E-Paper

পরীক্ষায় বসতে ছাত্রকে পুলিশি নিরাপত্তা দেওয়ার নির্দেশ

কেন তাঁকে নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে? শিলিগুড়ির বাসিন্দা ওই পরিবারের অভিযোগ, তাঁদের ছেলেকে নানা ভাবে হেনস্থা করা হচ্ছে গত দুই বছর ধরে।

সৌমিত্র কুন্ডু

শেষ আপডেট: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০১:৪০
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

ইংরেজি মাধ্যমে সিবিএসই বোর্ডের অধীনে এক ছাত্রকে ‘ইমপ্রুভমেন্ট’ (কোনও বিষয়ে কম নম্বর পেলে আবার পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ) পরীক্ষায় বসতে নিরাপত্তা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। ২৮ ফেব্রুয়ারি এবং ২৭ মার্চ দু’দিন দু’টি বিষয়ে শিলিগুড়ির পরীক্ষাকেন্দ্রে যেতে পুলিশি নিরাপত্তা দেওয়ার কথা বলে হয়েছে। সেই মতো পরিবারের তরফে পুলিশকেও জানানো হয়েছে। জলপাইগুড়িতে হাই কোর্টের সার্কিট বেঞ্চে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত সম্প্রতি ওই নির্দেশ দিয়েছে।

কেন তাঁকে নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে? শিলিগুড়ির বাসিন্দা ওই পরিবারের অভিযোগ, তাঁদের ছেলেকে নানা ভাবে হেনস্থা করা হচ্ছে গত দুই বছর ধরে। দুই বছর আগে রাজস্থানের কোটায় পড়তে গেলে সে সময় থেকে তাকে নানা ভাবে নাজেহাল করছে কেউ বা কারা। ছেলের আধার কার্ড, মোবাইল নম্বর ‘হ্যাক’ করা হয়েছে। পড়াশোনায় ভাল ছাত্র বলে দাবি পরিবারের। অথচ সিবিএসই বোর্ডের দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষা বসলেও রসায়নে তাঁর নম্বর চক্রান্ত করে কমিয়ে চার নম্বর করে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ। তাতে মেডিক্যালের সর্বভারতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষায় তিনি বসতে পারবেন না। জীবন বিজ্ঞানেও নম্বর আশানুরূপ হয়নি। চক্রান্তকারীদের সঙ্গে বোর্ডের যোগসাজশ রয়েছে বলে অভিযোগ। তা নিয়ে পুলিশে একাধিক অভিযোগ দায়ের হয়েছে। এ বার রসায়ন এবং জীবন বিজ্ঞানে ‘ইমপ্রুভমেন্ট’ পরীক্ষা দেবেন তিনি।

শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশার সি সুধাকর বলেন, ‘‘অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত চলছে। পরীক্ষা দিতে পুলিশি নিরাপত্তা দেওয়া হবে।’’ সার্কিট বেঞ্চের আইনজীবী কুমার শান্তনু বলেন, ‘‘ছাত্রটির পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে আদালত নিরাপত্তা দিতে বলেছে। এবং তার পরীক্ষার খাতা দেখানোর জন্যও বলা হয়েছে।’’

ছাত্রের বাবা শরৎ মিত্রের অভিযোগ, কোটায় থাকার সময় ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বোর্ডের পরীক্ষার আগে তাঁর ছেলে কোটার হস্টেল থেকে নিখোঁজ হয়ে যান। পরে ছেলে নিজেই শিলিগুড়ির বাড়িতে ফেরে। ছেলের এবং বাবা-মায়ের ফোন ‘হ্যাক’ করা হয় বলে অভিযোগ। পরের বছর বোর্ডের পরীক্ষা দিলেও ডাক্তারির প্রবেশিকা পরীক্ষা দিতে পারেননি। কারণ তাঁর অ্যাডমিট কার্ডে কেন্দ্র, যে ভাষায় পরীক্ষা দেবেন, সে সব বদলে দেওয়া হয়। এমনকী তাঁর ছেলের ঘরে রাসায়নিক ফেলে কেউ বা কারা ক্ষতির চেষ্টা করে বলেও অভিযোগ। এরপর পুলিশ-প্রশাসনের নানা জায়গায় অভিযোগ জানানো হয়েছে।

সিবিএসই বোর্ডের আঞ্চলিক আধিকারিক ললিতকুমার কপিল বলেন, ‘‘অভিযোগ থাকলে তাঁরা জানাতেই পারেন। পরীক্ষার্থীর খাতা দেখার সুযোগও তাঁরা পাবেন।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Siliguri police protection

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy