E-Paper

সম্পদ বেড়েছে ৩৩.৮৪ লক্ষ কোটির, বহু ঝড় সামলে ২০২৫ সালে লাভের মুখ দেখিয়েছে শেয়ার বাজার

শেয়ার সূচক বাড়লেও, চলতি বছর ভাল যায়নি টাকার। ডলারের সাপেক্ষে এই সময়ে ভারতীয় মুদ্রাটির দাম নেমেছে ৫%। ইউরো, পাউন্ড ও জাপানের ইয়েনের সাপেক্ষে তার পতন যথাক্রমে ১৯%, ১৪% এবং ৫%।

নিজস্ব প্রতিবেদন

শেষ আপডেট: ০১ জানুয়ারি ২০২৬ ০৮:৪০

—প্রতীকী চিত্র।

ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ভারতীয় পণ্যে আমেরিকার ৫০% শুল্ক বসানো-সহ একাধিক ঝঞ্ঝা সত্ত্বেও দেশে শেয়ার বাজারে লগ্নিকারীদের মুনাফার মুখ দেখাল ২০২৫ সাল। চলতি বছরে তাঁদের শেয়ার সম্পদ বেড়েছে প্রায় ৩৩.৮৪ লক্ষ কোটি টাকা। বিএসই-তে নথিভুক্ত সংস্থাগুলির মোট শেয়ারমূল্য দাঁড়িয়েছে ৪,৭৫,৭৯,২৩৮.১১ কোটি। বাজার মহলের আশা, আয়কর ও জিএসটির হার কমানো এবং সুদের হার ছাঁটাই-সহ কেন্দ্র ও রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্কের বিভিন্ন পদক্ষেপ ফল দিলে এবং পরিকাঠামো ক্ষেত্রে সরকারের লগ্নি বহাল থাকলে নতুন বছরেও ভাল মুনাফার মুখ দেখবেন বিনিয়োগকারীরা।

টানা পাঁচ দিনের পতনের পরে বুধবার ৫৪৫.৫২ পয়েন্ট বেড়েছে সেনসেক্স। যার হাত ধরে ২০২৫ সালে সূচকের মোট উত্থান দাঁড়িয়েছে ৭০৮১.৫৯ পয়েন্ট বা ৯%। নিফ্‌টিও এ দিন বেড়েছে ১৯০.৭৫ পয়েন্ট। পুরো বছরে ২৪৮৪.৮ পয়েন্ট (১০.৫০%)। বছর শেষে দুই সূচক থেমেছে যথাক্রমে ৮৫,২২০.৬০ ও ২৬,১২৯.৬০ অঙ্কে।

শেয়ার সূচক বাড়লেও, চলতি বছর ভাল যায়নি টাকার। ডলারের সাপেক্ষে এই সময়ে ভারতীয় মুদ্রাটির দাম নেমেছে ৫%। ইউরো, পাউন্ড ও জাপানের ইয়েনের সাপেক্ষে তার পতন যথাক্রমে ১৯%, ১৪% এবং ৫%। এক সময়ে ৯১ টাকার গণ্ডিও পেরিয়েছিল ডলার। বুধবার বছরের শেষ দিনে তা দাঁড়িয়েছে ৮৯.৮৮ টাকায়। বৃদ্ধি ১৩ পয়সা।

বাজার মহলের মতে, আমেরিকার বাণিজ্য তথা শুল্ক নীতিতে এ বছরে বিপর্যস্ত হয়েছে বিশ্বের আর্থিক পরিস্থিতি। ভারতের রফতানিতে তার জের পড়েছে। তবে সামগ্রিক ভাবে দেশে আর্থিক বাজারের ছবিটা ছিল উজ্জ্বল। ফেব্রুয়ারিতে আয়করে ছাড় বাড়িয়ে মানুষের হাতে খরচের জন্য বাড়তি অর্থ তুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছিল কেন্দ্র। সেপ্টেম্বরে কমানো হয়েছে ৩৭৫টি পণ্যে জিএসটি। কমেছে তার স্তরও। অন্য দিকে, মূল্যবৃদ্ধি মাথা নামানোর সুযোগে সুদ ছেঁটেছে রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্ক। লক্ষ্য, শিল্প ও গাড়ি-বাড়ি ঋণের চাহিদা বৃদ্ধি। কেন্দ্র পরিকাঠামোয় ঢেলেছে প্রায় ২.৫ লক্ষ কোটি টাকা। দেশের আর্থিক বৃদ্ধির হারও চড়া। ফলে সব মিলিয়ে স্বস্তিতে লগ্নিকারীরা।

তবে এর মধ্যে ২০২৫ সালে বড় আঘাত হেনেছে বিদেশি লগ্নি সংস্থাগুলির পুঁজি তুলে নেওয়া। সারা বছরে তার অঙ্ক ১.৬৬ লক্ষ কোটি টাকা। শেয়ার পরিসংখ্যানবিদ সিদ্ধার্থ মিত্র জানাচ্ছেন, শুধু বুধবারেই তারা তুলেছে ৩৫৯৭.৩৮ কোটি। মূলত টাকার অবমূল্যায়ন এবং শুল্কের চাপই এ জন্য দায়ী। উল্টো পথে হেঁটে শেয়ারে দেশীয় মিউচুয়াল ফান্ডগুলির লগ্নি বেড়েছে ২০%। নিট হিসেবে সূচক তেমন না উঠলেও, ২০২৫ সালে বাজার ছেয়েছে নতুন ইসু। এই সময়ে ১০৩টি সংস্থা প্রথমবার শেয়ার ছেড়ে তুলেছে ১.৯৫ লক্ষ কোটি টাকা। বাজার বিশেষজ্ঞ আশিস নন্দী জানান, এর ফলে শেয়ারে খুচরো লগ্নিকারীর সংখ্যা অনেকটাই বেড়েছে। রেকর্ড সংখ্যক ডি-ম্যাট খোলা হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে নতুন বছরে শেয়ার বাজার নিয়ে আশাবাদী আশিস ও অপর বিশেষজ্ঞ কমল পারেখ। তাঁদের বক্তব্য, কেন্দ্র ও রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্কের পদক্ষেপ ফল দিতে শুরু করলে এবং নতুন করে ভূ-রাজনৈতিক সমস্যা তৈরি না হলে ২০২৬ সালেও ভাল মুনাফার মুখ দেখতে পারেন লগ্নিকারীরা। তার উপরে আমেরিকার শুল্কের মোকাবিলায় বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা সেরেছে ভারত। সেটাও তাঁদের আস্থা ফেরাতে সাহায্য করবে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Stock Market Economy

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy