শিল্পায়নের মাপকাঠিতে এমনিতেই পিছিয়ে পশ্চিমবঙ্গ। এ বার গোটা দেশের সঙ্গে একই রকম শ্রম বিধি চালু না হলে রাজ্যে আরও ধাক্কা খাবে লগ্নি— শিল্প, বিশেষত কর্মী নিয়োগে যুক্ত সংস্থার শীর্ষ কর্তাদের এমনই আশঙ্কা। কর্পোরেট সংস্থায় কর্মী সরবরাহকারীদের সর্বভারতীয় সংগঠন ‘ইন্ডিয়ান স্টাফিং ফেডারেশন’ মনে করছে, সারা দেশের থেকে পশ্চিমবঙ্গে আলাদা শ্রম আইন চালু থাকলে বহুজাতিক তো বটেই, একাধিক রাজ্যে কারখানা বা ব্যবসা চালাতে সমস্যায় পড়বে দেশীয় সংস্থাগুলিও। তাতে রাজ্যে বিনিয়োগে বাধা তৈরি হবে।
মোদী সরকার গত নভেম্বরে চারটি শ্রম বিধি চালু করেছে দেশে— মজুরি বা বেতন, শিল্প ক্ষেত্রে সম্পর্ক, কাজে নিরাপত্তা ও সামাজিক সুরক্ষা। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের সিদ্ধান্ত, পশ্চিমবঙ্গে একটি বিধিও চালু হতে দেবে না। তাই নিয়মও তৈরি করেনি। কিছু বিরোধী শাসিত রাজ্যের দু’টি বা একটিতে আপত্তি রয়েছে। চারটিতেই আপত্তি শুধু পশ্চিবঙ্গের।
ইন্ডিয়ান স্টাফিং ফেডারেশনের এগ্জ়িকিউটিভ ডিরেক্টর সুচিতা দত্ত আনন্দবাজার পত্রিকার সঙ্গে সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘‘শ্রম বিধির লক্ষ্য ২৯টি কেন্দ্রীয় আইনকে চারটি কাঠামোর মধ্যে আনা। কিন্তু শ্রম সংবিধানের যুগ্ম তালিকায় থাকায় চারটি বিধি কার্যকর করতে রাজ্যকে নিজের নিয়ম নিয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করতে হবে। এখনও পশ্চিমবঙ্গ তা করেনি। ফলে রাজ্যে শ্রম বিধির কার্যকারিতা নিয়ে বাধা তৈরি হবে। বিভিন্ন রাজ্যে বিভিন্ন রকম শ্রম আইন হলে, একাধিক রাজ্যে ব্যবসা করা সংস্থাগুলি বিভ্রান্তির মুখে পড়বে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নিয়োগ বা সামাজিক সুরক্ষা সংক্রান্ত নিয়ম অন্য রাজ্যের থেকে পশ্চিমবঙ্গে আলাদা হবে। ফলে লগ্নিতে বাধা তৈরি হতে পারে।’’ সুচিতার যুক্তি, বহুজাতিক সংস্থাগুলি গত বছরই এই রকম অসম আইনের ফলে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে। তাই কেন্দ্র দেশে এক রকম শ্রম আইন চাইছে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের মতো রাজ্যে দেরি হলে সংস্কারের লক্ষ্য পূরণ হবে না। শ্রম বাজারে দক্ষতাও আসবে না।
কেন্দ্র ২১ নভেম্বর চারটি শ্রম বিধি চালুর ঘোষণা করার পরে ৩১ ডিসেম্বর খসড়া নিয়ম প্রকাশ করেছে। মতামত চেয়েছে ৩০ জানুয়ারির মধ্যে। সুচিতা বলেন, ‘‘এই সময়ে মত জানানোর পাশাপাশি রাজ্যের বিজ্ঞপ্তি জারির সুযোগ আছে। ২০২৬-এর মাঝামাঝির মধ্যে ৮০% রাজ্য এক অবস্থানে চলে আসতে পারে। ফলে দেশে কার্যকর হতে পারে শ্রম বিধি। সংস্থাগুলি প্রস্তুতি শুরু করেছে। এমন সংস্কারের পুরো ফায়দা পেতে ৬-১২ মাস লাগে। শ্রম বিধি কার্যকর হলে ব্যবসার পরিবেশ সহজ হবে, জিডিপি ১-২ শতাংশ বাড়বে। সংগঠিত ক্ষেত্রের কর্মীরা উপকৃত হবেন।’’
শিল্পমহল লগ্নি নিয়ে আশঙ্কা করলেও রাজ্যের শ্রমমন্ত্রী মলয় ঘটক আগেই বলেছেন, তাঁরা ‘শ্রমিক স্বার্থ বিরোধী’ বিধি মানবেন না। তাই নিয়ম তৈরি করেননি। তৃণমূল সূত্রের যুক্তি, কেন্দ্র গায়ের জোরে শ্রম বিধি কার্যকর করতে চাইছে। সমস্ত রাজ্য একমত হয়ে নিয়ম তৈরি না করলে দেশে ওই বিধি পূর্ণাঙ্গ ভাবে কার্যকর হবে না।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)