আর্থিক হাল ভাল নয়। বাকি পড়েছে ধারও। কিন্তু তা বলে ফুরিয়ে যায়নি ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা। এ দেশে এমন ঋণখেলাপি সংস্থা চাঙ্গা করতে টাকা ঢালার প্রতিশ্রুতি দিল ব্রুকফিল্ড অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট। প্রাথমিক ভাবে তাদের পরিকল্পনা ১০০ কোটি ডলার (৬,৭০০ কোটি টাকা) লগ্নির। এ জন্য যৌথ উদ্যোগে সামিল হতে স্টেট ব্যাঙ্কের সঙ্গে সমঝোতাপত্রও (মউ) সই করেছে কানাডার সংস্থাটি।
স্টেট ব্যাঙ্ক সূত্রে খবর, এ দেশে বহু সংস্থা আছে, যারা আর্থিক সমস্যার কারণে সময়ে ধার শোধ দিতে পারেনি। তবে অনুৎপাদক সম্পদে পরিণত হয়নি তাদের ঋণও। অর্থাৎ, মজুত আছে ঘুরে দাঁড়ানোর রসদ। এই ধরনের ঋণখেলাপি সংস্থাতেই শেয়ারের বিনিময়ে টাকা ঢালার পরিকল্পনা করছে ব্রুকফিল্ড। খতিয়ে দেখার পরে তেমন সুযোগ যথেষ্ট পরিমাণে পেলে ৬,৭০০ কোটি টাকা লগ্নির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তারা। এই লক্ষ্যে তৈরি তহবিলে ৫% অর্থ জোগাতে তৈরি স্টেট ব্যাঙ্কও।
সংবাদ সংস্থা পিটিআইয়ের খবর, ব্যাঙ্কটির কর্ণধার অরুন্ধতী ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, ঋণদাতা ও গ্রহীতা, দু’জনের কাছেই এই পথ গ্রহণযোগ্য। কোথাও হয়তো ঘুরে দাঁড়াতে সংস্থা নতুন করে টাকা ঢালার অবস্থায় নেই। আবার নতুন করে ঋণ দিয়ে ঝুঁকি বাড়াতে রাজি নয় ব্যাঙ্কও। সে ক্ষেত্রে এই বিকল্প রাস্তা কার্যকরী। ব্রুকফিল্ডের ভারতীয় ব্যবসার প্রধান অনুজ রঞ্জনও মনে করেন, এ দেশে বিপুল বাজার অপেক্ষা করছে তাঁদের জন্য। শেষমেশ ব্রুকফিল্ড এই লগ্লির পথে হাঁটলে, গোড়ায় অগ্রাধিকার পাবে স্টেট ব্যাঙ্কের হিসেবের খাতায় নাম থাকা ঋণখেলাপি সংস্থাগুলি। পরে অন্য ব্যাঙ্কের সংস্থাও আসতে পারে তাদের ব্যবসার বৃত্তে।
ঋণ খেলাপের সমস্যা নিয়ে জেরবার স্টেট ব্যাঙ্ক-সহ রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলি। ২০১২ থেকে ২০১৫-এর মধ্যে ১.১৪ লক্ষ কোটি টাকার ধার মুছে ফেলতে হয়েছে হিসেবের খাতা থেকে। সময়ে শোধ না-হওয়া ধারের অঙ্ক পৌঁছেছে ৮ লক্ষ কোটিতে। এ অবস্থায় সমস্যা সামাল দেওয়ার বিকল্প রাস্তা তাই উৎসাহিত করেছে স্টেট ব্যাঙ্ককে। আবার লাভের গন্ধে আগ্রহী ব্রুকফিল্ডও। ঠিক যে কারণে ঋণখেলাপি সংস্থায় টাকা ঢালতে দেশে এসেছে কানাডা পেনশন প্ল্যান। ৫২.৫ কোটি ডলারের তহবিল গড়তে কোটক ব্যাঙ্কের সঙ্গে জোট বেঁধেছে তারা।