মূলধনের খরচ কমাতে বহু দিন ধরে সুদ কমানোর দাবি জানিয়ে আসছিল শিল্প। মূল্যবৃদ্ধি মাথা নামানোয় সেই প্রত্যাশা তৈরিও হয়েছিল। তা মিলিয়েই বৃহস্পতিবার সুদ কমানোর কথা জানালেন রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর শক্তিকান্ত দাস। তাঁর প্রথম ঋণণীতি পর্যালোচনাতেই। সাধারণ ঋণগ্রহীতাদের আশা, এ বার বাড়ি, গাড়ি, ভোগ্যপণ্যের ঋণে সুদ ছাঁটবে বাণিজ্যিক ব্যাঙ্কগুলি। আর শিল্প বলছে, অর্থনীতির স্বার্থে জরুরি ছিল এই পদক্ষেপ। মূলধন জোগাড়ের খরচ কমলে লগ্নির পথ চওড়া হবে। তাদের দাবি, এতে সব থেকে উপকৃত হবে ক্ষুদ্র-ছোট-মাঝারি শিল্প।

এ দিন শক্তিকান্তের আশ্বাস, মূল্যবৃদ্ধি কম থাকলে আরও কমবে সুদ। তিনিও বলেন, ‘‘মূল্যবৃদ্ধি এখন রিজার্ভ ব্যাঙ্কের লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে। তাই দেশের উন্নয়নের স্বার্থে সময় মতো সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি ছিল।’’

প্রায় ১৮ মাস পরে রেপো রেট (যে সুদে আরবিআইয়ের থেকে স্বল্প মেয়াদে ধার নেয় বাণিজ্যিক ব্যাঙ্ক) কমাল শীর্ষ ব্যাঙ্ক। তা ২৫ বেসিস পয়েন্ট কমে হয়েছে ৬.২৫%। রেপো রেট কমায় আরবিআইয়ের থেকে ঋণ নিতে ব্যাঙ্কগুলির তহবিল সংগ্রহের খরচ কমবে। ফলে ঋণ দেওয়ার সময় তাদের পক্ষেও সুদ কম নেওয়ার পথ খুলবে। তবে ব্যাঙ্কিং মহলের একাংশ বলছে, এমন নজির আছে, যেখানে রেপো রেট কমলেও ব্যাঙ্কগুলি সুদ কমায়নি। যুক্তি ছিল, রেপোর সুদ স্বল্প মেয়াদি ঋণের। কিন্তু বহু ক্ষেত্রেই ব্যাঙ্কগুলিকে ঋণ দিতে হয় দীর্ঘ মেয়াদে। ফলে সমস্যা হয়। ইউনাইটেড ব্যাঙ্কের এগ্‌জ়িকিউটিভ ডিরেক্টর অজিত কুমার দাস বলেন, ‘‘চটজলদি ব্যাঙ্কগুলি সুদ কমাবে কি না বা কতটা কমাবে, তা নির্ভর করবে ব্যাঙ্কের অ্যাসেট লায়াবিলিটি কমিটির সিদ্ধান্তের উপর।’’ তবে অনেকের মতে, শিল্পের অগ্রগতি সুদ ছাড়াও নির্ভর করে চাহিদা-সহ আরও কিছু বিষয়ের উপর। এতে ছোট শিল্পের সুবিধা হবে, মত ইউনিয়ন ব্যাঙ্কের প্রাক্তন সিএমডি দেবব্রত সরকারের। আর ক্রেডাইয়ের সভাপতি জাক্সে শাহ বলছেন, ‘‘সুদ কমায় ফ্ল্যাটের চাহিদা বাড়বে আশা করছি।’’