দেশের ছ’টি গুরুত্বপূর্ণ শিল্প করিডরে ১২টি নতুন শিল্পনগরী গড়ে তোলার প্রস্তাবে সম্মতি দিল কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। বুধবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে মন্ত্রিসভার আর্থিক বিষয়ক কমিটির বৈঠকের শেষে কেন্দ্রীয় তথ্য-সম্প্রচার মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানান, ১০টি রাজ্যে স্মার্ট সিটির ধাঁচে শিল্পনগরীগুলি গড়ে তোলা হবে। ব্যবসায়িক সংস্থাগুলি যাতে জমি বা জায়গা নিয়েই কাজ শুরু করে দিতে পারে, সেই লক্ষ্যে তৈরি করা হবে পরিকাঠামো এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থা। প্রাথমিক ভাবে এই প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ২৮,৬০২ কোটি টাকা। সরকারের আরও বক্তব্য, এই সমস্ত শিল্পনগরীতে ১.৫২ লক্ষ কোটি টাকা বিনিয়োগের সম্ভাবনা তৈরি হবে। প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থান হতে পারে ১০ লক্ষ। পরোক্ষ ৩০ লক্ষ।
তবে যে সমস্ত রাজ্যে নতুন শিল্পনগরী ছাড়পত্র পেয়েছে, তার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ নেই। কী ভাবে সেগুলি তৈরির জায়গা বাছাই করা হয়েছে? বৈষ্ণব বলেন, শিল্প করিডরের কোথায় কোথায় শিল্পনগরী হবে তা খতিয়ে দেখতে প্রধানমন্ত্রী-গতিশক্তি প্রকল্পের অধীনে কোথায়, কী ধরনের শিল্পনগরী গড়ে তোলা সম্ভব, কোথায় কী কী পরিকাঠামো, কাঁচামাল, যোগাযোগ ব্যবস্থার সুবিধা রয়েছে, তা দেখা হয়েছে। তার পরে বেছে নেওয়া হয়েছে শিল্পনগরী। রাজ্যগুলির সঙ্গেও কথা হয়েছে। কারণ জমি অধিগ্রহণ করতে হবে তাদেরই।
উত্তরাখণ্ডের খুরপিয়া, পঞ্জাবের রাজপুরা-পাটিয়ালা, মহারাষ্ট্রের দিঘি, কেরলের পালাক্কাড, উত্তরপ্রদেশের আগরা ও প্রয়াগরাজ, বিহারের গয়া, তেলঙ্গানার জাহিরাবাদ, অন্ধ্রপ্রদেশের ওরভাকাল ও কোপ্পারতি এবং রাজস্থানের যোধপুর-পালিতে শিল্প শহরগুলি গড়ে তোলা হবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এক্স-এ লিখেছেন, ‘‘জাতীয় শিল্প করিডর উন্নয়ন প্রকল্পের অধীনে ১২টি শিল্পনগরী গড়ে তোলার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রিসভা। পরিকাঠামো উন্নয়ন ছাড়াও এই প্রকল্প আর্থিক বৃদ্ধিতে গতি আনবে এবং বহু মানুষের কর্মসংস্থান হবে।’’
কেন্দ্রে মোদী সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই উৎপাদন ক্ষেত্রকে চাঙ্গা করার দিকে জোর দিচ্ছে। তার জন্য নিয়ে এসেছে উৎপাদন ভিত্তিক আর্থিক সুবিধা প্রকল্প (পিএলআই)। যাতে চিন, ভিয়েতনামের মতো দেশে লগ্নি করা পশ্চিমি সংস্থাগুলিকে এ দেশে টেনে আনা যায়। হাল ফেরানো যায় কর্মসংস্থানের। তা ছাড়া কেন্দ্রের বক্তব্য, বিশেষত বৈদ্যুতিন ক্ষেত্রে উৎপাদন বাড়ানো গেলে ওই সমস্ত পণ্যের আমদানি কমানো যাবে। ভারতকেও গড়ে তোলা যাবে রফতানি তালুক হিসেবে। সেই একই লক্ষ্যে জাতীয় শিল্প করিডর উন্নয়ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে শিল্পনগরীগুলি তৈরি হবে। কেন্দ্রের আশা, শিল্পোৎপাদনের গতি তো বটেই, এই প্রকল্প দেশের আর্থিক কর্মকাণ্ডের গতিও বাড়াবে।
জল বিদ্যুতে সহযোগিতা: উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলিতে ১৫,০০০ মেগাওয়াট জল বিদ্যুৎ প্রকল্পে সায় দিল কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। বরাদ্দ ৪১৩৬ কোটি টাকা। সংশ্লিষ্ট রাজ্যের সঙ্গে যৌথ ভাবে প্রকল্পগুলি তৈরি হবে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)