E-Paper

বৈঠক চলতি মাসেই, রাজ্যে বড় ধরনের বিনিয়োগ করতে চায় রিলায়্যান্স

রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পরেই শিল্পায়নে নতুন লগ্নি টানতে উদ্যোগী হয়েছে বিজেপি সরকার। বিশেষ ভাবে জোর দেওয়া হয়েছে বড় শিল্প আনার পক্ষে।

অনমিত্র সেনগুপ্ত

শেষ আপডেট: ০৪ জুন ২০২৬ ০৮:৩৯

Sourced by the ABP

রাজ্যে ক্ষমতা বদলের পরে বড় মাপের লগ্নির ইচ্ছে প্রকাশ করল রিলায়্যান্স ইন্ডাস্ট্রিজ়। সূত্রের মতে, পশ্চিমবঙ্গে কোন কোন ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করা সম্ভব, তা নিয়ে আলোচনা করতে চলতি মাসেই রাজ্য সরকারের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক ভাবে বৈঠকে বসতে চলেছেন সংস্থার প্রতিনিধিরা। অন্য দিকে, আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গকে ডেটা সেন্টার হাবে পরিণত করতে ২০২১ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের আনা ডেটা সেন্টার নীতিতেও প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে চলেছে রাজ্য।

রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পরেই শিল্পায়নে নতুন লগ্নি টানতে উদ্যোগী হয়েছে বিজেপি সরকার। বিশেষ ভাবে জোর দেওয়া হয়েছে বড় শিল্প আনার পক্ষে। পশ্চিমবঙ্গে শিল্পায়নের গতি তরান্বিত করতে তৈরি হচ্ছে নতুন জমি অধিগ্রহণ নীতি। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, ইতিমধ্যেই একাধিক বড় মাপের সংস্থা রাজ্যে লগ্নিতে আগ্রহ দেখিয়েছে। সেই তালিকায় রয়েছে রিলায়্যান্সও। সূত্রের মতে, দেশের অন্যতম বড় এই বাণিজ্যিক সংস্থার পূর্বাঞ্চলীয় শাখার পক্ষ থেকে রাজ্যে পুঁজি ঢালার আগ্রহ দেখানো হয়েছে। তারা একাধিক ক্ষেত্রে লগ্নির লক্ষ্যে সম্প্রতি বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ করে। বিশেষ ভাবে উৎসাহ দেখানো হয়েছে বিকল্প শক্তি উৎপাদন কেন্দ্র গড়ার প্রশ্নে। আগ্রহ রয়েছে তথ্যপ্রযুক্তি শিল্প, বস্ত্রশিল্প শিল্পগুচ্ছ বা ক্লাস্টার গঠনেও। সূত্রের মতে, সব ঠিক থাকলে এ নিয়ে বিস্তারিত ভাবে কথা বলতে চলতি মাসেই শিল্প দফতরের সঙ্গে বৈঠকে বসতে চলেছেন ওই সংস্থার প্রতিনিধিরা।

পশ্চিমবঙ্গে লগ্নির প্রশ্নে বড় বাধা ছিল জমি। সম্প্রতি বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য জানান, শিল্প টানতে শীঘ্রই জমি নীতি আনতে চলেছে সরকার। পাশাপাশি শিল্প ক্ষেত্রে আগের সরকারের আমলে হওয়া সিন্ডিকেটরাজ বা তোলাবাজি যে চলবে না, সেই বার্তাও দেওয়া হয়েছে। সূত্রের দাবি, রাজ্য মনে করছে আগামী দিনে পূর্ব ভারতের সর্ববৃহৎ ডেটা সেন্টার হাব হয়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে কলকাতার। বর্তমানে দেশের ডেটা সেন্টার-কেন্দ্রিক ব্যবসার প্রায় ৫০% মুম্বইতে। কিন্তু ভবিষ্যতে এ ক্ষেত্রে লগ্নি টানতে পারে কলকাতা।

পাঁচ বছর আগে রাজ্যে ডেটা সেন্টার নীতি আনা হয়েছিল। লগ্নি আনতে তাতে সময়োপযোগী পরিবর্তনেও নেমেছে সরকার। ভৌগোলিক অবস্থানের কথা ভেবে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা যাতে পশ্চিমবঙ্গে তাদের ডেটা সেন্টার হাব বানাতে উৎসাহী হয়, সেই লক্ষ্যেই ওই উদ্যোগ। রাজ্যে বিজেপির এক নেতার ব্যাখ্যা, ‘‘দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রবেশদ্বার কলকাতা। স্বভাবতই মেটা, গুগ্‌ল, অ্যামাজ়নের মতো সংস্থার কাছে ওই হাব তৈরিতে সিঙ্গাপুরের চেয়ে কলকাতা অনেক বেশি লাভজনক। কারণ রাজ্যে শিল্পের জন্য যেমন জমি রয়েছে, তেমনই নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও জলের সরবরাহও রয়েছে। দক্ষ প্রযুক্তিবিদের অভাব নেই। ফলে একাধিক বিদেশি ও দেশি সংস্থা ওই হাব বানাতে আগ্রহী।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Mukesh Ambani Investment

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy