মোবাইলে ফোন এলে কত সেকেন্ড বাজবে (রিং টাইম), তা নিয়ে বিতর্কে জড়িয়েছে বিভিন্ন টেলি সংস্থা। এই পরিস্থিতিতে শুক্রবার ফোন একটানা বাজার সময়সীমা বাঁধল নিয়ন্ত্রক ট্রাই। জানাল, মোবাইলের ক্ষেত্রে রিং টাইম ৩০ সেকেন্ড ও ল্যান্ডলাইনে তা ৬০ সেকেন্ড হতে হবে। অর্থাৎ মোবাইলে ফোন এলে গ্রাহক তা ধরার জন্য ৩০ সেকেন্ড সময় পাবেন। সাধারণ ফোনের ক্ষেত্রে পাবেন একটু বেশি। তবে এতেও গ্রাহকের তাড়াহুড়ো করে ফোন ধরার ঝক্কি কতটা কমবে সেই প্রশ্ন থাকছেই। সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, এই নির্দেশের ফলে আপাতত দাঁড়ি পড়ল রিং টাইম-বিতণ্ডায়। যার জেরে আখেরে ভুগছেন সাধারণ গ্রাহকেরা।

আগে ফোন বাজার বাধ্যতামূলক সময়সীমা ছিল না দেশে। তবে ফোন এলে তা না-ধরা বা না-কাটা পর্যন্ত, সব সংস্থার ক্ষেত্রেই একটানা সাধারণত ৪৫ সেকেন্ড বাজানোর রেওয়াজ ছিল। শুক্রবার ট্রাই বলেছে, সরকারি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের ১৫ দিন পর থেকে নতুন নির্দেশ কার্যকর হবে। এ নিয়ে অবশ্য টেলি সংস্থাগুলির প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

সম্প্রতি রিং টাইম কমিয়েছে বিএসএনএল বাদে সব সংস্থা। সূত্রের খবর, দু’টি সংযোগ সংস্থার মোবাইলে কল চালাচালির সময় ইন্টারকানেক্ট ইউসেজ় চার্জ (আইইউসি) নামের মাসুল দেওয়া-নেওয়ার যে চুক্তি থাকে, সম্প্রতি তা নিয়ে লড়াই শুরু হয়েছে সংস্থাগুলির মধ্যে। রিং টাইম নিয়ে দর কষাকষি মূলত তারই জের।

সম্প্রতি এয়ারটেল দাবি করেছিল, রিলায়্যান্স-জিয়োর গ্রাহক অন্য সংস্থার গ্রাহককে ফোন করলে তা ২৫ সেকেন্ড বেজেই থেমে যাচ্ছে। ফলে অনেক সময়ই অন্য পক্ষ তা ধরতে পারছেন না। ‘মিসড কল’ পেয়ে বহু ক্ষেত্রে অন্য সংস্থার গ্রাহক জিয়ো গ্রাহককে পাল্টা ফোন করতে বাধ্য হচ্ছেন। ফলে জিয়ো সেই সংস্থাকে আইইউসি দেওয়ার বদলে, উল্টে তাদের থেকে তা আদায় করছে। এই অভিযোগ তুলে ট্রাইকে এয়ারটেল জানায়, তারাও রিং টাইম কমিয়ে ২৫ সেকেন্ড করছে। এর পরে ভোডাফোন-আইডিয়াও কিছু সার্কলে তা করে। আইইউসি নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ ওড়ালেও, রিং টাইম কমানোর কথা জিয়ো অস্বীকার করেনি। দাবি করে, সারা বিশ্বে ফোন ধরতে গড়ে ১৫-২০ সেকেন্ড সময় দেওয়াই দস্তুর। আইইউসি তোলার পক্ষে জোরালো সওয়ালও করে তারা।

তবে সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, ট্রাই রিং টাইম বেঁধে দিলেও, তা আগের থেকে কমছেই। ফলে ফোন ধরতে হিমশিম খেলে বা ধরতে না পারলে বিরক্তি ও ফিরতি ফোনের ঝক্কি থেকে পুরোপুরি মুক্তি হয়তো মিলবে না গ্রাহকের।