Advertisement
E-Paper

খনি থেকেই ১৯ হাজার কোটি

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে নিলামে উঠেছে এ রাজ্যের তিনটি কয়লা খনি। সরাসরি বরাদ্দের জন্য আরও আটটি এসেছে রাজ্যের হাতে। ওই ১১টি খনি থেকেই নিলামে পাওয়া দাম এবং কয়লার রয়্যালটি আর সেস বাবদ ১৯,৩১০ কোটি টাকা পাবে পশ্চিমবঙ্গ।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৬ জুন ২০১৫ ০৩:১৬

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে নিলামে উঠেছে এ রাজ্যের তিনটি কয়লা খনি। সরাসরি বরাদ্দের জন্য আরও আটটি এসেছে রাজ্যের হাতে। ওই ১১টি খনি থেকেই নিলামে পাওয়া দাম এবং কয়লার রয়্যালটি আর সেস বাবদ ১৯,৩১০ কোটি টাকা পাবে পশ্চিমবঙ্গ। বৃহস্পতিবার কলকাতায় এসে এ কথা জানিয়ে গেলেন কয়লা সচিব অনিল স্বরূপ। একই সঙ্গে, কোল ইন্ডিয়া বেসরকারিকরণের কোনও পরিকল্পনা নেই বলেও স্পষ্ট জানিয়ে গেলেন তিনি।

এ দিন ভারত চেম্বার অব কমার্স আয়োজিত এক আলোচনা সভায় যোগ দিতে এসে স্বরূপ বলেন, ‘‘কয়লা খনি নিলাম করে যে টাকা পাওয়া যাবে, তার পুরোটাই পাবে রাজ্যগুলি। কেন্দ্রের কোষাগারে একটি পয়সাও ঢুকবে না। শুধু তা-ই নয়, পরে ওই সব খনি থেকে কয়লা উত্তোলন বাবদ রয়্যালটি এবং সেস থেকেও মোটা অঙ্কের টাকা আসবে রাজ্যগুলির ভাঁড়ারে।’’ স্বরূপের দাবি, সারা দেশে খনি নিলাম এবং রয়্যালটি-সেস বাবদ মোট ৩ লক্ষ কোটি টাকা আয় হবে। যে সব রাজ্যে ওই সব খনি রয়েছে, ওই টাকা তাদের মধ্যে আনুপাতিক হারে ভাগ হবে।

তবে এখনই যে সব টাকা রাজ্যের হাতে চলে আসবে, ব্যাপারটা সে রকম নয়। স্বরূপ জানান, ৩০ বছর ধরে ওই টাকা ধীরে ধীরে রাজ্যের কোষাগারে ঢুকবে। তবে সব ক্ষেত্রেই যে ৩০ বছর সময় লাগবে, তা নয়। সময়ের বিষয়টি নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট খনিতে মজুত থাকা কয়লা তুলতে কতটা সময় লাগবে, তার উপর। যেমন, কোনও খনিতে মজুত থাকা কয়লা যদি ১০ বছরের মধ্যে তোলা সম্ভব হয়, তাহলে ওই সময়েই সেই খনির নিলাম বাবদ পাওয়া টাকা ছাড়াও রয়্যালটি এবং সেসের অঙ্ক চলে আসবে রাজ্যের ঘরে।’’

Advertisement

১৯,৩১০ কোটি টাকা কী ভাবে পাবে রাজ্য সরকার?

ইতিমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের ৩টি খনি নিলাম করা হয়েছে। কয়লা মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ওই তিন খনি থেকে নিলাম বাবদ রাজ্য পাবে ১১,২০৩ কোটি টাকা। রয়্যালটি বাবদ ২,০০৭ কোটি। এ ছাড়া, নিলামে অংশ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির আগাম জমা দেওয়া ১৪৩ কোটি টাকাও আসবে রাজ্যের কোষাগারে।

এর পাশাপাশি, ৮টি খনি সরাসরি রাজ্য বিদ্যুৎ উন্নয়ন নিগমকে মঞ্জুর করা হয়েছে। ওই খনিগুলির দাম বাবদ রাজ্য পাবে ২,৩০৯ কোটি টাকা। তা ছাড়া, ওই সব খনি থেকে যে কয়লা উঠবে, তার রয়্যালটি হিসেবেও রাজ্য সরকারের ঘরে আসবে ৩,৬৪৮ কোটি।

উল্লেখ্য, ইউপিএ জমানায় বেশ কিছু খনি বিভিন্ন সংস্থার হাতে গিয়েছিল। কিন্তু সিএজি অভিযোগ তোলে যে, খনিগুলি বাজার মূল্যের থেকে কমে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ নিয়ে মামলা সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়ায়। শেষমেশ শীর্ষ আদালত রায় দেয় যে, খনিগুলির বণ্টন বাতিল করে পুনরায় তা বিক্রি করতে হবে। সেই মতো কেন্দ্র সিদ্ধান্ত নেয় যে, কিছু খনি নিলাম করা হবে এবং বাকি খনি নির্দিষ্ট যোগ্যতার ভিত্তিতে সরাসরি দেওয়া হবে সরকারি বা বেসরকারি সংস্থাকে। ওই ভাবে নিলাম এবং সরাসরি বণ্টনের জন্য প্রথম তালিকায় ২০৪টি খনি চিহ্নিত করা হয়েছে। তার মধ্যে বেশ কিছু খনির নিলাম প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। কিছু খনি সরাসরি বণ্টন করা হয়েছে। ইউপিএ আমলে রাজ্যের ২৮টি খনি বণ্টন করা হয়েছিল। শীর্ষ আদালতের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে সেগুলি সবই বাতিল হয়ে যায়।

এ দিন স্বরূপ স্পষ্ট এ-ও জানান যে, কোল ইন্ডিয়াকে বেসরকারিকরণের কোনও পরিকল্পনা কেন্দ্রের নেই। তিনি বলেন, ‘‘আমরা যে পরিকল্পনা তৈরি করেছি, তার একমাত্র উদ্দেশ্য কয়লার উৎপাদন দ্রুত বাড়ানো। দেশের আর্থিক বৃদ্ধি বছরে ৮ থেকে ৯ শতাংশ হলে, ২০২০ সালে কয়লার চাহিদা গিয়ে দাঁড়াবে ১৫০ কোটি টন। এর মধ্যে কোল ইন্ডিয়ার কাছ থেকে ১০০ কোটি টন পাওয়া যাবে। বাকি ৫০ কোটি টন কয়লা বেসরকারি উদ্যোগে উৎপাদনের পরিকল্পনা করা হয়েছে।’’

কয়লা সরবরাহের ক্ষেত্রে পরিবহণ একটা বড় সমস্যা। বর্তমানে কয়লা সরবরাহের জন্য মূলত রেলের উপরই নির্ভর করে বসে থাকতে হয়। স্বরূপ জানান, কয়লা উত্তোলনের জন্য আপাতত নতুন ৬০টি খনি চিহ্নিত করা হয়েছে। ওই সব খনি থেকে কয়লা তোলার পরে যাতে তা দ্রুত পরিবহণ করা সম্ভব হয়, তার জন্য রেল, রাজ্য এবং সংশ্লিষ্ট কয়লা উৎপাদন সংস্থা মিলে যৌথ উদ্যোগ সংস্থা বা স্পেশাল পারপাস ভেহিক্‌ল (এসপিভি) গড়ে তোলা হবে। এ রকম গোটা কয়েক এসপিভি গঠন করা হবে স্বরূপের দাবি।

19 thousand crore rupees coal mine auction coal cess west bengal coal mine auction state coal mine auction
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy