E-Paper

বহাল আশঙ্কা, শুল্ক নিয়ে ট্রাম্পের খামখেয়ালিপনায় দোলাচলে শেয়ার বাজার

ট্রাম্প বলেছেন, ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তিতে এই রায়ের প্রভাব পড়বে না। মার্চে তা চূড়ান্ত হওয়ার কথা। সুপ্রিম কোর্টের রায়ের আগেই নয়াদিল্লি সমঝোতায় রাজি হওয়ায় এখন কিছুটা বিপাকে। বিশেষত তার অনেক শর্ত যেহেতু এ দেশের স্বার্থ বিরোধী বলে মনে করা হচ্ছে।

অমিতাভ গুহ সরকার

শেষ আপডেট: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:২৬

গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

শুক্রবারে এল সুখবর। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিভিন্ন দেশের উপর চাপানো শুল্ককে বেআইনি ঘোষণা করল আমেরিকার সুপ্রিম কোর্ট। এই রায়ে আজ শেয়ার বাজারের অতি উল্লসিত হওয়ার কথা। লাফিয়ে বাড়ার কথা দুই সূচক সেনসেক্স এবং নিফ্‌টির। কিন্তু আদপে তা কতটা হবে সংশয় রয়েছে। আসলে ব্যাপারটা এখনও পরিষ্কার নয়। কোর্টের রায়ের পরেই ট্রাম্প সব দেশের জন্য সাময়িক ১০% শুল্ক ঘোষণা করেন। পরে তা বাড়িয়ে করেন ১৫%। আগে ভারতকে গড়ে প্রায় ৩.৫% শুল্ক দিতে হত। অনেকে মনে করছেন এই হারের উপর ১৫% চাপবে। তা যদি হয়, খুশি হওয়ার কারণ নেই। না হলে, সাময়িক ১৫% মন্দের ভাল। কিছু দিন আগের যৌথ ঘোষণা অনুযায়ী ভারতীয় পণ্যের উপর ১৮% শুল্ক বসার কথা।

ট্রাম্প বলেছেন, ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তিতে এই রায়ের প্রভাব পড়বে না। মার্চে তা চূড়ান্ত হওয়ার কথা। সুপ্রিম কোর্টের রায়ের আগেই নয়াদিল্লি সমঝোতায় রাজি হওয়ায় এখন কিছুটা বিপাকে। বিশেষত তার অনেক শর্ত যেহেতু এ দেশের স্বার্থ বিরোধী বলে মনে করা হচ্ছে। পরিস্থিতি যা, তাতে শুল্ক বা বাণিজ্য, কোনওটা নিয়েই অনিশ্চয়তা মিটছে না এখন। বিশেষত যেহেতু চুক্তি নিয়ে আমেরিকায় আজ থেকে শুরু হতে চলা ভারতীয় প্রতিনিধি দলের তিন দিনের বৈঠকও আচমকাই সাময়িক ভাবে স্থগিত হয়ে গিয়েছে।

নানা কারণে বাজার অস্থির বহু দিন ধরে। ট্রাম্পের চড়া শুল্কের পাশাপাশি রয়েছে নানা প্রান্তে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা। কোথাও চলছে বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ, কোথাও পুরোদস্তুর যুদ্ধ। নতুন যুদ্ধের আশঙ্কাও রয়েছে। আমেরিকা ইরানকে চোখরাঙাচ্ছে। তাইওয়ানকে চিন। এমন অবস্থায় শেয়ার বাজারে স্থিতিশীলতা আশা করা যায় না। ফলে উত্থান-পতন বহাল। গত সপ্তাহে প্রথম তিন দিন ওঠার পরে বৃহস্পতিবার সেনসেক্স হারায় ১২৩৬ পয়েন্ট। সূচক কিছুতেই উত্থান ধরে রাখতে পারছে না। কিছুটা বাড়লেই বিক্রির চাপ আসছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইজনিত সমস্যা। কোনওটাই রাতারাতি মেটার নয়। লগ্নিকারীরাও ধন্দে। বুঝতে পারছেন না কোন পথে হাঁটবেন।

