E-Paper

মোদী সরকারের বিভিন্ন নীতির বিরোধিতায় বৃহস্পতিবার দেশ জুড়ে ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত বহাল

যে সব দাবি-দাওয়া আদায়ের লক্ষ্যে ধর্মঘট ডাকা হচ্ছে তার মধ্যে রয়েছে— চারটি শ্রম বিধি এবং সেই সংক্রান্ত সমস্ত নিয়ম প্রত্যাহার।

নিজস্ব প্রতিবেদন

শেষ আপডেট: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:৫৪
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

মোদী সরকারের যাবতীয় নীতি কর্মী বিরোধী, কৃষক বিরোধী, দেশ বিরোধী এবং কর্পোরেটমুখী বলে অভিযোগ তুলে গত জানুয়ারিতেই ১২ ফেব্রুয়ারি ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিল ১০টি ট্রেড ইউনিয়নের যৌথ মঞ্চ। সোমবার তারা জানিয়ে দিল, দেশ জুড়ে ওই দিন, অর্থাৎ আগামী বৃহস্পতিবার ধর্মঘটের ডাক বহাল থাকছে। আশা করা হচ্ছে, এ বার ৩০ কোটিরও বেশি মানুষ অংশ নেবেন তাতে। প্রতিটি রাজ্যে এই নিয়ে প্রচার চলছে জোরকদমে। কৃষকদের সংগঠন ছাড়াও বহু জায়গায় সেই সব প্রচারে যোগ দিচ্ছে পড়ুয়া এবং যুব সংগঠনগুলিও।

যে সব দাবি-দাওয়া আদায়ের লক্ষ্যে ধর্মঘট ডাকা হচ্ছে তার মধ্যে রয়েছে— চারটি শ্রম বিধি এবং সেই সংক্রান্ত সমস্ত নিয়ম প্রত্যাহার। পাশাপাশি খসড়া বীজ বিল, বিদ্যুৎ আইন সংশোধন বিল এবং পরমাণু শক্তি সংক্রান্ত ‘শান্তি আইন’ তুলে নেওয়া। বিকশিত ভারতে— রোজগারের গ্যারান্টি এবং আজীবিকা মিশন বাতিল করে ১০০ দিনের কাজের দাবিও জানিয়েছে সংগঠনগুলি।

এ দিন সিটুর সাধারণ সম্পাদক তপন সেন বলেন, ‘‘আমেরিকার সঙ্গে এই যে বাণিজ্য চুক্তি হচ্ছে, তাতে কার্যত মোদী সরকার ট্রাম্পের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, পরোক্ষ ভাবে আমেরিকা ভারতের কৃষিপণ্যের বাজারে ঢুকতে পারবে। বহু শিল্পের ক্ষেত্রে আমাদের অন্য দেশের সঙ্গে লেনদেনে স্বার্থ রক্ষা হলেও, সেই পথে ভারত হাঁটতে পারবে না। যে বিদ্যুৎ আইন সংশোধন বিল এনেছে কেন্দ্র, তাতে আসলে ভর্তুকি বন্ধ করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। বিদ্যুৎ বণ্টনকে বেসরকারি হাতে তুলে দেওয়াও উদ্দেশ্য। দেশ জুড়ে স্মার্ট মিটার বসানোর লক্ষ্য সেটাই।’’ তিনি জানান, কেন্দ্রের আর্থিক নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানোই এই ধর্মঘটের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য।

এআইইউটিইউসি-র সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি দিলীপ ভট্টাচার্য এবং ইউটিইউসি-র সাধারণ সম্পাদক অশোক ঘোষ জানান, মোদী সরকারের শ্রম বিধি সব থেকে বড় কর্মী বিরোধী পদক্ষেপ। তাঁদের দাবি, শ্রমিকরা দীর্ঘ দিন ধরে আন্দোলনের মাধ্যমে যে সব অধিকার অর্জন করেছিল, এই চার বিধির মাধ্যমে সেগুলি ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। যেমন— সংস্থা বন্ধ করতে বা ছাঁটাই করতে হলে কর্মী সংখ্যা ৩০০-র বেশি হলে তবেই সরকারের অনুমতি লাগবে। আগে ছিল ১০০। ভারতের সিংহভাগ সংস্থায় কর্মী ৩০০ জনের কম। খুব ভেবেচিন্তে অবাধ ছাঁটাইয়ের পথ খুলে দেওয়া হচ্ছে সংস্থাকে। শ্রম বিধি চালু হলে কর্মী-শ্রমিকদের ধর্মঘট করার অধিকারও প্রায় শেষ হয়ে যাবে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Trade Unions

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy