে অর্থনীতির জন্য। বিদেশি লগ্নি টানতে সরকারি বন্ডে তাদের দীর্ঘমেয়াদি মূলধনী লাভে করও মকুব করা হয়েছে। ঠিক এই পদক্ষেপটি এ বার শেয়ারের জন্যও আনা দরকার। অনাবাসীদের শেয়ারে লগ্নির সীমা বাড়ানোয় কিছু পুঁজি হয়তো আসবে। কিন্তু সেটা যথেষ্ট নয়।’’ তাঁর বক্তব্য, আসলে ভারত পিছিয়ে পড়েছে কৃত্রিম মেধা বা এআই-এর মতো প্রযুক্তির ক্ষেত্রে। আর ওই ক্ষেত্রের আকর্ষণেই বিদেশি পুঁজি দেশ ছাড়ছে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)