এই পরিস্থিতিতে লগ্নির ক্ষেত্রে কী করা যেতে পারে—

যাঁরা স্থির আয় চান এবং/অথবা উঁচু করের আওতায় পড়েন না, তাঁরা টাকা রাখতে পারেন এনএসসি-তে (সুদের হার ৭.৭%), ডাকঘরের পাঁচ বছর মেয়াদি টাইম ডিপোজ়িটে (৭.৫%) এবং ভারত সরকারের ফ্লোটিং রেট বন্ডে (৮.০৫)। রয়েছে ডাকঘরের মাসিক আয় প্রকল্পও। সেখানে যুগ্ম নামে ১৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত রেখে ৭.৪% সুদ মিলছে। প্রবীণ নাগরিকেরা ৩০ লক্ষ পর্যন্ত টাকা সিনিয়র সিটিজ়েন্স সেভিংস স্কিমে রেখে ৮.২% সুদ পেতে পারেন। স্বল্প সঞ্চয় প্রকল্পগুলির সুদ তিন মাস অন্তর পুনর্বিবেচিত হয়। ফলে এপ্রিল অথবা জুলাই থেকে কিছু প্রকল্পে সুদ কমতেও পারে।

যাঁরা বেশি হারে কর দেন এবং যাঁরা বেশি আয়ের জন্য ঝুঁকি নিতে পিছপা নন, তাঁরা ঝুঁকতে পারেন মিউচুয়াল ফান্ডে। বড় মেয়াদে ভাল আয়ের সম্ভবনা এবং কম করের সুবিধা থাকায় বিভিন্ন ফান্ড নিয়মিত লগ্নি টানছে সাধারণ মানুষের থেকে। প্রশ্ন হল, বর্তমান পরিস্থিতিতে কোন ধরনের ফান্ডে এবং কোন পদ্ধতিতে লগ্নি করা উচিত।

শেয়ার বাজার সব সময় ঝুঁকিপূর্ণ। কিন্তু বাজার যখন বেশি উঁচুতে এবং ঝুঁকি অতিরিক্ত, তখন একসঙ্গে মোটা টাকা লগ্নি করা ঠিক নয়। তখন এসআইপি করা যায়। এটি কিস্তিতে লগ্নি। লগ্নি করা যায় প্রতিটি বড় পতনে। এতে তুলনায় কম দামে ইউনিট কেনা যায় এবং বাজার উঠলে দ্রুত লাভ হয়। একুইটি বা শেয়ার ফান্ডে এখন ঝুঁকি বেশি। ব্যালান্সড এবং হাইব্রিড ফান্ডে কম। বহু মানুষ মাল্টি অ্যাসেট অ্যালোকেশন ফান্ডে মোটা টাকা ঢালছেন। এগুলির তহবিল শেয়ার ছাড়াও লগ্নি করা হয় বন্ড, সোনা, রুপো, বিদেশি শেয়ার ইত্যাদিতে। সোনা-রুপোর দাম অস্বাভাবিক ওঠায়, এই ধরনের ফান্ড মোটা রিটার্নদিয়েছে গত বছর।

সেভিংস অ্যাকাউন্টে বেশি টাকা রাখা বোকামি। সুদ ২.৫%-৩%। তুলনায় দ্বিগুনেরও বেশি আয় হতে পারে লিকুইড ফান্ড অথবা শর্ট টার্ম ফান্ডে। ছোট ব্যাঙ্কে বেশি সুদে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত এফডি করা যায়। লগ্নি করা যায় উঁচু ইল্ড এবং রেটিংয়ের সরকারি-বেসরকারি বন্ডেও। ৭%-৯% প্রকৃত আয় হতে পারে।

(মতামত ব্যক্তিগত)

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Share Market Donald Trump US Tariff

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy