বেতন ও মজুরি বৃদ্ধি, মহার্ঘভাতা বাড়ানো ইত্যাদি নিয়ে দ্রুত চুক্তির দাবিতে রাজ্য জুড়ে ধর্মঘটের হুঁশিয়ারি দিয়েছে চটকল ইউনিয়নগুলি। যা এড়াতে বারবার কর্মী, চটকল মালিক ও রাজ্যের মধ্যে বৈঠক চললেও রফা মেলেনি এখনও। এই পরিস্থিতিতে বস্ত্র মন্ত্রকের তরফে ইউনিয়নগুলিকে চিঠি পাঠিয়েছে রাজ্যের জুট কমিশনারের দফতর। তাতে বলেছে, কেন্দ্রের দেওয়া বরাত মেনে বস্তা তৈরি করতে কর্মীরা যা যা আর্থিক সুবিধা পান, তা চটকলগুলির পাঠানো বিল মাফিক মেটায় তারা। কৃষকদের পাটের দাম সমেত। যা দেখে সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, আসলে রবি মরসুমের খাদ্যশস্য ভরার জন্য বস্তার উৎপাদন যখন জোরকদমে চলার কথা, তখন চটকলগুলিতে ধর্মঘটের পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় চিন্তায় পড়েছে বস্ত্র ও খাদ্য মন্ত্রক। তাই তড়িঘড়ি এই চিঠি। উদ্দেশ্য, তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত নিয়ে চটকলের কাজকর্ম যাতে আটকে না দেওয়া হয়, সেই বার্তা দেওয়া।

আজ, মঙ্গলবার রাজ্যের সঙ্গে ত্রিপাক্ষিক বৈঠকে এই চিঠির প্রসঙ্গ তোলা হবে বলে জানিয়েছে ইউনিয়নগুলি।

বস্ত্র মন্ত্রকের কর্তাদের একাংশের দাবি, চটকলগুলি বস্তা তৈরি করতে যা উৎপাদন খরচ পড়বে বলে জানায়, তা মেটানো হয়। কিন্তু কর্মীদের বেতন, বোনাস, মহার্ঘভাতা ইত্যাদি কতটা হওয়া উচিত সে বিষয়ে তারা সিদ্ধান্ত নেয় না। চটকল মালিক, রাজ্য এবং ইউনিয়নগুলি আলোচনার মাধ্যমে সে ব্যাপারে চুক্তি করে। বস্তা উৎপাদনের খরচ বিল করে পাঠালে তা খতিয়ে দেখে মেটায় মন্ত্রক।

সিটু সমর্থিত বেঙ্গল চটকল মজদুর ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক অনাদি সাহু জানান, চটকলগুলির মোট বস্তা উৎপাদনের ৮০ শতাংশই যখন কেন্দ্র কেনে, তা হলে চটকল মালিকরা ইউনিয়নের দাবি মেনে কর্মীদের ন্যূনতম মজুরি বাড়াবেন না কেন! আইএনটিইউসি সমর্থিত চটকল শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক গনেশ সরকারও একই দাবি করেছেন।