পশ্চিমবঙ্গকে যেন ‘সৎ সন্তানের’ মতো দেখা না হয়, বাজেটের প্রস্তুতি পর্বে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের সঙ্গে মুখোমুখি বৈঠকে বসে এই দাবিই জানাল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। শনিবার নয়াদিল্লিতে বিভিন্ন রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের অর্থমন্ত্রীদের সঙ্গে আলোচনায় বসেছিলেন নির্মলা। উপস্থিত ছিলেন তাঁর মন্ত্রকের কর্তারাও। বৈঠকের পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পশ্চিমবঙ্গে অর্থ দফতরের ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘অর্থমন্ত্রীকে বলেছি রাজ্যকে যেন সৎ সন্তানের মতো দেখা না হয়। কেন্দ্রের কাছে ১.৯৭ লক্ষ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে রাজ্যের। সেই টাকা দিতে অনুরোধ জানিয়েছি।’’ কোন কোন খাতে মোদী সরকারের থেকে রাজ্যের প্রাপ্য টাকা বকেয়া রয়েছে, তার তালিকাও তুলে ধরেন তিনি। জানান, বিভিন্ন পণ্যে জিএসটি-র হার কমানোর ফলে রাজ্যের যে ক্ষতি হচ্ছে, ফের তা পূরণের দাবি তুলেছেন। তবে ইডি-র হানা নিয়ে কথা হয়েছে কি না, সেই প্রশ্নের উত্তরে তাঁর স্পষ্ট বার্তা, ‘‘এটা বাজেট প্রস্তুতি বৈঠক। এখানে ওই কথা কেন আলোচনা হবে?’’
এ দিনের বৈঠকে আসন্ন বাজেটেও লগ্নিভিত্তিক আর্থিক সহায়তা প্রকল্প বহাল রাখার সওয়াল করেছে একাধিক রাজ্য। পরিকাঠামো, কৃষিতে বরাদ্দ বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছে হরিয়ানা। বিশেষ আর্থিক প্রকল্প চেয়েছে পঞ্জাব, তেলঙ্গানা। কর্নাটকের দাবি, জিএসটি-র হার কমানো-সহ নানা কারণে রাজ্যের আর্থিক হাল খারাপ হচ্ছে, সে দিকে নজর দিক মোদী সরকার। এই প্রসঙ্গেই চন্দ্রিমার দাবি, পশ্চিমবঙ্গের সরকার সব সময়েই মানুষের পাশে থাকে। কিন্তু জিএসটি কমায় রাজ্যের যে ক্ষতি হচ্ছে, বাজেটে তা পূরণের ব্যবস্থা করুক কেন্দ্র। এ ক্ষেত্রে সেস-সারচার্জ খাতে কেন্দ্রের আয় রাজ্যগুলির সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
চন্দ্রিমা জানান, দীর্ঘ দিন ধরে আশা, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের ভাতা স্থির। তা পর্যালোচনার দাবি জানান তিনি। গঙ্গা-পদ্মা ক্ষয় রোধের জন্য টাকা দিতেও অনুরোধ করেছেন। তাঁর কথায়, ‘‘নির্মলা সব মন দিয়ে শুনে লিখে নিয়েছেন। আশ্বাস দিয়েছেন, দাবিগুলি খতিয়ে দেখা হবে।’’
এ দিকে, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বাংলাভাষী মানুষকে হেনস্থার শিকার হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ দিন চন্দ্রিমার দাবি, ‘‘বৈঠকের শেষে আমি বাংলাতেই কথা বলেছি। ‘জয় বাংলা’ বলে তুলে ধরেছি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অবদানের কথা।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)