লোকসভা নির্বাচন শুরু হতে এখনও এক মাস বাকি। ফল প্রকাশ হতে প্রায় আড়াই মাস। তবে স্থায়ী সরকারের আশায় এখন থেকেই বুক বাঁধছেন লগ্নিকারীরা। এর ফলে নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণার পরের দু’দিনে বড় উত্থান হল ভারতীয় শেয়ার বাজারের। সেই সঙ্গে বিদেশি লগ্নিকারীদের বিনিয়োগের ফলে ডলারের নিরিখে বাড়ল টাকার দামও। 

সোমবারই ৩৮২.৬৭ পয়েন্ট বেড়ে ছ’মাসের সর্বোচ্চ জায়গায় পৌঁছে যায় সেনসেক্স। আর মঙ্গলবার সেনসেক্স দৌড় শেষ করে ৪৮১.৫৬ পয়েন্ট উঠে। ফলে এই দু’দিনের লেনদেনেই সেনসেক্সের উত্থান হল ৮৬৪.২৩ অঙ্ক। সেনসেক্স শেষ হল ৩৭৫৩৫.৬৬ পয়েন্টে। আগের দিন ১৩২.৬৫ পয়েন্ট উত্থানের পরে এ দিন নিফ্‌টিও বেড়েছে ১৩৩.১৫ অঙ্ক, পার করে ১১,৩০০ অঙ্কের গণ্ডি। 

বাজার বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির পাশাপাশি আরও বেশ কিছু কারণ রয়েছে শেয়ার সূচকের উত্থানের পিছনে। এক, এশিয়া এবং ইউরোপ-সহ আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বিভিন্ন স্টক এক্সচেঞ্জের সূচকের চাঙ্গা হওয়া। দুই, বিদেশি লগ্নিকারী সংস্থাগুলির বিনিয়োগ। ফেব্রুয়ারির পর মার্চেও ওই সংস্থাগুলি ভারতের বাজারে পুঁজি ঢেলে চলেছে। তিন, খুচরো মূল্যবৃদ্ধি কিছুটা বাড়লেও তা এখনও রয়েছে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের লক্ষ্যমাত্রার মধ্যেই। ফলে আগামী ঋণনীতিতেও সুদ কমার আশা করছেন লগ্নিকারীরা। 

এরই পাশাপাশি ডলারের নিরিখে গত কয়েক দিন টাকার দাম ক্রমশ বেড়েছে। বিদেশি লগ্নিকারী সংস্থাগুলি বিদেশ থেকে ডলার এনে তা টাকায় রূপান্তরিত করেই শেয়ারে লগ্নি করে। যার ফলে বাজারে দ্রুত বেড়ে যায় ডলারের জোগান। ঠিক এ কারণেই ডলারের নিরিখে বাড়ছে টাকার দাম। হয়েছে দু’মাসের সর্বোচ্চ। এ দিন ১ ডলারের দাম ১৮ পয়সা কমে হয়েছে ৬৯.৭১ টাকা। গত দু’দিনে ৪৩ পয়সা পড়ল ডলারের দাম। 

তবে বিশেষজ্ঞেরা বলছেন, এ দিন বাজার বন্ধের পরে শিল্পোৎপাদন এবং মূল্যবৃদ্ধির যে অঙ্ক প্রকাশিত হয়েছে, তা শেয়ার বাজারের পক্ষ হতাশজনক। কারণ শিল্পোৎপাদন কমার পাশাপাশি খুচরো মূল্যবৃদ্ধি পৌঁছেছে চার মাসের সবচেয়ে উঁচুতে। ফলে বুধবার দুই সূচক কোন পথে পা বাড়ায় সে দিকে নজর রাখতে হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞেরা। ক্যালকাটা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রাক্তন ডিরেক্টর এস কে কৌশিক বলেন, ‘‘বাজার যে গতিতে বাড়ছে তাতে আমার আশঙ্কা, চলতি মাসের শেষের দিকে দামে বড় মাপের সংশোধন হতে পারে। সেটা হলে সাধারণ লগ্নিকারীদের কাছে শেয়ার কেনার ভাল সুযোগ তৈরি হবে।’’