Advertisement
E-Paper

আপনাদের প্রশ্ন

বেসরকারি চাকরি করি। বেতন মাসে ২৬,৮০০ টাকা। স্ত্রী ও তিন বছরের ছেলে আছে। আমার সংসার খরচ বাবদ লাগে ১০,০০০ টাকা। মাসে ৫,৬০০ টাকা জীবনবিমায় ঢালি। বছরে ৪,৬০০ টাকা দিই পরিবারের স্বাস্থ্যবিমা খাতে।

শেষ আপডেট: ০২ জুন ২০১৬ ০২:৪২

• বেসরকারি চাকরি করি। বেতন মাসে ২৬,৮০০ টাকা। স্ত্রী ও তিন বছরের ছেলে আছে। আমার সংসার খরচ বাবদ লাগে ১০,০০০ টাকা। মাসে ৫,৬০০ টাকা জীবনবিমায় ঢালি। বছরে ৪,৬০০ টাকা দিই পরিবারের স্বাস্থ্যবিমা খাতে। পরিবারের নিরাপত্তা ও ছেলের সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য কোথায় কত টাকা লগ্নি করা উচিত আমার?

কৃষ্ণেন্দু সেন, শিলিগুড়ি

প্রথমেই আমি বলব, কোথায় কত টাকা ঢালা উচিত সেটা নির্ভর করে কোন ধরনের আর্থিক লক্ষ্য নিয়ে আপনি এগোচ্ছেন তার উপর।

Advertisement

এই লক্ষ্য দু’ধরনের হয়। দীর্ঘ মেয়াদি ও স্বল্প মেয়াদি। টাকা জোগাড়ের জন্য হাতে অনেকটা সময় পাওয়া যাবে, এমন কোনও লক্ষ্য পূরণে লগ্নি করতে চাইলে এক ধরনের প্রকল্প বাছতে হবে। আবার কম মেয়াদের মধ্যে উদ্দেশ্য পূরণ করতে হলে আর এক ধরনের।

যেমন ধরা যাক, দু’বছরের মধ্যে আপনি গাড়ি কিনতে চান। এখন যদি আপনি সেই টাকা জোগাড়ের জন্য শেয়ার বাজারে লগ্নি করেন, তা হলে খুব বোকামি হবে। কারণ, অল্প সময়ে কোনও তহবিল তৈরির জন্য ইকুইটিতে লগ্নি করা উচিত নয়। তাতে রিটার্ন যেমন বেশি পাওয়া যায় না, তেমনই মার খাওয়ার ঝুঁকিও থাকে। আবার উল্টো দিকে যদি এমন হয় যে, ২০ বছরের মধ্যে আপনি অবসর নেবেন এবং সে জন্য সঞ্চয় বাড়াতে বেছে নিলেন রেকারিং ডিপোজিট, তা হলে সর্বনাশ। কারণ, অবসরের সঞ্চয়ের মতো দীর্ঘমেয়াদের লক্ষ্য শুধুমাত্র রেকারিং ডিপোজিট দিয়ে কোনও ভাবেই পূর্ণ হওয়ার নয়। সুতরাং একেবারে শুরুতেই এই বিষয়টি মাথায় রেখে তারপর এগোতে হবে। এ বার পরিবারের নিরাপত্তা ও সন্তানের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আপনার মূল প্রশ্নের উত্তরে যাব।

১) আমি জানি না, মাসে মাসে ৫,৬০০ টাকা ঢেলে আপনি কত টাকার বিমামূল্য পাবেন। আমার মনে হয় জীবনবিমাকে রিটার্ন পাওয়ার জায়গা হিসেবে নয়, বরং পরিবারিক সুরক্ষার অস্ত্র হিসেবে দেখা উচিত। যা দিতে পারে কোনও ভাল টার্ম পলিসি।

২) গোটা পরিবারের জন্য এক লক্ষ টাকার স্বাস্থ্যবিমা খুব একটা কাজে আসবে না। এর পরিমাণ অবশ্যই বাড়ানো উচিত।

৩) ছেলের পড়াশোনা, অবসর জীবনের সঞ্চয়ের মতো লক্ষ্য পূরণের জন্য ভাল কোনও মিউচুয়াল ফান্ডে এসআইপি করতে পারেন। বিভিন্ন ধরনের শিল্পের একাধিক সংস্থার শেয়ারে তহবিলের টাকা খাটায়, এমন কোনও ফান্ডের ইউনিট কিনলে ভাল। অর্থাৎ আমি আপনাকে ডাইভার্সিফায়েড মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট কেনার কথা বলছি। যেখানে রিটার্ন বেশি হওয়ার সম্ভাবনাও থাকে, আবার ঝুঁকিও খানিকটা কম রাখা যায়।

৪) তিন মাসের বেতন সেভিংস অ্যাকাউন্টে রাখুন বা ফিক্সড ডিপোজিট করুন। এতে ভবিষ্যতে হঠাৎ করে কখনও টাকার প্রয়োজন পড়লে মাথায় হাত দিতে হবে না।

যা-ই করুন লগ্নি ও সঞ্চয়ের কৌশলকে সোজা-সরল রাখুন। দেখবেন ভবিষ্যতের লক্ষ্যগুলো মেটাতে অসুবিধা হচ্ছে না।

পরামর্শদাতা লগ্নি বিশেষজ্ঞ শৈবাল বিশ্বাস

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy