• প্রেমাংশু চৌধুরী
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

পিছোতেই হচ্ছে ৩ শতাংশের লক্ষ্য

Target of 3% revenue deficit will be postponed

Advertisement

শুধু এ বছর নয়। আগামী অর্থবর্ষেও হয়তো রাজকোষ ঘাটতিতে শিকল পড়িয়ে রাখা সম্ভব হবে না। অর্থ মন্ত্রক সূত্রের খবর, আসন্ন বাজেটে নতুন করে রাজকোষের ঘাটতি ধাপে ধাপে কমিয়ে আনার রূপরেখা পেশ করা হবে।

অর্থনীতির ঝিমুনি আর তার জেরে কর খাতে সরকারের আয় কমে যাওয়ায় চলতি অর্থবর্ষে ঘাটতির ৩.৩ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রা ছোঁয়া অসম্ভব। এতদিন ঠিক ছিল, আগামী অর্থবর্ষে (২০২০-২১ সাল) তা নামিয়ে আনা হবে ৩ শতাংশে। কিন্তু পরের বারও বৃদ্ধির হার খুব বেশি বাড়বে, এমন সম্ভাবনা কম। বরং অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে কেন্দ্রকে দরাজ হাতে খরচ করতে হবে। সূত্রের দাবি, সেই কারণেই রাজকোষ ঘাটতিকে ৩ শতাংশে কমিয়ে আনার পরিকল্পনা অন্তত ২০২২-২৩ পর্যন্ত পিছিয়ে দিতে হবে। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন ১ ফেব্রুয়ারির বাজেটে এ সংক্রান্ত রূপরেখা স্পষ্ট করবেন।

বারবার...


• আর্থিক শৃঙ্খলা আইনে (এফআরবিএম) রাজকোষ ঘাটতিকে ৩ শতাংশে বাঁধার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছিল ২০০৮ সালে।
• ২০০৮-এ বিশ্বজোড়া আর্থিক মন্দার কারণে সেই লক্ষ্য পিছিয়ে ২০১৩ 
সাল করা হয়।
• পরে ফের সেই লক্ষ্য কয়েক দফা পিছিয়ে গিয়ে হয় ২০১৬-১৭ সাল।
• সেটাও পূরণ হয়নি। তার পরে এক বার ঠিক হয়েছিল ঘাটতিকে ৩ শতাংশে নামানো হবে ২০১৭-১৮ সালে, পরে সেটা পিছিয়ে হয় 
২০১৮-১৯।
• শেষ বার সরকার বলেছে ওই লক্ষ্য পূরণ করা হবে আগামী অর্থবর্ষে, অর্থাৎ ২০২০-২১ সালে।
• সরকারি সূত্রের দাবি, এই লক্ষ্যও পূরণ হবে না। কোষাগারের যা অবস্থা, তাতে এ বার আরও পিছিয়ে যেতে চলেছে রাজকোষ ঘাটতিকে ৩ শতাংশে বাঁধার সময়।

নোবেলজয়ী অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে শুরু করে অধিকাংশ অর্থনীতিবিদই মনে করছেন, রাজকোষ ঘাটতির রাশ কিঞ্চিৎ আলগা করলেও সমস্যা নেই। বদলে এই মুহূর্তে আমজনতার হাতে টাকা তুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করা বেশি দরকার বলে মত প্রাক্তন মুখ্য আর্থিক উপদেষ্টা অরবিন্দ সুব্রহ্মণ্যনের। সেই সঙ্গে তাঁদের যুক্তি, সব থেকে জরুরি বাজেটে ঘাটতির আসল ছবিটা তুলে ধরা। মোদী জমানায় যা হচ্ছে না বলে আঙুল উঠছে বেশ কয়েক বছর ধরে। অভিযোগ, কেন্দ্র বেশ কিছু খরচ বাজেটের বাইরে অন্য খাতায় দেখাচ্ছে। সরকারের ধারের বড় অংশও বাজেটের বাইরে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার খাতায় দেখানো হয়েছে। এতে খাতায়-কলমে রাজকোষ ঘাটতিতে লাগাম থাকছে। কিন্তু সরকার বাজার থেকে কতটা ঋণ নেবে, তা নিয়ে অস্পষ্টতা থাকছে। কারণ ওই ধার করেই ঘাটতি সামাল দেয় তারা।

গত জুলাইয়ের বাজেটে অভিযোগ উঠেছিল, জিডিপি-র পরিমাণের নতুন হিসেব হাতে থাকলেও অর্থমন্ত্রী পুরনো হিসেব ধরেছেন। যার অঙ্ক বেশি। ফলে সেই তুলনায় ঘাটতিও কম দেখানো গিয়েছে। অর্থ মন্ত্রকের এক কর্তা বলেন, ‘‘গত বছর যেমন কোল ইন্ডিয়া ও এনটিপিসি থেকে এ বছরের রেল মাশুল বাবদ আগাম টাকা নেওয়া হয়েছিল। বেশ কিছু খরচ এ বছরের খাতায় ঠেলে দেওয়া হয়েছিল। ফলে এ বছর তা নিয়ে দুশ্চিন্তা বেড়েছে। এখন ঘাটতি সামাল দিতে এই অর্থবর্ষের শেষ তিন মাসে (জানুয়ারি-মার্চ) খরচের ঊর্ধ্বসীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু যে সব সরকারি প্রকল্প কেন্দ্র-রাজ্য যৌথ উদ্যোগে চলে, সেখানে খরচ ছাঁটাইয়ের উপায় নেই। যার অর্থ, এ বছরের খরচ এ বার আগামী বছরের খাতায় ঠেলতে হবে।’’

সরকারি খরচ, ঋণ বাজেটের বাইরে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার খাতায় চালান করার অভিযোগ নিয়ে অর্থ মন্ত্রক কর্তাদের দাবি, এ বার তা স্পষ্ট করে জানানো হবে। কিন্তু প্রশ্ন হল, বাজেটের বাইরে খরচ, ঋণ দেখিয়ে কৃত্রিম ভাবে রাজকোষ ঘাটতি কম করে দেখানোয় লাভ কী? অর্থ মন্ত্রকের কর্তা বলছেন, ‘‘এটুকু জল না-মেশালে ২০২২-২৩ সালেও ঘাটতি ৩ শতাংশে কমিয়ে আনা যাবে না।’’

আর্থিক শৃঙ্খলা আইনে (এফআরবিএম) ঘাটতি ৩ শতাংশে কমিয়ে আনার লক্ষ্য ছিল ২০০৮। ওই বছরেই আর্থিক সঙ্কট দেখা দেওয়ায় লক্ষ্য পিছিয়ে ২০১৩ হয়। তার পরে তা কয়েক দফায় পিছিয়ে ২০১৬-১৭, তারপর ফের পিছিয়ে ২০১৭-১৮, ২০১৮-১৯ করা হয়। শেষে তা পিছিয়ে ২০২০-২১ করা হয়। এ বার তা আরও পিছিয়ে যেতে চলেছে।

সবাই যা পড়ছেন

Advertisement

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন