দক্ষিণী ছবি ‘পিদ্দী’ এখন বিতর্কের কেন্দ্রে। এই ছবি নাকি কেবলই ‘শরীরসর্বস্ব’। বিতর্কের কেন্দ্রে জাহ্নবী কপূরের চরিত্র। রাম চরণের বিপরীতে এক জন গ্রামের মেয়ের চরিত্রে দেখা গিয়েছে জাহ্নবীকে। কিন্তু এই ছবিতে তাঁর পোশাক একেবারেই গ্রামের মেয়েদের মতো নয়। সেই নিয়েই যেন বিতর্ক বিভিন্ন মহলে। অতিরিক্ত শরীর প্রদর্শন নিয়ে প্রতিবাদ করেছেন জাহ্নবী নিজেই। এই ঘটনায় সরব হলেন জয়া বচ্চন থেকে কঙ্গনা রনৌতরা।
আরও পড়ুন:
ইতিমধ্যেই এক অনুরাগীর সঙ্গে জাহ্নবীর একটি কথোপকথন ফাঁস হয়েছে। সেখানেই জাহ্নবীর মত, তাঁর দিকে এমন ভাবে ক্যামেরা তাক করা হয়েছে যে, পর্দায় তাঁর চরিত্রের থেকে তাঁর শরীর বেশি প্রাধান্য পেয়েছে। শুটিংয়ের সময়েও আপত্তি জানিয়েছিলেন জাহ্নবী। সেই কথোপকথনের স্ক্রিনশট এমনই দাবি করছে। শুটিং সেটে ‘পিদ্দী’র নায়ক রাম চরণ তাঁকে সমর্থন করেছিলেন বলেও জানান নায়িকা।
তবে তাতে বিশেষ কাজ হয়নি জাহ্নবী বলেছেন, “আমি বলে দিয়েছিলাম, স্তন ও কোমরের শট যেন আলাদা করে নেওয়া না হয়। রাম স্যরও আমাকে সমর্থন করেছিলেন এবং চিত্রগ্রাহককে কড়া ভাবে নিষেধ করেছিলেন। বিষয়টি নিয়ে তিনিও অসন্তুষ্ট হয়েছিলেন।” একে একে একাধিক অভিনেত্রী এই ঘটনার সমালোচনা করেছেন। এই প্রসঙ্গে অভিনেত্রী জয়া বচ্চনের সাফ কথা, ‘‘আমার সঙ্গে কোনও পরিচালক এমন কিছু করার সাহস পায়নি। এক বার একটা অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটে। তার পর সেই পরিচালকের সঙ্গে কাজ করিনি।’’ জয়ার সঙ্গে ঘটনাটি ঘটে ‘শোর’ ছবির সেটে। জয়া তখন প্রতিষ্ঠিত। এই ছবিতে ভিখারীর চরিত্রে অভিনয় করার কথা ছিল জয়ার। সেখানেই তাঁর বুকে কোথায় ওড়না থাকবে তা নিয়ে পরিচালকের নির্দেশে আপত্তি তোলেন জয়া।
অভিনেত্রী কঙ্গনা রনৌতও এই প্রসঙ্গে জানান, তিনি সর্বদা নিজের চারপাশে একটা সীমারেখা টেনে দেন। ঠিক কতটা ছাড় তিনি কাউকে দেবেন সেটা নিজেই নির্ধারণ করেন। কঙ্গনার কথায়, ‘‘আসলে সব সময় পরিচালকেরা হয়তো সে ভাবে দেখাতেও চান না। উদ্দেশপ্রণেদিত ভাবে নিচু দেখানোর জন্য মনে হয় না কেউ ছবি বানান।’’
এই ছবিতে অহেতুক যৌন ভঙ্গিমার দৃশ্য ছবিটির বাকি গল্প নষ্ট করে দিয়েছে বলে মত সমালোচকদের। এই এ হেন অভিযোগ শুনে ক্ষমা চেয়ে নেন ছবির পরিচালক বুচি বাবু সানা। এক্স হ্যান্ডলে তিনি লিখেছেন, “কাউকে অস্বস্তিতে ফেলা বা কাউকে অসম্মান করার ইচ্ছা কখনও আমার ছিল না। সিনেমার উদ্দেশ্য হওয়া উচিত দর্শককে বিনোদন দেওয়া, অনুপ্রাণিত করা এবং দর্শকের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করা।” পরিচালক জানান, নারীদের অবমাননা বা বস্তু হিসাবে উপস্থাপন করার কোনও উদ্দেশ্য তাঁদের ছিল না। ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে তিনি সবসময় নারীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধাশীল।