অর্থবর্ষের প্রথম তিন মাসে জিএসটি থেকে আয়ে ঘাটতি ৪৩,০০০ কোটি টাকা ছুঁয়েছে। পাশাপাশি, মধ্যবিত্তের ব্যবহার্য বহু পণ্যে সম্প্রতি কর কমানোয় ১৫,০০০ কোটি টাকা রাজস্ব ক্ষতি হতে পারে বলে অনুমান। তার উপরে অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকে রাজকোষ ঘাটতি যথেষ্ট। এই ত্র্যহস্পর্শে ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প এবং ডিজিটাল লেনদেনে ছাড়ের রাস্তা আপাতত চূড়ান্ত করতে পারল না জিএসটি পরিষদ।

মধ্যবিত্তদের মন জয়ে প্রায় ১০০টি পণ্যে জিএসটি কমানো হয়েছে। আজ পরিষদের বৈঠকে ছোট শিল্পকেও সুরাহা দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েছিল মোদী সরকার। কিন্তু এ দিন ঐক্যমত্য হয়নি। আগের বৈঠকে বহু পণ্যের কর ২৮% থেকে কমিয়ে ১৮% করা হলেও সিমেন্টের জিএসটি কেন ২৮% রয়ে গেল তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন পশ্চিমবঙ্গের অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র। তাঁর যুক্তি, গরিব মানুষের ঘর তৈরিতেও তো সিমেন্ট লাগে। তবে এর পাশাপাশি ছোট শিল্পকে সুরাহা দেওয়ার দাবি তুলেছে বিভিন্ন রাজ্য। অমিতবাবু বলেন, আগে বছরে দেড় কোটি টাকা পর্যন্ত ব্যবসায় কেন্দ্রীয় কর দিতে হত না। তা মাথায় রাখতে হবে। ঠিক হয়েছে, অফিসারদের নিয়ে তৈরি আইন ও করের হার সংক্রান্ত কমিটি ছোট শিল্পকে সুরাহার বিষয়টি খতিয়ে দেখবে। তার পরে তা আলোচিত হবে অর্থ প্রতিমন্ত্রী শিবপ্রতাপ শুল্কের নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিগোষ্ঠীতে।

এ দিন ডিজিটাল লেনদেনে উৎসাহ দিতে জিএসটি ছাড় নিয়েও আপত্তি তোলেন অমিতবাবু। তিনি জানান, এই ছাড় দিলে একাধিক ক্ষেত্রে ছাড়ের দাবি উঠবে। পশ্চিমবঙ্গের প্রায় ১,৬০০ কোটি টাকা ক্ষতি হতে পারে। রাজ্য কী ভাবে সেই ক্ষতির বোঝা সামলাবে? কেরল-সহ বিরোধী শাসিত রাজ্যগুলি তাঁকে সমর্থন করে। ফলে ঠিক হয়, আপাতত পরীক্ষামূলক ভাবে কয়েকটি রাজ্যে ছাড় চালু হবে। ভারপ্রাপ্ত অর্থমন্ত্রী পীযূষ গয়ালের দাবি, ‘‘গ্রামের মানুষ ভিম অ্যাপ, ইউপিআই, ইউএসএসডি ও রুপে ডেবিট কার্ডে বেশি ডিজিটাল লেনদেন করেন। তাতে জিএসটি বাবদ ২০% ক্যাশব্যাক দেওয়া হবে। তবে তা ১০০ টাকার বেশি নয়।’’ পীযূষ জানান, প্রথমে এর প্রযুক্তি তৈরি হবে। তার পরে কোনও রাজ্য স্বেচ্ছায় পাইলট প্রকল্প শুরু করবে। জিএসটি কার্যকর করার কমিটির চেয়ারম্যান সুশীল মোদীর দাবি, বিহার, উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, রাজস্থানের মতো রাজ্য পরীক্ষামূলক প্রকল্পে রাজি।

সিদ্ধান্ত

• ডিজিটাল লেনদেনে জিএসটি ছাড়ে পাইলট প্রকল্প।

• ক্ষতির আশঙ্কায় নারাজ পশ্চিমবঙ্গ। সঙ্গী আরও রাজ্য।

• ছোট শিল্পকে ছাড় নিয়ে কথা অফিসারদের কমিটিতে।

 

সমস্যা

• প্রথম ত্রৈমাসিকে রাজকোষ ঘাটতির অঙ্ক যথেষ্ট।

• জিএসটি থেকে আয়ে ঘাটতি ৪৩,০০০ কোটি।

• কর কমানোয় রাজস্ব ক্ষতি আরও বাড়তে পারে।