প্রঃ শেয়ারে লগ্নি করতে চাই। এতে কি খুব বেশি ঝুঁকি আছে? আমার বয়স ৪০। সেই ঝুঁকি নেওয়া উচিত কি? শেয়ার বাজার থেকে কি মাসে মাসে আয় করা যায়? এর ভাল-মন্দ বিষয়গুলি যদি বুঝিয়ে বলেন।

সৈকত কর, কালীঘাট

মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে জমানো টাকার ক্রয়ক্ষমতা বজায় রাখতে চাইলে শেয়ার বিনিয়োগ উপযুক্ত পথ। বাজারের ওঠাপড়ার সরাসরি প্রভাব  বইতে হয় বলে ঝুঁকি অনেকটা বেশি ঠিকই। তবে দীর্ঘ মেয়াদে ভাল শেয়ারে টাকা খাটালে হাতে আসা গড় রিটার্ন অন্য প্রায় সব ধরনের বিনিয়োগের থেকে বেশি। কোনও কোনও ক্ষেত্রে শেয়ারের একটি ব্যালেন্সড পোর্টফোলিওর সঙ্গে দীর্ঘ মেয়াদে পাল্লা দিতে পারে শুধুমাত্র সোনা।

শেয়ারে বিনিয়োগ করলে কোনও অবস্থাতেই একটি বা দু’টি সংস্থার উপর নির্ভর করবেন না। ব্যালেন্সড পোর্টফোলিও বলতে বোঝানো হয়, বিভিন্ন শিল্প ক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি সংস্থায় ঠিক অনুপাতে ঠিক লগ্নি। একটি পোর্টফোলিওতে অন্তত পক্ষে ১০ থেকে ১২টি শেয়ার থাকা উচিত। যা ভাগ হয়ে যাবে অন্তত ৪ থেকে ৫টি শিল্প ক্ষেত্রে। শেয়ারে বিনিয়োগে ঝুঁকি আছেই। সেই ঝুঁকিতে ব্যালেন্স করা বা ভারসাম্য রাখাই হচ্ছে ব্যালেন্সড বা ভারসাম্যপূর্ণ পোর্টফোলিও।

ভাল শেয়ার বাছতে পারলে, লম্বা সময় ধরে রাখতে পারলে এবং উপযুক্ত সময় বেচতে পারলে ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও চোখে পড়ার মতো রিটার্ন মেলা সম্ভব। তবে যদি শেয়ার বাছাই করতে অসুবিধা থাকে, তা হলে হাতের কাছেই পেয়ে যাবেন যে কোনও ইনডেক্স ফান্ড। যেমন নিফ্‌টি ভিত্তিক বিজ। সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ব্যালেন্সড পোর্টফোলিও হিসেবে এই ধরনের ইনডেক্স ফান্ড কিনে দীর্ঘ মেয়াদে ফেলে রাখতে পারেন।

আপনার যা বয়স, তাতে সাধ্য থাকলে কিছুটা ঝুঁকি নেওয়া যায়। তবে শেয়ারের লগ্নি থেকে মাসে মাসে আয়ের আশা করা যুক্তিসঙ্গত নয়। নিশ্চয়তাও দেওয়া যায় না।

পরামর্শদাতা: নীলাঞ্জন দে